সারাদেশ

ইসিকে না জানিয়ে আ. লীগের সভা করা উচিত হয়নি: সিইসি

কে এম নুরুল হুদা

রাইজিং কক্স ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনকে না জানিয়ে ঢাকা সিটি নির্বাচনের দুই দিন আগে আওয়ামী লীগের মুজিববর্ষের সভা করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

তিনি বলেছেন, ‘আজকের (গতকাল বৃহস্পতিবার) জনসভার বিষয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের কিছু জানায়নি। পরে বিএনপি জানাল যে জনসভা হচ্ছে। পরে আমরাও খোঁজ নিয়ে সভার বিষয়টি জানলাম।’ খবর কালের কণ্ঠের।

নির্বাচন ভবনে গতকাল প্রথমে আওয়ামী লীগ ও পরে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি কে এম নুরুল হদা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এ সময়ে এমন সমাবেশ করার মানেই হচ্ছে সিটি নির্বাচনকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আওয়ামী লীগের সমাবেশের বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। পরে কমিশন জানিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হতে বাধা কিসের? তবে ভোট চাইতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনের যে বক্তব্য তাতে স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা ক্ষমতাসীনদের নির্দেশই পালন করছে।’

এদিকে ‘সভা করা উচিত হয়নি’ মন্তব্য করেও সিইসি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনসভা সিটি নির্বাচনসংক্রান্ত নয়। এটা মুজিববর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সভা। আমাদের কাছে তারা বলেনি। সেখানে নির্বাচন নিয়ে যদি কিছু না বলে তাতে নির্বাচনের কোড অব কনডাক্ট ভায়োলেট হবে কি না তা আলাদাভাবে বলা নেই। তবে আমি মনে করি, নির্বাচন সামনে রেখে এই সভাটা তাদের না করাই উচিত ছিল। তাদের নির্বাচন কমিশনের অনুমতি বা পরামর্শ নেওয়া উচিত ছিল।’

নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে সিটি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে বলেই মনে হয়। প্রার্থীরা তাঁদের প্রচার চালাচ্ছেন। কোনো বাধা দেখি না। আমাদের কাছে ধরপাকড়ের কোনো তথ্য নেই। কোনো ক্রিমিনাল, সন্ত্রাসী, বোমাবাজ যদি এখানে আসে তাদের তো পুলিশ নজরদারিতে রাখবে এবং ধরবেই। কোনো বাসাবাড়িতে তল্লাশি বা রেইড করা হচ্ছে না। ভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বহিরাগতরা আসছে এমন তথ্যও আমার কাছে নেই।’

নির্বাচনের পর্যবেক্ষক নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বক্তব্যের বিষয়ে নুরুল হুদা বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী তাঁরা যেতে পারবেন, তাঁদের নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা তো বাইরে থেকে আসেননি, তাঁরা এখানকার। তাঁরা তালিকা দিলে আমরা পরীক্ষা করে অনুমতি দিতে পারি। সে অনুমতি আছে, গাজীপুরসহ বিভিন্ন সিটি নির্বাচনও তাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁরা যেন বিধির বাইরে কোনো আচরণ করতে না পারেন সে ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা থাকবে।’

বিদেশি প্রতিনিধিদের কেউ নির্বাচনে খবরদারি করছে বলে মনে হয়েছে কি না জানতে চাইলে নুরুল হুদা বলেন, ‘না, এমনটি মনে হয়নি। সাক্ষাৎকালে তাঁরা আমাদের অবস্থান জানতে চেয়েছেন, আমরা তাঁদের বুঝিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতিতে তাঁরা খুশি।’

‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের জন্য ইসি সহায়ক শক্তি’—বিএনপির এমন অভিযোগ সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘এটা মোটেই সত্য নয়। আমরা নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমরা কারো সহায়ক না, আবার কারও পক্ষে বা বিপক্ষেও নই। আইনে দেওয়া দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’