করোনা পরবর্তী বিশ্ব: মুক্তিযুদ্ধ, প্রজন্ম ও আদর্শযোগ-২

আজিজ কাজল

আমরা এখন ফোরজি ছাড়িয়ে ফাইভ জি পৃথিবীর যুগে এসে পড়েছি। সবকিছুই দ্রুতগতিতে চলছে। এই নেটওয়ার্ক সিস্টেম মানুষের মনোজগতে এক ধরনের অস্থিরতা ও নেতিবাচকতাও তৈরি করছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। কথায় বলে, বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ কেড়ে নিয়েছে আবেগ- আপনি কত ভাবে কত রঙ্গে দৌঁড়াতে পারেন? সবকিছুর একটা লাগাম আছে। এই ফোরজি সিস্টেমকে (অথবা ফাইভ জি) আমাদের নিজেদের লাগামে নিয়ে আসা উচিত। কেননা আমাদেরও আছে নিজস্ব গতি, নিজস্ব লাগাম। নিজেদের হাজার বছরের আচরণের
মৌলিক বিষয়-ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর মূল্যবোধের অবকাঠামোগত ভীতের উপর দাঁড়াতে পারাটাই যথার্থ। আরেকটি বিষয় হলো নিজেদের পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রতিবেশকে সচেতনভাবে ধরতে ও বুঝতে পারা। আপনারা দেখবেন আমাদের দেশের পণ্যায়িত অনেকগুলো বিজ্ঞাপন, নিজেদের পরিবেশ আর প্রতিবেশের ভেতরেই দাঁড়িয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যেমন ধরুন, প্রকৃতির খুব নাজুক সৌন্দর্যকেও ক্যামেরার কারুকাজ-শৈলির নৈপুন্যে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা যায়। আমাদের ঐতিহ্যবাহী গরুর লড়াই, বলি খেলা, কাবাডি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত যাত্রাপালা, হঁলা, মঞ্চনাটকসহ অনেক কিছুই বিখ্যাত হয়ে ওঠতে পারে। যেকোন মুহূর্তে অজপাড়া গাঁয়ে ঘটে যাওয়া সামান্য একটা আটপেড়ে অনুষ্ঠানও বিশ্বখ্যাত হতে পারে। আমাদের নিজস্ব আবেগ, কাহিনি, ঘটনা বা কস্টিউমের ভেতর দিয়েই যদি এই উপস্থাপনগুলো ভিন্নতা পায়; খুব সহজে বহির্বিশ্বের সাথে আরও নানা পার্থক্য হতেই পারে। এজন্যইতো ভিনদেশীরা আমাদের নিখাদ মৃত্তিকালগ্ন—মরমী শিল্পী, পালমশাই, কামার-কুমার-হাঁড়ি-পাতিলসহ অনেক অনন্য সৃষ্টি ও ব্যক্তিত্ব তাদের গবেষণার বিষয়। আমাদের হাজার বছরের মৃত্তিকালগ্ন
জীবন বা ল্যাম্পকেন্দ্রীক জীবন; বাঁশ ঝাড়ের ভেতর পক্ষীদের আওয়াজ, শেয়ালের হাঁক, কেচ্ছা-পালা, ভূতুড়েপনা সহ আছে কত শত মিথ আর কিংবদন্তি। বাংলার খনা শাস্ত্রেই আছে এরকম (প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নেয়া, আবহমান লৌকিক আচরণের) অনেক সোনালু ভাণ্ডের আকর।

এই শাস্ত্র বাংলা ছাড়িয়ে একেবারে উড়িষ্যা, আসাম, বিহার, নেপাল, তিব্বতসহ ভারত-বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে এখনো নানাভাবে সমাদৃত। ঠিক এইভাবে নিজেদের সমূহ বিষয়গুলো তৈরি হওয়ার নানামুখি সম্ভাবনা, উপায় ও কৌশল আরও বেশি করে সৃষ্টি হচ্ছে। এই পলিময় দেশের ভাটিয়ালী-ভাওয়াইয়া-আঞ্চলিক গান—পীর-ফকির-দরবেশ-বাউল-পাগলা-ক্ষ্যাপা থেকে শুরু করে জটাধারি ঋষি, এমনকি বৈদ্য-ওঝারাও নিজেদের চুলের ভেতর তাদের অধ্যাত্ম-আধ্যাত্মকে ধারণ করে। এদের ভেতরেই আছে কত ইশারা, ভঙ্গি, কাহিনি ও মাটিগন্ধের তাজ। সুতরাং তারাও নিজস্ব বৈচিত্র্যে অনন্য ও সৌন্দর্যময় হয়ে  ঠছে। তরুণ প্রজন্মের কাছেও এর প্রতি দারুণ আগ্রহ বাড়ছে।

বাংলার মরমী শিল্পী এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিবিধ বিষয়গুলো নানা চ্যানেলেও সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে। এভাবে মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের হাজার বছরের উপেক্ষিত এবং অনুভবের বিষয়গুলো বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। বর্তমানে পোশাক শিল্প-ওষুধ-মৎস্য-আদরনীয় শাড়ি, বেতের পাটিসহ রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আইটেম।মৃতপ্রায় সেই সোনালি আঁশ পাটেরও সুদিন ফিরে এসেছে। কথা হচ্ছে প্রশাসনিক পর্যায়ে এ বিষয়ে আরও নজরদারি বাড়ানো। একে সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া। প্রান্তিক পর্যায়ে নজর দিয়ে, বহুমুখী সম্ভাবনার মাটিজাত এইসব শিল্প ও শিল্পীকে দেশের মূলধারার অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করা। বিজ্ঞানসম্মত করা। বেসরকারী পর্যায়েও শ্রমিকবান্ধব কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এভাবে সব ধরনের বিষয়গুলো
একত্রীকরণ করে নিজেদের ভেতর আরও স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য আনতে পারি। দিতে পারি শিল্পমর্যাদা।

উপর্যুক্ত আলোচনার উল্লেখযোগ্য পরম্পরা থেকে-আজ দু’টা অনিবার্য বিষয় নিয়েই কথা বলতে চাই।
তা হলো, একটি স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম ও একজন আদর্শ।

একটি সুন্দর স্বনির্ভর দেশ গঠনে আগে দরকার স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম। এবং সেই সাথে দরকার জাতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসহ নিজেদের একজন আদর্শকে (আইকন বা আইডলকে) সংশয়হীনভাবে সামনে রাখার সৎ সাহস। উদাহরণ হিসেবে তুর্কি জাতির কথা বলতে পারি। তুর্কিরা এমন একটি জাতি, যারা খাওয়া-দাওয়া-রুচি স্বভাবে এক রোখা এবং স্বতন্ত্র। জাতি হিসেবে তারা নিজেদের বিশুদ্ধ তুর্কিই ভাবতে পছন্দ করে। ১৯১৫ সালে প্রায় ১৫ লক্ষ জাতিকে হত্যা করে অটোমান সাম্রাজ্য তাদের জাতপাতের একক আধিপত্য সহ নানাভাবে নিজেদের বীরত্বের প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করে। জাতপাতের বেলায় প্রজন্মরা নিজেদের কুলবংশ ঘেঁটে নিজেদের পরিচয়টুকু ঠিকই জেনে নেয়। এই জায়গায় আমাদের অবস্থান কী? আমরাও তো জাতি হিসেবে স্বতন্ত্র এবং আলাদা। যারা নিজের ভাষার জন্য লড়াই করেছে। একটি স্বাধীন দেশের জন্য লড়াই করেছে। সুতরাং আমরা হচ্ছি একটি ভাষাদেশ তথা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে একটাই জাতি। কাছের প্রতিবেশী দেশ ভারত হচ্ছে বহু জাতি এবং রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে (মতান্তরে) এক ভাষা। আর আমরা হচ্ছি একটাই জাতি এবং রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে এক ভাষা।

অন্যদিকে সুস্বাস্থ্য যেমন একটি জাতিকে আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী, প্রাণবন্ত উচ্ছ্বল করতে পারে; তেমনি একজন মহান আদর্শকে সামনে রাখলে—জাতি হিসেবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার মধ্য দিয়েও বড় একটা স্বার্থকতা তৈরি হতে পারে। যে স্বার্থকতাজাতীয়ভাবে হীনম্মন্য হওয়া থেকে বাঁচাবে। নিজেদের আত্মপরিচয় দেয়ার ক্ষেত্রেও শতো বৈষম্য, দৈন্য এবং অযাচিত কথনের আড়ম্বর থেকেও আমরা বেঁচে যেতে পারি। ফলে স্বাস্থ্য বিষয়ে নিরেট আলোচনার পাশাপাশি খুব সহজেই মহান আদর্শ হিসেবে (অনিবার্যভাবে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর এর নাম আনতেই পারি।

শুধু কেতাবি পড়াশুনা আর আবেগ দিয়ে সবকিছু বিচার করা ঠিক নয়। কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়, নিজেদের আইডেনটিটি বা আত্মমর্যাদার স্বার্থে। কেননা এই ভীত থেকেই আসে একটা দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা। দেশপ্রেম। নিজেকে স্বজাত বা স্বজাতিভাবার আত্মপ্রত্যয়। গভীর আত্মবিশ্বাস। একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি কখনোই রুট বা নিজের শেকড়কে অস্বীকার করতে পারেন না। এই বিশ্বাসের পূর্বশর্ত হওয়া উচিত নিজেদের সুস্বাস্থ্যের অনিবার্যতা স্বীকার করা এবং একজন মহান আদর্শ বা আইকনের অনিবার্যতা স্বীকার করা। আমরা প্রায়শ বলি,বাঙালিরা হচ্ছে অভিযোগ কারি, অলসপ্রিয় ও ফাঁকিবাজ। এর আরেকটা বড় কারণ স্বাস্থ্যহীনতা। এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এর বক্তব্য কালের বিচারে অনেক অর্থবহ মনে হয়। তিনি বলছেন—”আমি দীর্ঘদিন জ্ঞানান্দোলনের জন্যে কাজকরেছি। এখন একেক সময় মনে হয় জ্ঞানান্দোলনের জন্য সময় না দিয়ে আমি যদি স্বাস্থ্য আন্দোলনের জন্য সময় দিতাম তা হত ঢেরভালো। আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যকে ভালো করে তুলতেই হবে…
জনপ্রিয় স্বাস্থ্য আন্দোলনের মাধ্যমেও এটা হতে পারে। বেশি না, প্রতিটি মানুষকে মাত্র দশমিনিট নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চার মধ্যে আনতে পারলেও আমাদের অবস্থার উন্নতি হবার সম্ভাবনা আছে। হ্যাঁ মাত্রদশমিনিটের ফ্রি হ্যান্ড একসারসাইজ, জগিং বা টেবিলটেনিস বা শরীরচর্চা জাতীয় খেলা। এটুকু করলেও শরীর হৃদয় তাজা বা ঝরঝরে হয়ে ওঠতে পারে, জীবনদৃষ্টি অনেকটাই ইতিবাচক হয়ে ওঠতে পারে”। [গ্রন্থ: ‘কথোকথন’,  সাক্ষাৎকার সংকলন এর ‘বর্ণিল বারান্দা’ সাক্ষাৎকার]।

অনেক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যখন ঘন ঘন হারতে থাকে, তখন বলি অসচেতন অপুষ্ট বাঙালি, শরীরের এইগঠন দিয়ে কদ্দুরইবা যেতে পারবে! কিন্তু এ কথাই শেষ নয়। নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।” তেমনি তার মূল বক্তব্যকে একটু ঘুরিয়ে বলতে পারি, আমাকে একজন স্বাস্থ্যবান মানুষ দাও, আমি তোমাদের স্বনির্ভর ও সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দেবো।

জলবায়ু, আবহাওয়াসহ খাওয়া-দাওয়া-চলাফেরা-রুচি অভ্যাসে এখনো অনেক বেশি অসচেতন ও অপুষ্টির দেশ এই বাংলাদেশ। তুলনামূলকভাবে আমাদের অর্থ বিত্ত বা ঐশ্বর্য হয়েছে; সমানুপাতিক হারে (শিক্ষাসহ) স্বাস্থ্য হয়নি। বিশাল বিত্তবান, বনেদি, শিক্ষিতপরিবার থেকে শুরু করে একেবারে নিম্নবিত্ত সবার মধ্যেই (কমবেশি) আছে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় অসচেতনতা। দেখা যায়, বড় বড় বিত্তবানেরা প্রায়শ চেন্নাই ব্যাঙ্গালোর থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ইত্যাদি দেশে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচকরে চিকিৎসা নেয়। অথচ একটু স্বাস্থ্যজ্ঞান থাকলে,একটু সচেতন হলে, আপনি নিজেই অনেক অসুখ বিসুখকে ঝেটিয়ে বিদায় করতেপারেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় কোন সেবা, সচেতন উদ্যোগ হাতে নিলে,গরীব-দু:খী খেটে খাওয়া মানুষেরা অল্প বয়সে মারাত্মক অনেক অসুস্থতা থেকে বেঁচে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতন এই উদ্যোগের সুফল শুধু তারাও পাবে না  নিচু থেকে ওপর তলার সবাই এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

আমি খুব বেশি তত্ত্ব হাজির করতে চাই না।অনিবার্য এবং মৌলিক বিষয় নিয়েই কথা বলতে চাইছি; আমরা জানি দ্বিজাতিতত্ত্ব’র মতো প্রতিক্রিয়াশীল ফর্মুলার ভেতর দিয়ে সাতচল্লিশের দেশভাগ, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, সর্বোপরি এরধারাবাহিকতায় এসেছে মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধে মহাকাব্যিক অনন্য ভাষণে বাঙালি জাতিকে যিনি জাগাতে চেয়েছেন, তিনি হচ্ছে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সুতরাং একবিংশ শতাব্দীর এই স্তরে দাঁড়িয়ে আমাকে চিনতে হবে, স্বভাষা তথা স্বজাতির মহান পুরুষকে। তাই নেপোলিয়ান এর উপর্যুক্ত সেই উক্তির মর্মার্থকে (স্বজাত চিন্তায়) আবারও একটু ঘুরিয়ে বলতে পারি, আমাকে একজনআদর্শ দাও। আমি তোমাদের জাতিচিহ্নিত কারি স্বনির্ভর একটি দেশ উপহার দেবো (কেননা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সবাইকে একটি প্লাটফর্মে আস্তে হলে এ ছাড়া বিকল্প নেই)। যে আইকনের আদর্শ বুকে ধারণ করে, একটি স্বনির্ভর দেশকে চিহ্নিত করতে পারি। কেননা বঙ্গবন্ধু এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যার মগজে মননে, স্বদেশ চেতনার ধ্যান, চিন্তা, স্বপ্ন ও সাধনার মধ্যেই ছিল বিশালতার বড় ছাপ। প্রমাণস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর একটি অন্যতমউক্তি যেমন—”একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি, একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙ্গালিদের সাথে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি ওঅস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।”[অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ৩ মে ১৯৭৩] সুতরাং সার্বিক বিচারে এত্তোসব ইতিবাচকতা আর ঔচিত্যবোধের যুক্তিতে অবশ্য-কর্তব্য—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করা।

বহির্বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও চারটি রোগ (নানা অসুখ বিসুখের সাথে) মারাত্মক আকার ধারণ করছে—ডায়বেটিস, কিডনি, ক্যান্সার ও হৃদরোগ। যার অর্ধেক রোগ মনুষ্য সৃষ্ট বা অসচেতনতার। সুতরাং আমাদের বিভিন্ন সময়ের প্রজন্মের (আগত অনাগতসহ) নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে চাইলে, স্বাস্থ্য সচেতনতার
অনিবার্য বিষয়গুলো মাথায় রাখতেই হবে। পাশাপাশি নিজের দেশ, হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ইতিহাস ঐতিহ্য মূল্যবোধসহ জাতির  এই ঘোর দুর্দিনে, নিজের শেকড়- অস্তিত্বের দিকেও আমাদের চোখ ফেরাতে হবে। এবং থাকতে হবে একটি জাতির—তাদের আদর্শকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা বা তার মাহাত্ম্যকে স্বীকার করার সৎ সাহস।

লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক এবং শিক্ষক

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।