এখনো শরীর শিউরে ওঠে ‘আইভি কাশেমের’

রাইজিং কক্স ডেস্ক : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা। ওইদিনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন আবুল কাশেম। যিনি সেদিন আহত হয়েছিলেন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। মহানগর উত্তরের ওই আওয়ামী লীগ নেতা দেশব্যাপী ‘আইভি কাশেম’ নামেই পরিচিত।

জানা গেছে, ২১ আগস্টে দুই পা বিচ্ছিন্ন আইভি রহমানকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন আবুল কাশেম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামিছাদী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। সেই দিনের ঘটনার পর থেকেই তিনি আইভি কাশেম নামে পরিচিত। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য।

২১ আগস্টে দুই পা বিচ্ছিন্ন আইভি রহমানকে কোলে নিয়ে বসা আবুল কাশেম

এক সাক্ষাতকারে আইভি কাশেম বলেন, সেই দৃশ্য ভয়াবহ, বীভৎস। মানুষের হাত এক জায়গায়, পা আরেক জায়গায়, শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন। অসংখ্য মানুষের রক্তাক্ত শরীর। এই দৃশ্যগুলো মাঝে মাঝে রাতে ঘুমের ঘোরে মনে উঠলে ওই রাতে আর ঘুম হয় না। এখনও শরীর শিউরে ওঠে। এক কোণায় ঝিম ধরে বসে থাকি। এই স্মৃতি বয়ে বেড়ানো খুব কঠিন।

আইভি রহমানের ব্যাপারে জানতে চাইলে কাশেম বলেন, সেদিন সমাবেশস্থলে আমি প্রাণপ্রিয় নেত্রীর গাড়ির কাছে ছিলাম। বিকট আওয়াজ, মানুষের দৌড়াদৌড়ি। একপর্যায়ে পার্টি অফিসের পাশের মার্কেটের কলাপসিপল গেটের কাছে মানুষের দৌড়াদৌড়ির মধ্যে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পরে ঘাড় তুলে দেখি নেত্রীকে বিভিন্নজন গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। আমি তখন সাংবাদিক সাহেদ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করি, আপার কী অবস্থা? আমরা জানতাম, আপা না থাকলে আমাদের বাঁচা অর্থহীন। আমরা কেউই থাকব না। এর কিছুক্ষণ পরই সাহেদ চৌধুরী আমাকে বললেন, আপা কোনো রকম আছেন। তারপর মাঠের দিকে তাকালাম, অসংখ্য নেতাকর্মী রক্তাক্ত। হানিফ ভাই, সুরঞ্জিত দাদা, সাহারা আপাকেও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখি। আমি সাহারা আপাকে গাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসি তার ড্রাইভারের কাছে।
এরপরই আইভি চাচিকে দেখি খুব করুণ অবস্থায় রাস্তায় শুয়ে আছেন। দুই পা বিচ্ছিন্ন, চোখগুলো উল্টানো। তাকে উঠিয়ে বোঝার চেষ্টা করি বেঁচে আছেন কিনা। ঘটনাস্থলেই তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। কি বিভৎস! এটা নারকীয় হত্যাকাণ্ড। ওই দৃশ্য না দেখলে আসলেই ভাবা যায় না, কল্পনা করা যায় না।

এ ঘটনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেদিনের মূল টার্গেট ছিল বঞ্চিত বাঙালির আশা আকাঙ্ক্ষার একমাত্র ঠিকানা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি এখন সরকার প্রধান। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে আসামিরা যে যেখানে আছে তাদেরকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য। তাদেরকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত। এমন নৃশংসতম ঘটনা পৃথিবীর আর কোথাও নজির নেই।

হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং আমি বিশ্বাস করি যার নির্দেশনায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই তারেক রহমানকে বাংলার মাটিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এনে এ রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।