উখিয়াপাঠকের কলাম

উখিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মৌলভী আবদুল হকের চতুর্দশ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মৌলভী আবদুল হক

আবদুল্লাহ আল হারুন : ২০০৬ সাল । তখন আমি নবম শ্রেণির ছাত্র।আমার দাদা মারা যান। স্মৃতি থেকে অনেক কিছুই মুছে গেছে এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে।

মৌলভী আবদুল হক। আমার দাদা একজন আরবি-শিক্ষিত মানুষ ছিলেন।  জীবনের খুব কম বয়স থেকে তিনি ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ-মাহফিল করতেন। এর পাশাপাশি মানুষকে কাছ থেকে সেবা করার মানসিকতা ছিল আমার দাদার। তখন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ ছিল না। বৃহত্তর রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনগণের ভোটে আমার দাদা মেম্বার নির্বাচিত হন। এরপর পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হলে তিনি জনতার সেবক নির্বাচিত হন টানা পাঁচবার। তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী অসুস্থ হলে পরিষদ পরিচালনার জন্য সে সময়কার নির্বাচিত মেম্বারদের ভোটে আমার দাদা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। যে বছর দাদা আমাদের ছেড়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন, তখনও তিনি বালুখালী-ধামনখালী ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। দাদা মারা যাওয়ার পর আমার আব্বা ২ নম্বর ওয়ার্ডের জনসাধারণের ভালোবাসায় উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

আজ ২০ই মার্চ। আমাদের প্রিয় দাদা হারানোর তথা পালংখালী ইউনিয়নবাসী তাঁদের নেতা হারানোর দিন।  তাঁদের মুরুব্বি হারানোর দিন।

দাদার মৃত্যুর আগেরদিন পর্যন্ত আমি দাদার সাথেই থাকতাম। আমার পড়ার রুমের কাছেই দাদার থাকার ঘর। তাই তাঁর সংস্পর্শ আমিই সবচেয়ে বেশি পেয়েছি আমাদের ভাইবোনের মধ্যে। দাদাকে আমি দেখেছি গভীরভাবে। তিনি গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। নিষ্প্রয়োজনে কথা বলতেন না। অনেক বার বিচার করতে দেখেছি তাঁকে। অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি মানুষের সমস্যার সমাধান করতেন। কোনদিন শুনিনি তাঁর বিচার কারও অপছন্দ হয়েছে। আজ পর্যন্ত দাদার বয়সী  মুরুব্বিদের সাথে দেখা হলে তাঁরা হাহুতাশ করেন। তাঁরা জানেন তাঁদের খুব স্নেহ করতেন আমার দাদা। দাদার রাজনৈতিক জীবন, পারিবারিক জীবন কিংবা সামাজিক জীবন – যাই বলি না কেন, তিনি আমার দেখা একজন সফল ব্যক্তিত্ব।পরম শ্রদ্ধার চরম ভক্তির এক মহান জননেতা। এক আদর্শের নাম।

আজ দাদার স্মরণে পবিত্র কোরানে খতমসহ ধর্মীয়  নানা অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে তাঁর নিজ বাসায়।আমার আব্বা জনাব আবদুল গফুর, আমার চাচা কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতের সম্মানিত সিনিয়র আইনজীবী জনাব এডভোকেট  আবদুল মন্নান, থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জনাব আবদুস সাত্তার এবং ছোট চাচা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এডভোকেট এম এ মালেক দাদার স্মরণে প্রতিবছর এ আয়োজন করেন।

আমার বন্ধু-বান্ধব,শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রিয় পালংখালী ইউনিয়নবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি যেন আপনাদের দোয়াই আল্লাহ তায়ালা আমার দাদাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

দোয়া করবেন যেন আমিও আমার দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি।

লেখক : সহকারী শিক্ষক, গাছবাড়িয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন