কক্সবাজারশিক্ষাঙ্গন

কক্সবাজার জেলার ৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক : শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা কক্সবাজারে ৪৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এরফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার গুণগত মানও দিনদিন তলানিতে যাচ্ছে। যেনতেন ভাবে চলছে সরকারি এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রমতে, কক্সবাজারে আট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৬ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এরমধ্যে পেকুয়া আর টেকনাফে সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ খালী পড়ে আছে। অনুন্নত এসব প্রত্যন্ত এলাকায় প্রধান শিক্ষকের পদ বছরের পর বছর শূন্য পড়ে থাকায় পড়ালেখায় আরও পিছিয়ে যাচ্ছে এলাকাগুলো।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৮টি উপজেলার ৭২ ইউনিয়নে কক্সবাজারে নতুন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় সহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫৮টি। সে অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের পদ অনুমোদিত আছে ৬৫৮টি। এরমধ্যে কর্মরত আছেন ৬১২ জন প্রধান শিক্ষক। বাকি ৪৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কোন রকম টেনেটুনে চলছে বিদ্যালয়গুলো। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১০৪ পদের মধ্যে ৬ টি, রামু ৮২ পদের মধ্যে ১টি, চকরিয়া ১৪৫ পদের মধ্যে ৭টি, পেকুয়ায় ৫৬ পদের মধ্যে ১৬ টি, কুতুবদিয়া ৫৯ পদের মধ্যে ৬টি, মহেশখালীতে ৭০ পদের মধ্যে ১টি, টেকনাফে ৫৫ পদের মধ্যে ৯টি পদ শূন্য রয়েছে। কক্সবাজার সদরের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা জানান, তাঁরা এখন সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দ্বৈত ভূমিকা পালন করছেন। প্রশাসনিক দিক সামলানোর পর প্রতিদিন কাউকে না কাউকে সাত-আটটা ক্লাস নিতে হয়। এতে তাঁদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। একাধিক অভিভাবকের দাবী, প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয়গুলো অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দিয়ে সবকিছু ঠিকভাবে করা যায় না। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শূন্য পদের চাহিদা প্রেরণ করে অবহিত করা হয়েছে। বিভাগীয় উপপরিচালক, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুগ এই সংকট কাটবে।