কক্সবাজারশিক্ষাঙ্গন

কক্সবাজারের ৬ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

তোফায়েল আহমদ : কক্সবাজার জেলা শহরের দু’টি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ জেলার ৬ টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মারাত্নক আকার ধারণ করেছে। একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৭৮ জন ছাত্রীর জন্য রয়েছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। এ বিদ্যালয়টিতে ইংরেজী, গণিত, ভৌত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের কোন শিক্ষকই নেই। আবার জেলা শহরের এক মাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০০ ছাত্রীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন অংকের শিক্ষক।

শিক্ষক সংকটের কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, ২০১২ সালের পর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। তবে সম্প্রতি বেশ কিছু শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের নিয়োগ করা গেলে সংকট কিছুটা হ্রাস পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জেলা ব্যাপি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের এমন করুণ অবস্থার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন-‘ বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমি কাজ শুরু করেছি। এত স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে এত বেশী শিক্ষার্থীর ভাল পড়ালেখা নিশ্চিত করা যায় না। অচিরেই শিক্ষক সংকটের অবসান হবে আশা করছি।’

জেলা শহরের একমাত্র সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের এক হাজার ২০০ ছাত্রের জন্য শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫২ জন। এসব শিক্ষকের স্থলে বর্তমানে আছেন মাত্র ২৪ জন। তাও আগামী জানুয়ারিতে ২ জন বিএড প্রশিক্ষণের জন্য চলে যাবেন। উক্ত সংখ্যক ছাত্রের গণিত বিষয়ের জন্য ৬ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৩ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রামমোহন সেন জানান, ইংরেজী বিষয়ে ৮ জন শিক্ষকের স্থলে আছেন মাত্র ৪ জন। বিদ্যালয়ের সহকারি ও পিয়নের ৯ টি পদে রয়েছেন মাত্র ২ জন। তিনি জানান, শিক্ষক সংকটের কারনে সকাল-বিকাল দুই শিফটের লেখাপড়ায় মারাত্নক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা শহরের একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো খারাপ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন-‘আমার বিদ্যালয়ের এক হাজার ২০০ ছাত্রীর জন্য ৫২ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু তার স্থলে রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে সকাল বিকাল দুই শিফটের এক হাজার ২০০ ছাত্রীর পাঠদান করতে শিক্ষকরা হিমসিম খাচ্ছেন।’

প্রধান শিক্ষক অতীব দুঃখের সাথে জানান, কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টির ছাত্রীদের দুর্ভাগ্য হচ্ছে-৬০০ জন ছাত্রী মিলে রয়েছেন মাত্র একজন অংকের শিক্ষক। অর্থাৎ পুরো বিদ্যালয়ে অংক বিষয়ের শিক্ষক আছেন মাত্র ২ জন। নিয়ম অনুযায়ি একজন শিক্ষক পিছু ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও এখানে তা রয়েছে ৫০ জন শিক্ষার্থী।

অপরদিকে চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষকে রয়েছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দীন জানান, বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৯৭৮ জন। এ বিদ্যালয়ে ইংরেজী, গণিত, ভৌত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখায় কোন শিক্ষকই নেই। কোন করণিকও নেই। ভরসা মাত্র ২ জন পিয়ন।

চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৫০ জন ছাত্রের জন্য ১২ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৬ জন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম আহাদ মোঃ এনামুল হক জানান, এখানে বাংলার কোন শিক্ষকই নেই। গণিত ও ইংরেজী বিষয়ের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক। এসব শিক্ষকদের মধ্যে আগামী জানুয়ারিতে ইংরেজী শিক্ষক বিএড কোর্স করার জন্য চলে যাবেন।

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০০ জন ছাত্রীর জন্য শিক্ষকের পদ রয়েছে ১২ জনের। তন্মধ্যে রয়েছেন ৭ জন। তাও গণিত ও বাংলায় রয়েছেন মাত্র একজন করে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির সহকারি শিক্ষক সজল কান্তি দাশ। মহেশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, ৪০০ জন ছাত্রীর জন্য বর্তমানে ৭ জন শিক্ষক থাকলেও তন্মধ্যে আরো ২ জন জানুয়ারিতে চলে যাবেন বিএড প্রশিক্ষণ কোর্সে।