আচরণে মানুষ হই

শুভংকর বড়ুয়া
মানব সভ্যতার ইতিহাসে আদর্শ শব্দটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
একজন মানুষের মধ্যে যে গুণের উন্মেষ ঘটলে সাধারণ মানুষ থেকে  অসাধারণ মানুষে উন্নীত করা যায় তারা আদর্শ মানুষ নামে পরিচিত। আর্দশ মানুষ হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাইলে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব অপরিসীম।
                   আবদুল্লাহ আল -নিটাব খাঁন এর আচরণ নিয়ে কবিতার ১ম চারটি লাইন দিয়ে শুরু করা যাক :
       অন্তরে শুদ্ধতা আনো,
         মুখে আনো মিষ্টতা,
হাঁসি তামাশার ছলে ও 
     বলোনা কটু কথা।
তেমন করো আচরণ,
     যেমন করো আশা,
সংযত করো ক্রোধ,
নম্র শালীন করো ভাষা।

মনোবিজ্ঞান হল, মানষিক প্রক্রিয়া ও আচরণ সম্পর্কিত বিদ্যা ও অধ্যায়ন। এটি বিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক ও ফলিত শাখা যাতে আচরণ সমূহ নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান করা যায়। আবার অনেক বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানকে “মানুষ এবং প্রাণী আচরণের বিজ্ঞান” হিসাবে  সংজ্ঞায়িত করেছেন।
চলুন দেখে নেয়া যাকঃ-
সুন্দর আচরণ বলতে আমরা কি বুঝি –
কারও সাথে সুন্দর করে কথা বলা,দেখা হলে সালাম/নমস্কার দেয়া,কুশল বিনিময় করা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া, রাগের সুরে কথা না বলা, পরনিন্দা না করা,অপমান -অপদস্ত না করা, গোমড়া মুখে কথা না বলা,সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা, অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া, বিপদের সময় পাশে গিয়ে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা সুন্দর আচরণে অন্তর্ভুক্ত।

আচরণ সম্পর্কে, মহান আল্লাহ বলেন,কেউ যখন তোমাকে সৌজন্যমূলক সম্ভাষণ জানালে প্রতি উত্তরে তুমি তাকে তার চাইতে সুন্দর  ধরনের সম্ভাষন জানাও কিংবা অন্তত ততটুকু জানাও (নিসা -৮৬)।
গৌতম বুদ্ধের মতে,নিজের আচরণে নিজেকে পরিচিত কর, দেখবে সফলতার দেখা পাচ্ছ।
সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তৈরি হয় শান্তি,মৈত্রী ও ভালোবাসা। আর মহানবী (সা:) ও গৌতম বুদ্ধ ছিলেন উত্তম চরিত্রের মূর্ত প্রতিক। একজন মানুষের ভালো আচরণই তার সুন্দর ব্যক্তিত্বের রক্ষক হিসেবে কাজ করে। আচরণসমূহ দর্পণের ন্যায়, যেভাবে নিজেকে দর্পণের সামনে রাখবেন ঠিক সেভাবেই নিজেকে প্রতিফলন হিসেবে ফিরে পাবেন অর্থাৎ আপনি তখনি কারো কাছে ভালো আচরণ প্রত্যাশা করতে পারবেন যখন আপনি আপনার ভালো আচরণ দ্ধারা তাকে মুগ্ধ করতে পারবেন।নচেৎ অপরের কাছে ভালো আচরণ প্রত্যাশা করা বোকামি ব্যতিত আর কিছুই নয়।। আমরা চেষ্টা করলেই আচরণে পরিবর্তন আনতে পারি কিন্তু তা আমরা করি না কেনো জানেন! কারণ আমাদের মন ও মস্তিষ্ক জুড়ে আমিত্বের বসবাস, আমরা আমাদের করা খারাপ আচরণগুলো কখনোই স্বীকার করতে চায় না,আমাদের ইগো ভর্তি বিকৃত মস্তিষ্ক আমাদের নত হতে দেয় না,তাই আর সুধরে উঠাও হয় না। মানুষের জীবন হচ্ছে ডেফোফিল ফুলের মত,ফুটেই ঝরে যায়। মানুষের জীবন অনিশ্চিত কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত ও অবধারিত,মৃত্যুর পর আপনার দেওয়া ভালো আচরণগুলোই আপনাকে অবিনশ্বর করে রাখবে আপনার ধনদৌলত নয়।আমাদের সুন্দর আচরণই সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে।
সুন্দর আচরণের উদ্দেশ্য হলো অন্যকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং নিজের মহত্ব অন্যের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করা।

স্বীয় জিহ্বা সংযত রেখে মানুষের সাথে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও সঠিক পথে যেতে হবে।
উখিয়া উপজেলার হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর মোহাম্মদ নুরুল  হোসাইন বলেন-ঃআচরণ মানুষকে সমাজ তথা বংশের মাঝে সুমহান করে।একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ যদি পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং কর্মময় জীবনে আচরণিক পরিবর্তন করতে না পারলে প্রকৃত মানুষ হওয়া বড় দায়।

তরুন কবি,আশু বড়ুয়ার সাথে আলাপ কালে বলেন, আচরণ যত বেশি শোভন প্রকৃত পক্ষে সেই তত বেশি সুন্দর।

পরিশেষে বলতে চাই, সুন্দর আচরণে যে মুখটি প্রিয় হয়, বিপরীতভাবে অসুন্দর আচরণ করায় একই ভাবে মুখটি অপ্রিয় হয়ে যায়। কেননা সুন্দর আচরণ উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক ও চারিত্রিক উৎকর্ষের মাপকাঠি।

লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিজ্ঞান,
সরকারি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ,
উখিয়া, কক্সবাজার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।