কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

আক্রোশ

নেহাল মাহমুদ
 
দিক থেকে দিগন্ত, নগর থেকে বন্দর
সমস্ত অলিগলি, সার্বভৌম পরিবার
স্তব্ধতার ব্রতপালনে নিক্ষিপ্ত হয়েছে
একের পর এক ধর্ষিতা বোনের করুণ চিৎকারে।
সমস্ত জীবনের প্রান্তর ধূসরিত তাদের পীড়িত শরীর, মলিন মুখাবয়বের ঘৃণায়।

 
এ কোন সময়ে পাড়ি দিচ্ছে স্বদেশ!
এ কেমন সভ্যতা আধুনিক সমাজের!
বিরাট প্রাসাদ, প্রযুক্তির পর্বতমালা,
গর্বিত গণতন্ত্র, আইনের অনুশাষণ
এ সবের কি এই এই পতিদান?
যেখানে ঘাতক হায়েনার মতো 
ক্ষুধার্ত পশুর থাবার মতো
গণধর্ষণের শিকার রত্নগর্ভা মা-বোনেরা।
শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্র, পরিবহন
এমনকি নিজের গৃহেও নিরাপদ নয় 
কোন মা, কোন বোন, কোন জীবন!
 
আজ দিবস হয়েছে কঠিন ও কর্কশ
সমস্ত প্রজ্ঞার ভিতরে ঢুকে পড়েছে
দুর্নীতি, অন্যায়, অপরাধ।
নক্ষত্রে নক্ষত্রে কেঁপে উঠেছে স্বাধীনতার স্তম্ভ
সর্বত্র শঙ্কিত ধর্ষকের ছোবলে।
দিনে দিনে, বছরে বছরে, যুগে যুগে 
শিকারের বিপর্যয়ে  ক্রমাগত হুঙ্কারে লিপ্ত
হাজারো নুসরাত, তনুর মতো নাম না জানা  কতো কষ্ট মাখানো আত্মারা।
গণতন্ত্রের নিশ্চুপ অবস্থান, মিডিয়ার দুদিনের শোরগোল,
আইনের স্বার্থান্ধ গরিমসি, প্রশাসনের নামের ক্ষতিপূরণ
এসবের কাছেই আবদ্ধ ধর্ষিতা বোনের একেকটা নিষিদ্ধ নিঃশ্বাস।
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুঃশ্বাসনের ছত্রছায়ায় কংকালের মতো ঘোরে সমস্ত মানচিত্রের অবক্ষয়।
 
অবশেষে এসব কষ্টের রক্তাক্ত পিঠ,রক্তচক্ষু এসিড ছড়িয়ে পড়ে, ছড়িয়ে পড়ুক দিগ্বিদিকে।
দাবানল জ্বালানোর মন্ত্রে, বজ্রের আক্রোশে কেঁপে উঠুক সব অপরাধের বুনিয়াদ।
ধর্ষিতা বোনের ঘৃণার রক্ত উল্কার ক্ষিপ্রতার মতো চেপে ধরুক সমস্ত ধর্ষকের নির্লজ্জ টুটি।