উখিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিল উপজেলা প্রশাসন

উখিয়া সংবাদদাতা : সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত দিন পার করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদৌাগে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরিচ্ছনতা অভিযানে অংশগ্রহন করেন। উদ্ভুদ্ধ করেন এডিস মশা থেকে রক্ষা পেতে হলে নিজেদের ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এদিকে উচ্চ শিক্ষার আগ্রহ নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে লেখা পড়া করাকালীন সময়ে উখিয়ার দুই ছাত্র ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা দুই সহোদর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উখিয়া সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার হারুন-আল রশিদ জানান, তার দুই সন্তান ঢাকায় অবস্থান করে লেখাপড়া করে আসছিল। হঠাৎ করে অনাকাঙ্খিতভাবে তার বড় ছেলে মুশফিক আল জামি (১৯) ও মেজ ছেলে মুসতারি আল রাজি (১৮) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তিনি জানান, উখিয়া আর ঢাকার দুরত্বে টানা পোড়নের কারনে দুই ছেলেকে কক্সবাজার নিয়ে এসে সদর হাসপাতালে ৫০৫ ও ৫০৬ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্ত ২ ছেলের আরোগ্য লাভে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেছেন।

এদিকে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গা অদুষিত ও বন্যা প্রবন এলাকা হওয়ায় তার ইউনিয়ন অত্যান্ত ঝুকিপূর্ন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসে দেয়া তথ্য মতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকে এডিস মশা নিধনের জন্য এলাকায় প্রে করার প্রস্তুতি নিয়েছে। উখিয়াস্থ বেসরকারী পপুলার ল্যাবে সত্বাধীকারী রফিকুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষা করার মত তার প্রতিষ্ঠানে যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত জ্বরে আক্রান্ত অনেক রোগীর রক্ত পরিক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রকার ডেঙ্গুর আলামত পাওয়া যায়নি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর জানান, ছেলে ধরা গুজবের মত ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার অপপ্রচারে সর্বসাধারনকে বিভ্রান্ত না হয়ে স্ব স্ব বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখার আহবান জানান। এ ব্যাপারে থানা প্রশাসনের পক্ক থেকে প্রতিদিন এলাকায় এলাকায় সচেতনামুলক প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রে করার মেশিনসহ মনিটরিং করার জন্য একজন করে ট্যাক অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পর্যবেক্ষন সেলে দায়িত্বরত ডাক্তার রহমত উল্যাহ জানান, ডেঙ্গুর খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।