কক্সবাজারস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন ৫২ জন, সুস্থ হয়েছেন ৮ জন ডেঙ্গু রোগী

রাইজিং কক্স ডেস্ক : কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী। ভর্তিকৃত ৫২ জন ছাড়া গতকাল ৫ আগষ্ট ডেঙ্গু রোগির মধ্যে ৮ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন। ৪ আগষ্ট ৫১ জন ভর্তি ছিল। সুস্থ্য হয়ে ফিরে গেছেন ৮ জন নতুন করে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৯ জন। ফলে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, ৫ আগষ্ট নতুন করে ৯ ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সদর হাসপাাতালে ৫ জন, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালে ৩ জন, চকরিয়া হাসপাতালে ১ জন ও চকরিয়া জমজম হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৩ জন রোগী ভর্তি ছিল।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: মহিউদ্দিন নিজে সকাল ৮ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত নিজে উপস্থিত থেকে ডেঙ্গু রোগি চিকিৎসা নিয়ে তদারকি করছেন। ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসকরা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুর শতভাগ চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। সার্বক্ষনিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগিদের তদারকিতে রয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর ২৪ ঘন্টা দায়িত্বে পালনে নিয়োজিত রয়েছেন ‘ডেঙ্গু টিম’। ফলে এই কারনে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগিরা দ্রুত সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: নোবেল কুমার বড়–য়া।কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগিদের মধ্যে রামু, উখিয়া,টেকনাফ, সদর উপজেলার খুরুস্কুল, পৌর শহরের নুনিয়াছড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজন। এদিকে ভুল চিকিৎসা হলে এবং সতর্ক না থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকির শংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ৩ আগষ্ট ডেঙ্গু রোগে আরো কিভাবে ভালো চিকিৎসা দেয়া যায় সেই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নয়, হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারি সবাই ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন সকালে সবার উপস্থিতিতে সভা করা হয়। সেখানে রোগিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজের নিয়োজিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, জ¦র হলে দ্রুত রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। হাতুড়ি ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবেনা। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ঔষুধ দিলে রোগির ভয়াবহতা বেড়ে যাবে। এমন কি মল ত্যাগের সময় রক্ত যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে সবাইকে। সিভিল সার্জন ডা: আবদুল মতিন জানান, কক্সবাজারে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে সেই জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলায় মাইকিং করে সচেতনতা মুলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতংক হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সচেতন হবে, থাকতে হবে সতর্ক।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের বাইরের থেকে আসা ডেঙ্গু জীবানু বহনকারিদের কারনে কক্সবাজারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ডেঙ্গু রোগ। কক্সবাজারের সন্তানরা লেখাপড়া ও কর্মক্ষেত্রের তাগিদে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করেন। ডেঙ্গু রোগ হওয়ায় তাদের অনেকে কক্সবাজারে চলে আসেন। এমন কি পর্যটকরা ডেঙ্গু বহন করে কক্সবাজারে আসছেন। ফলে তাদের সাথে সেই ডেঙ্গু জীবানু চলে আসে। এসব কারনে কক্সবাজারবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।