কক্সবাজারে জমে উঠেছে শীতের পিঠা তৈরি ও বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কনকনে শীত। আকাশে ছোট বড় মেঘ সূর্যকে ঢেকে রেখেছে। অন্ধকারে ছেঁয়ে যায় চারদিক। শিশির ভেজা সন্ধ্যায় ভাপা পিঠা আর পুলি পিঠায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জনপদ। শীতের প্রধান আর্কষণ খেজুরের গুড়। কক্সবাজার শহরের ফুটপাতগুলোতে চলছে ভাপা, চিতইসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরী ও খাওয়ার ধুম। একদিকে নতুন ধান কেটে ঘরে তোলার আনন্দ। অন্যদিকে নতুন ধানের মিষ্টি পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত গৃহিনীরা। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে রান্না ঘরে বসে মায়ের হাতের মিষ্টি পিঠা খেতে যেন মজাটাই আলাদা। সব আনন্দকেই হাড় মানিয়ে দিচ্ছে শহরের ফুটপাতে বসা দোকানিদের বাহারি রঙের পিঠা। শীতের রাতে গরম গরম ভাপা পিঠা আর পুলি পিঠা খাওয়ার মজাটা যেন সবাই এসে ভাগ করে নেয় এসব ফুটপাতের দোকানগুলোতে।

ক্রেতাদের জন্যে দোকানের দুই পাশে রাখা হয়েছে লম্বা বেঞ্চ। পিঠা খেতে আসা ক্রেতারা বেঞ্চে বসে জমিয়ে আড্ডা শুরু করছে। তাই সরাদিনের কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে ফুটপাতে গড়ে তোলা পিঠাপুলির দোকানে এসে পাড়ি জমায় বিভিন্ন শ্রেণীর ক্রেতারা। সবমিলে জমে উঠে পিঠাপুলির দোকানগুলিতে বেচাকেনার আসর।

দোকানি ছানোয়ার হোসেন জানান, পাঁচবছর ধরে তিনি পুলি পিঠা তৈরি করছেন। সংসারিক কাজের পাশাপাশি তিনি এ পেশা ধরে রেখেছেন। সীমিত খরচে ভালো লাভের আশায় প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত্রি ১০ টা পর্যন্ত একাটানা বেচাকেনা করেন। দিনে ৬০০ টাকার খরচ করে তিনি প্রায় চারশ’ টাকা লাভ করে। এ ব্যবসা করে তিনি মোটামুটি ভালোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপর দোকানি আব্দুর রহিম জানান, অভাবের সংসার তার। এককাঠা জমির ওপর ভর করে বেঁচে আছেন। শীতের দিনে ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় তাকে। কার্তিকের শুরু থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে পিঠা তৈরি ও বেচাকেনা। সুস্বাদু চিতই পিঠা। খেতে ভারী মজা লাগে। তবে খরচ বাদ দিয়ে দিনে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা আয় হয়। পিঠা তৈরি আমার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারঘাটা আই বি পি মাঠ রোড়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পিঠা তৈরি করে বেচাকেনা করি। ভাপা পিঠা তৈরিতে খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। তাই অল্প সময়ে বেশী আয় হয় বলে পিঠা তৈরীকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছি। সব সময়ে ভীড় জমে থাকে আমার ফুটপাতের দোকানে।

ক্রেতা আব্দুল্লাহ হেল বাকী বলেন, সারাদিনের কাজের পর। সন্ধ্যায় রহিমের এ পিঠার দোকানে বসে পিঠা খাই আর গল্পগুজব করে সময় কাটাই। দিনের শেষে সব ব্যস্ততা বাদ দিয়ে সন্ধ্যায় এক কাপ চা ও রহিমের কাছে ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্যে এসে ভীড় জমায় শহরের মানুষ।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।