উখিয়াখেলাধুলাজাতীয়প্রধান সংবাদ

উখিয়ার রিফার গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

উখিয়ার মেয়ে রিফার একটি দর্শনীয় শট। ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : আগের মত আবারো ভুল করলেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। যা তার কাছে নিত্য। তবে শুক্রবার ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে তার এই ভুলে টেনশন বাড়লেও জয় বঞ্চিত হতে হয়নি গোলাম রাব্বানী ছোটনের দলকে। রুপনার ভুল বাংলাদেশের জালে বল যাওয়া সত্ত্বেও লাল সবুজদের জয়যাত্রা অব্যাহত। আগের ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারানোর পর কাল ২-১ গোলে জয় নেপালের বিপক্ষে।

টানা দুই জয়ের ফলে এবারের অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সাফ ফুটবলের ফাইনালে চলে গেল বাংলাদেশ। এই নিয়ে পরপর তিন আসরে তাদের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে অংশ গ্রহন। কাল অপর ম্যাচে ভারত ১০-১ গোলে ভুটানকে  পরাজিত করে। ফলে ১৫ অক্টোবর ফাইনালে টানা তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দলের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার ফলে রোববার লিগের শেষ ম্যাচে স্রেফই নিয়মরক্ষায় নামবে এই দুই দল। কাল অপর ম্যাচে প্রথম জয় পেতে মুখোমুখি হচ্ছে ভুটান ও নেপাল। দুই দলই দুই হারে বিদায় নিয়েছে আসর থেকে।

গোল করার পর রিফাকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের পাবে এটাই ছিল কাংখিত। বয়স ভিত্তিক সাফে তাদের বিপক্ষে আগের সব ম্যাচেই লাল সবুজ মেয়েদের জয়। সাফের বাইরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল ফুটবলেও। কাল বিকেলে ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে ১২ মিনিটেই বাংলাদেশ ম্যাচে লিড নেয় স্ট্রাইকার শাহেদা আক্তার রিফার দর্শনীয় গোলে। সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের উপর থেকে ডান পায়ের মাটি ঘেঁষা শটে নেপালের কিপারকে পরাস্ত করেন কক্সবাজারের উখিয়ার এই মেয়ে। বিকেএসপির ছাত্রী রিফা প্রথম ম্যাচে গোল করেছিলেন ভুটানের বিপক্ষেও।

গোলাম রাব্বানী ছোটন বাহিনী ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২৫ মিনিটে। বক্সে বাংলাদেশের খেলোয়াড়কে ফাউল করে নেপালের এক ডিফেন্ডার। ফলে ভারতের রেফারি কনিকা বুরমান  পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তা থেকে এই আসরে প্রথম গোল আদায় বাংলাদেশ অধিনায়ক ছোট শামসুন্নাহারের। নেপালী গোলরক্ষকের বাম পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

এরপর চলতে থাকে লালসবুজ মেয়েদের গোল মিসের উৎসব। এরই মধ্যে ৬৪ মিনিটে প্রথমে ডিফেন্ডার এবং পরে গোলরক্ষক রুপনা চাকমার ভুলে ব্যবধান কমায় নেপাল। ডিফেন্ডারের ভুলে বক্সের উপর বল পান  আমিশা খারকি। সে সময় রুপনা পোষ্ট ছেড়ে বাইরে। ফলে আমিশার নেয়া ডান পায়ের শট রুপনার মাথার উপর দিয়ে জলে জড়ায়। এই গোলের পর ভয় ছিল নেপাল না সমতা নিয়ে আসে ম্যাচে। তা আর না হওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচেও অপরাজিত থেকে ফাইনালে চলে গেল ছোটন বাহিনী।

১৫ তারিখের ফাইনালের আগে বাংলাদেশ দলের ভারত পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে আগামীকাল। তবে এতে বাংলাদেশ কেমন করবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কারন অপেক্ষাকৃত বয়ষ্ক ফুটবরার নিয়েই খেলছে ভারত। ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও অভিযোগ করলেন, ‘ভারতীয় দলে বয়স্ক খেলোয়াড় অনেক।’ খেলোয়াড়গুলোও দীর্ঘদেহী। তাদের খেলাতেও পরিচ্ছন্নতার ছাপ। এছাড়া বাংলাদেশ দুই ম্যাচে চার গোল দিয়ে একটি হজম করলেও ভারত দুই ম্যাচে দিয়েছে ১৪ গোল। অবশ্য তাদের জালে দুই ম্যাচেই বল গেছে। প্রথম ম্যাচে তারা নেপালকে হারিয়েছিল ৪-১ গোলে। কাল ভারতের সাই সাংকাই করেন হ্যাটট্রিক।