কক্সবাজার

কক্সবাজারে ইট তৈরীতে অনিয়ম, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রাইজিং কক্স ডেস্ক: ইট হচ্ছে একটি আয়তকার কঠিন ঘনবস্তু। যা কাঁচা অবস্থায় নমনীয় থাকে এবং পোড়ানোর পরে শক্ত আকার ধারন করে।

যার সাইজ হবে ৯.৫”দ্ধ৪.৫” দ্ধ২.৭৫”। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইটের দৈর্ঘ্য ২৪ সে.মি., প্রস্থ ১৬.৫ সে.মি. ও উচ্চতা ৭ সে.মি. থাকতে হবে। কিন্তু কক্সবাজার সদর রামু ও চকরিয়ার ইট ভাটায় গিয়ে দেখা যায় কোন ইট নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়নি। সব ইটের সাইজ ছোট। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ওই সকল ইট জরিমানা করার যোগ্য। তা ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লাইসেন্স ও। তার পরও বেপরোয়াভাবে কক্সবাজারের সবকটি ইট ভাটায় বানানো হচ্ছে অতি নিম্নমানের ইট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো রকম ছাড়পত্র না নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে এ অঞ্চলে ইট তৈরি করছেন ইটভাটা মালিকগন। উপকূল ধ্বংস ও পরিবেশ দূষণের কারনে ভাটায় জরিমানাও করেন পরিবেশ অধিদপ্তর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইটের সাইজ) পৌনে ৯ ইঞ্চ মাত্র) ছোট ও নিম্নমানের। এসব ইট দিয়ে ভবন তৈরি হলে ভবনের সাইজ অতিরিক্ত খরচ করে মেলাতে হয়, স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ও কমে হবে অর্ধেক। ঈদগাঁও এম কে নামের একটি ইটভাটায় দেখা গেছে কৃষি জমির উপরিভাগ থেকে মাটি দিয়ে যে ইট বানানো হচ্ছে তা ঝরঝরে প্রকৃতির। বিএসটিআইয়ের মাঠ সংশ্লিষ্টরা বলেন, এসব ইট পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ নয় বলে প্রমাণিত। এগুলো খুব নিম্নমানের। একই এলাকার আরও তিনটিরও লাইসেন্স নেই।’ পরিবেশ অধিদপ্তর বলেন, ‘এসব ইটভাটায় আমাদের কোনো ছাড়পত্র নেই।

নিয়মানুযায়ী পাহাড় কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যায় না। কিন্তু ঈদগাঁও শহরের সাথে লাগোয়া ৪টি ইট ভাটা।
এ প্রসঙ্গে ইটভাটার মালিক বিমান মৌলভী বলেন, আমি ইট বিক্রী করে সাইজ দেখিয়ে। কারো ইচ্ছা হলে নিবে না হলে নিবে না। কোন জোরাজুড়ি নাই। তিনি বলেন, “আমি ‘বিএসটিআই বুঝি না। আর এ বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে কাঁচা ইট তৈরি হচ্ছে। পরে তা চুল্লিতে লাকড়ি ও কয়লা দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। পরিবহনের সময় ভ্যাট-ইনকাম ট্যাক্সের কাগজ থাকার নিয়ম ও মানতে নারাজ মালিক গন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে এসব খতিয়ে দেখার দাবী সচেতন মহলের।

জানা গেছে, ইটভাটা করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইটভাটাগুলোর কোনোটিতেই তা নেই। লাইসেন্স ছাড়া ইট উৎপাদন ও বিপণন এবং গুণগতমান ঠিক না রাখার অভিযোগে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও এবং রামু সদরের ১৪টি ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল বিএসটিআই।

২০১৫ সালে কক্সবাজার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে এসব মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিএসটিআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা মো. সাফায়েত হোসেন। ওই সময় এমএস ব্রিকস নামের পৃথক তিনটি ভাটা, এমআরসি ব্রিকস, এসএসবি ব্রিক ফিল্ড, এসবিএ ব্রিকস, রাইয়ান ব্রিকস, ভাই ভাই ব্রিকস, শাবরিনা ব্রিকস, ইবিসি ব্রিকস, বাগদাদ ব্রিকস, আরএমএম ব্রিকস, এফকেবি ব্রিক ফিল্ড ও এএসবি ব্রিকস। বিএসটিআইয়ের একটি দল রামু ও ঈদগাঁও এলাকার ২০টি ইটভাটায় অভিযান চালায়। তারা ১৪টি ইটভাটায় ইট উৎপাদনের বিপরীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া, ইটের গুণগতমান খারাপ, ইটের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতাও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মানসম্পন্ন নয়। এতে ক্রেতা ও ভোক্তা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ কারণে ১৪ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। কিন্তু এর পর থেকে জেলার সমস্ত ইটভাটার ইট তৈরীর উপর সরকারের আইনী নজরদারী না থাকায় ও দায়ীত্বপ্রাপ্তদের অনৈতিক সম্পর্কের কারনে নিম্নমানের ইট তৈরী ও পরিবহন হচ্ছে অবাধে। এতে একদিকে ক্রেতা ও ভোক্তা যেমন ঠকছে তেমনি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে তৈরী হচ্ছে ঝুঁকিপুর্ন ভবন। এ ব্যাপারে ইটভাটা আইন, ভ্যাট ইনকাম ট্যাক্স এবং ইমারত আইনে কঠোর নজরদারী দাবী করছেন সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন