খেলাধুলা

আমি কি চোর, চুরি করি মাঠে?

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : সংবাদ সম্মেলনে মেজাজ হারালেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ম্যাশের পাল্টা প্রশ্ন, আমি কি চোর? আমি কি চুরি করি মাঠে?

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। সেখানেই এক প্রশ্নের জবাবে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা ভালো নয়। শেষ ১০ ওয়ানডে ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন মাত্র একটি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামছেন। পারফরম্যান্স নিয়ে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাঘেরও যে বয়স হয়!

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে মাশরাফির আত্মসম্মানবোধ মিলিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবদিক। সেটি আর সহজভাবে নিতে পারেননি আবেগী ম্যাশ। উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আত্মসম্মান বা লজ্জার কথা বলছেন, আমি কি চুরি করি মাঠে? আমি কি চোর? খেলার সঙ্গে লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ—আমি মেলাতে পারি না। এত জায়গায় এত চুরিচামারি হচ্ছে, তাদের লজ্জা নেই। আমি মাঠে উইকেট না পেলে আমার লজ্জা লাগবে, আমি কি চোর? উইকেট আমি না-ই পেতে পারি। আমার সমালোচনা আপনারা করবেন, সমর্থকেরা করবে। লজ্জা পেতে হবে কেন?

আবেগী গলায় মাশরাফী বলেন, আমি কি বাংলাদেশের হয়ে খেলছি নাকি অন্য কোন দেশের হয়ে খেলছি যে আমার লজ্জা পেতে হবে? আমি পারিনি আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন। জিনিসটা তো সিম্পল। এখন কথা হচ্ছে আমার লজ্জা বা আত্মসম্মানবোধ আমি কার সঙ্গে দেখাতে যাব। আমি তো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নামছি। আমি কি বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষের মানুষ?

তার মতে, মাঠের পারফরম্যান্স উঠানামা করবেই। পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ, সমালোচনা- সবই হবে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে লজ্জা ও আত্মসম্মানবোধ মিশিয়ে ফেলা কেনো? বলেছেন, যে কেউই পারফর্ম নাই করতে পারে। তার ডেডিকেশন, কোনো জায়গায় লেকিং থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। আরেকটা সমালোচনা হতে পারে, যেটা কমন, সারা বিশ্বেই হচ্ছে যে আমি উইকেট না পেলে আমার সমালোচনা হতেই পারে। কিন্ত কথাটা যখন আসে লজ্জা আর আত্মসম্মানের, তখন আমার প্রশ্ন থাকে। আমার সমালোচনা করুক, আমি ক্রিকেট খেলতে এসে কি আমার আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে আসছি নাকি? সুতরাং এই জিনিসটার সঙ্গে আমি মোটেও একমত নই।

আবেগী হলেও বাস্তবতাটা ভালোই বোঝেন মাশরাফী। বলেছেন, সেরাটা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা সেটা দেয়ার চেষ্টা করি। গ্যারান্টি তো কোনো প্লেয়ার দিতে পারে না। আজ থেকে ৪ বছর পর হয়তো তামিম, মুশফিক, রিয়াদদেরও ক্যারিয়ার নিয়ে একটা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এটাই নিয়ম। এটা নিয়ে ভাবার কিছু আছে বলে মনে করি না।