খেলাধুলা

আফগানদের সাথে শিরোপা ভাগাভাগি করল টাইগাররা

চ্যাম্পিয়ন ট্রপি হাতে দুই অধিনায়ক। ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : তিন জাতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের জমজমাট ফাইনালের আনন্দ পুরোটাই নষ্ট করে দিল বৃষ্টি। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুরের পর থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, তা আর থামলই না।

আকাশের দিকে তাকিয়ে স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষগুলো! কখন সরবে মেঘ; কখন থামবে বৃষ্টি। কিন্তু শরতের মেঘের সেই যে বিকেল থেকে বৃষ্টি হয়ে ঝরা শুরু, আর থামাথামির নাম নেই। ঝুমঝুমে শুরু হয়ে ঝিরঝির পেরিয়ে টিপটিপ। তবু থামল না।
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালও তাই আর মাঠে গড়াল না। রিজার্ভ ডে-ও নেই। তাই টুর্নামেন্টের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী দুই দলকে ঘোষণা করা হয় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম কোনো শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দুই দলেরই তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সুযোগ আছে।

কিন্তু ফাইনালটা না হওয়ার হতাশাই বরং বেশি করে ছুঁয়ে গেছে তাদের। পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে যেমনটা বলছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, ‘দর্শকদের জন্য খারাপ লাগছে। তারা অনেক আশা নিয়ে খেলা দেখতে এসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে বৃষ্টির ওপর তো আমাদের কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। আমার মনে হয়, খেলা না হওয়াতে দুই দলই হতাশ। ’ ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে আসা দুই দলের প্রতিনিধির কণ্ঠেও একই সুর। বিশেষত রিজার্ভ ডে না থাকার আলোচনা দুই ড্রেসিংরুমে হয়েছে বলেই জানান মাহমুদ উল্লাহ ও রশিদ খান। ‘ড্রেসিংরুম থেকে আমরা দেখছিলাম যে ছোট ছোট বাচ্চারা বৃষ্টিতে ভিজছিল। ওদের জন্য খারাপ লাগছিল। আর ক্রিকেটার হিসেবে আমি তো সব সময় খেলতেই চাইব। তাই ফাইনালের রিজার্ভ ডে থাকলে অবশ্যই ভালো হতো’, বাংলাদেশ অলরাউন্ডার বলেছেন এমনটা। আফগানিস্তান অধিনায়কের চাওয়াও অভিন্ন, ‘ফাইনালে রিজার্ভ ডে থাকলে ভালো হতো। এটি নিয়ে আমরা ড্রেসিংরুমে কথা বলছিলাম। ’
কিন্তু আয়োজকরা বোধ করি আবহাওয়ার ওপরই ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে যে তা এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, কে জানত!

টেস্ট জিতেছে, এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন—আফগানিস্তানের তৃপ্তির অনেক জায়গা রয়েছে। আবার টেস্টে অমনভাবে হারের পর ট্রফি জয়ে বাংলাদেশেরও স্বস্তির অবকাশ রয়েছে। সে স্বস্তিই মাহমুদ উল্লাহর কণ্ঠে, ‘আমরা টেস্ট হারের পর টি-টোয়েন্টিতেও আফগানদের কাছে প্রথম ম্যাচ হারলাম। তখন মানসিকভাবে খুব পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু সবাই ভেবেছি, যেন এর পুনরাবৃত্তি না হয়। সব মিলিয়ে মনে হয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজ আমরা ভালো খেলেছি। কিছু কিছু বিভাগে আরো উন্নতির জায়গা রয়েছে। কোচ সেটি বলে গিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আমি একমত। ’ কিন্তু টেস্ট-টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাফল্য বেশি না ব্যর্থতা, এমন প্রশ্নে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য হন মাহমুদ, ‘সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিচারে হতাশার জায়গা ছিল, অনেক বেশিই ছিল। আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি। ’

পারফর্ম করেছেন তরুণ আফিফ হোসন, আমিনুল ইসলামরা। এটি যে আনন্দ দিচ্ছে মাহমুদকে, ‘আফিফ-বিপ্লবের জন্য খুব খুশি। আফিফকে আমি চিনি। ওর ভালো করার সামর্থ্য আছে। আর বিপ্লব প্রথম ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করেছে। সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজরাও। ’ নভেম্বরে দুই টেস্ট ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেদিকে তাকিয়ে থাকার কথা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলে গেছেন অধিনায়ক সাকিব, ‘আমরা এ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার পথে বেশ ভালো খেলেছি। কিছু তরুণ খেলোয়াড় ভালো খেলেছে। আর ভারত সফরের আগে আমি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে যাব; সেটি আমাকে সাহায্য করবে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজটি আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা জানি। ’

কিন্তু সে সিরিজের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা দেখিয়ে গেল আফগানিস্তান। বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ভেসে গেলেও দলের দুর্বলতা ঢাকা পড়ছে না। অথচ দারুণ ক্রিকেট খেলা আফগানদের কাছে বাংলাদেশের শেখার কিছু নেই বলে অবলীলায় জানিয়ে যান মাহমুদ উল্লাহ। ‘টেস্টে একদম নতুন দল আফগানিস্তান যে মানসিকতা নিয়ে খেলেছে, তাতে ওদের কাছ থেকে বাংলাদেশের কিছু শেখার আছে কি না’—এমন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি এভাবে, ‘না, আমার মনে হয় না, ওদের কাছ থেকে আমাদের কিছু শেখার আছে। আমরা ভুল অনেক বেশি করেছি, সে কারণে ফল পক্ষে আসেনি। একই সঙ্গে বলতে হবে, ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আর আমরা বাজে ক্রিকেট খেলেছি। ’

বাজে ক্রিকেট খেলা দলেরও তাহলে ভালো ক্রিকেট খেলা দলের কাছ থেকে কিছু শেখার নেই!