উখিয়া

উখিয়ায় বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক কারবারি নিহত

ছবি: রাইজিং কক্স

মুহাম্মদ হানিফ আজাদ, উখিয়া : উখিয়ার পালংখালী ফারিরবিল এলাকায় বিজিবি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গাদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। এতে ২ রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তারা হলেন, মো: ইসমাঈল(২৮), মো: হেলাল উদ্দিন(২০), তারা টেকনাফ উপজেলার উনচিংপ্রাং বলপূর্বক বাস্তূচূত মিয়ানমার নাগরিক ২২নং ক্যাম্পের সি-৫ ব্লকের বাসিন্দা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারিরবিল এলাকায়। কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহম্মদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিজিবির সদস্যগন কতিপয় ইয়াবা ব্যবসায়ী বিপুল পরিমান ইয়াবা নিয়ে উখিয়া থানাধীন ৫নং পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারিরবিল এলাকা দিয়ে মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি চৌকস টহল দল পূর্ব ফারিরবিল এলাকায় অবস্থান নেয় এবং ভোর রাতে ৫/৬ জনের একটি দল মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে পূর্ব ফারিরবিল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্র, সস্ত্র দিয়ে বিজিবি টহল দলকে লক্ষ করে এলোপাথারি গুলি বর্ষন শুরু করে। এসময় বিজিবির সদস্যগন তাদের জানমাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ১০/১৫মিনিট গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গুলি করতে করতে রাতের অন্ধকারে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

এ সময় বিজিবি সদস্যগন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সেখানে অজ্ঞাননামা ২ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় এবং তাদের পাশে ইয়াবা সদৃশ হয় ও বন্দুক পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাৎক্ষনিক আহত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন। উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় একজন বিজিবির সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বিজিবি এ বিষয়ে উখিয়া থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবগত করলে তারা লাশ ২টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেন। বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিচ ইয়াবা, একনলা বন্দুক ১টি, বন্দুকের কার্তুজ ২টি, ইউএনএইচসিআর কর্তৃক প্রদত্ত একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারী হতে কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির সদস্যরা চোরাচালান মালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এ পর্যন্ত ২৭ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩শত টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং ১৯১জন ইয়াবা ব্যবসায়ী ও চোরাচালান প্রতিরোধ করতে গিয়ে বন্ধুক যুদ্ধে ১০জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন