প্রধান সংবাদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আইসিটি অলিম্পিয়াডে দেশসেরা আবরার মাহমুদ

আবরার মাহমুদ হাসান

রাইজিং কক্স ডেস্ক : অদম্য মেধাবী কিশোর আবরার মাহমুদ হাসান সম্প্রতি জয় করেছে ওয়ালটন আইসিটি অলিম্পিয়াড। সারাদেশের ৬৫ হাজার প্রতিযোগিকে পিছনে ফেলে স্কুল পর্যায়ে প্রথম হয়েছে আবরার। ১০ মিনিট স্কুলের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার। বুধবার রাতে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ওয়ালটনের পক্ষ থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারী প্রত্যেককে প্রদান করা হয় একটি ল্যাপটপ। প্রতিযোগিতায় বড় পয়েন্টের ব্যবধানে আবরার প্রথম স্থান অর্জন করে।

এর আগে বিজ্ঞান জয়োৎসবে ঢাকা বিভাগে প্রথম ও কেমিক্যাল মেট্রোলজি অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয় সে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে আবরার।

জীব বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হয়। এছাড়া ম্যাথ অলিম্পিয়াডেও ঢাকা বিভাগ আঞ্চলিক পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ান ও রানার হয় আবরার। পাশাপাশি সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ঢাকা বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ম্যাথ, আইসিটিসহ ৪টি বিষয়ে শতভাগ নাম্বারসহ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। আবরার হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও মাহমুদা খাতুন যুথির বড় ছেলে।

বড় হয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানী হতে চায় আবরার। লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রোগ্রামিং, ক্রিকেট খেলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও গাছ লাগানো তার শখ। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায় সে। আবরার জানায়, আমি যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি তার পিছনের মূল অবদান আমার বাবা ও মায়ের। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা আমাকে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি সার্বিক জ্ঞানার্জনের জন্য গল্প, উপন্যাসসহ বিভিন্ন বই এনে দিতেন। বাবা নিজেও আমাকে সরাসরি বিভিন্ন বই পড়াতেন। এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও অবদান ছিল। আর যত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেছি সবটিতে অংশগ্রহণের প্রেরণা জুগিয়েছেন আমার মা। কখন, কোথায়, কোন অলিম্পিয়াড হচ্ছে খবর রাখতেন মা। মায়ের উৎসাহ ও প্রেরণায়ই আমি এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সফলতা পেয়েছি। এছাড়া সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন আমার প্রাইভেট শিক্ষক রকিবুল ইসলাম ও স্কুলের ম্যাথ শিক্ষক তন্ময় সেন। তবে আমি মনে করি, আমাকে আরো অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
ছেলের ধারাবাহিক সাফল্যে খুশি বাবা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। তিনি বলেন, এ বয়সে আবরার যে সাফল্য অর্জন করেছে তাতে আমরা অনেক খুশি। ছোটবেলা থেকেই আবরারের আইসিটির উপর বিশেষ ঝুক ছিল। এছাড়া আমাদের পরিবারের সকলের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থাকায় তারও এ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তার মা উচ্চ শিক্ষিত হওয়ায় সাফল্যের জন্য বাচ্চাদের পিছনে সবসময় লেগে থাকে। সবমিলিয়ে সে ভাল গাইড পেয়েছে। তাই এতটুকু অর্জন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, আমার ছোট ছেলে আহনাফ মাহমুদ হাসান বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে ক্লাস এইটে পড়ে। সেও সেন্ড জুসেফ স্কুল আয়োজিত জুসেফিয়ান ম্যাথ মিনিয়া আইকিউ টেস্টে প্রথম হয়েছে। আমার ছেলেরা যাতে সাফল্যের মূল টার্গেটে পৌছাতে পারে সেজন্য সকলের দোয়া কামনা করি।

Comment here