উখিয়াকক্সবাজার

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ভোগান্তি, দেখার কেউ নেই

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় রোববার সকালে বালু বোঝাই ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। ছবি: রাইজিং কক্স

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া : কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই। সাধারণ মানুষের এ ভোগান্তির বিষয়টি যেন দেখারও কেউ নেই। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই যেন রোহিঙ্গা হয়ে গেছে। প্রতিটি চেক পোষ্টে স্থানীয়দের বারংবার দেখাতে হয় জাতীয় পরিচয় পত্র।

একদিকে পুলিশের হয়রানি অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের জন্যে আনা বাঁশের ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে আনায় সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি। ফলে দুঃসহ যানজট। পথচারীসহ গাড়ির যাত্রীদের তখন এক যন্ত্রণাকর অবস্থায় শ্বাস নিতে হয়। গাড়ি যারা চালান তাদেরও একই অবস্থা। বাঁশ ও মালবোঝাই ট্রাকসহ বিবিধ কারণে এই জট হয়। তার মধ্যে একটি হলো কোনো গাড়ি মাঝপথে বিকল হয়ে যাওয়া। বিকল গাড়ি চটজলদি সারিয়ে নেওয়ার কোনো প্রথা-পদ্ধতি নেই। ভাগ্য ভাল হলে যন্ত্রণা দুর হয় দ্রুত। নইলে নিজের কপাল নিজেই চাপড়ান। উখিয়ার নিত্যদিনের ঘটনা তীব্র যানজট। স্থানীয় কুতুপালং এলাকার ডাক্তার মুজিব জানান, গতকাল ব্যক্তিগত কাজে আমি কক্সবাজার গিয়েছিলাম। সেখানে প্রতিমধ্যে ৫ টি পুলিশ চেক পোষ্টে আমাকে ৫ বারই জাতীয় পরিচয় পত্র দেখাতে হয়েছে। এটি বিরক্তকর অবস্থা। এমনিতে ১ ঘন্টার জায়গায় পৌঁছতে আমাদের সময় লাগে তিন ঘন্টা। একদিকে পুলিশি হয়রানি অন্যদিকে গাড়ি বিকল হয়ে পড়াজনিত যানজট। চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয় পড়ুয়া কোটবাজার রত্না এলাকার এডভোকেট তোফায়েলের পুত্র সালমান নাদির জানান, আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে কক্সবাজারে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলাম।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজু ব্রিজ এলাকায় বিডিআরের চেক পোষ্টে আমার বোনকে নামিয়ে ফেলে। ভেতরে ঢুকিয়ে বিডিআরের মহিলা সদস্যদের দিয়ে চেক করেন। আমার কোনো অনুরোধ সেদিন বিডিআর জোয়ানরা রাখেননি। যা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়। এসব বলারও কেউ নেই।

ধুলাবালিতে অতিষ্ট উখিয়ার মানুষ। শনিবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে কোটবাজার এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন শাহিদ আবির।
এসব হয়রানির পাশাপাশি তিনি আরও জানান, রাস্তায় বের হলে প্রচন্ড ধুলোবালি, বালুখালী কাষ্টম এলাকায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ে দালালদের দৌরাত্ন, টাকা আদায় নিয়ে চালকদের সঙ্গে দালালের বাকবিতন্ডা, কিছু প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস উল্টোপথে চলা, এনজিওর কিছু গাড়ির ওভার-টেকিং, সড়কে টমটমসহ বিবিন্ন গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানো। সড়কে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের চালক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে নিস্তার মেলে। এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের গাড়ি চালকরা বেপরোয়া হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে দুর্রঘটনা। প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। আহত হয়ে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। টাকার অভাবে কেউ কেউ আবার মৃত্যুর পথযাত্রী। পাশাপাশি সড়কজুড়ে ফিটনেসবিহীন ও নিষিদ্ধ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার যাত্রী।