কক্সবাজারস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর অবনতি: সনাক্ত ২৩ জন, ডেঙ্গু সেল চালু

রাইজিং কক্স ডেস্ক : কক্সবাজারে সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে গত ৭২ ঘন্টায় মোট ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। ১৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে, ১১ জন পুরুষ, ৪ জন মহিলা ডেঙ্গু রোগী। কক্সবাজার জেলা সদরে হাসপাতালে ডেঙ্গু টিম গঠন করা ছাড়াও মহিলা এবং পুরুষ রোগীর জন্য আলাদা করে ডেঙ্গু রোগী কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদের নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

সনাক্ত করা ও ভর্তিকৃতদের মধ্যে রামু ও উখিয়া উপজেলার ২ জন রোগী কক্সবাজার জেলাতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বাকী সব ডেঙ্গু রোগীই কক্সবাজার জেলার বাইর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার এসেছেন। হাসপাতালে গঠনকৃত ডেঙ্গু টিম অগ্রাধিকার দিয়ে বাই রোটেশনে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ তথ্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মহিউদ্দিন বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় কে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এরমধ্যেে কক্সবাজারের বাইরে থেকে ডেঙ্গু জীবানু বহন করে আসা উখিংনু নুশাং নামক একজন রোগী কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পথে গত ২৭ জুলাই মারা যান। অন্যদিকে, সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ পংকজ পালের দেয়া তথ্যের সাথে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের দেয়া তথ্যের বেশ গরমিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, পুরো কক্সবাজার জেলায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে একজন রোহিঙ্গা। এদের ১ জনকে উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আরোগ্য লাভ করায় ২ দিন পর হাসপাতাল থেকে তাকে ডিসচার্জ করা হয়। উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীসহ মোট ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকারী রোগীর সংখ্যা ২৪ হলেও তিনি কিভাবে জেলায় মাত্র ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করলেন, তা হিসাবে মিলছে না। তবে জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়া উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে আর কোন ডেঙ্গু রোগী নেই বলে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ পংকজ পাল সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

এদিকে, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবদুল মতিন রাষ্ট্রীয় কাজে পটুয়াখালী থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর থেকে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে থেকে জানার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় সেলফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে, কক্সবাজার শহরের স্বাস্থ্য সেবা দানকারী অনেক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করছেনা বলে গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলতঃ এসব প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করলে লোকসান হওয়ার আশংকায় ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা এড়িয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা ধারণা করছেন।

রাইজিং কক্স বার্তাটি জনস্বার্থে প্রচার করছে।