আন্তর্জাতিকখেলাধুলা

কার রেসিং প্রতিযোগিতায় সউদী তরুণী রিমা

রিমা জুফালি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, রাইজিং কক্স : সউদী আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো কার রেসিংয়ে নাম লিখিয়েছেন সউদী তরুণী রিমা জুফালি। দেশের প্রথম নারী রেসার হিসেবে ২০১৮ সালে কার ড্রাইভিংয়ে নাম লিখিয়ে রেকর্ড গড়েন রিমা। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণী জাগুয়ার আই-পেস ই ট্রফিতে অংশ নিয়েছেন।

কয়েক মাস আগেই তিনি দেশেই রেসিং কার চালিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। এবার সৌদিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কার রেসিংয়ে অংশ নিতে চলেছেন রিমা জুফালি

কালো ও সবুজ রঙের জাগুয়ার আই-পেসে বসা জুফালি বলেন, গত বছর নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। পেশাগতভাবে এই রেসে অংশ নেয়ার কথা এর আগে কখনো ভাবতেও পারতাম না। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, আমি এখন এমনটা করছি। এটা খুবই চমৎকার একটা সুযোগ।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদারতায় মাত্র গত বছরই গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন সৌদি নারীরা। এরপর থেকে স্টিয়ারিং হাতে রিয়াদ আর জেদ্দার রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বহু সৌদি নারী। এবার রীমা আল জুফালির কল্যাণে সাহসিকতায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সৌদি নারীরা।

জুনে লাইসেন্স পাওয়ার পর গত অক্টোবরেই প্রথম রেসে অংশ নেন রীমা। কলেজে পড়তে পড়তেই ফর্মুলা ওয়ানের প্রতি ঝোঁক বাড়ে তার। তারপর রেসিং কার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। ফর্মুলা কার রেসিং স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।

২৭ বছর বয়সী এই সৌদি তরুণী রাজধানী রিয়াদের কাছে দিরিয়াহ এলাকায় শুক্র ও শনিবার জাগুয়ার আই-পিএসিই ই-ট্রফি সিরিজে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘আমি যে কাজটি করছি তা সত্যিই খুব অসাধারণ। সৌদিতে এত সব পরিবর্তন দেখে অনেক মানুষ অবাক হচ্ছেন।’

জেদ্দা থেকে আসা রীমা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি এই রেসে ভিআইপি অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। নিজের দেশের মাটিতে রেসিং কার চালানো প্রথম নারী তিনি। যদিও এই পেশায় তার অভিজ্ঞতা মাত্র এক বছরের। তবে এখানেই থামতে চান না এই নারী। কারণ গতিই যে তার নেশা।

এ প্রসঙ্গে তরুণী রীমা বলেন, ‘আমাকে রেসিংগাড়ি চালাতে দেখে অনেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তাদের বিস্ময় আমাকে আনন্দ দেয়। আমি আরও অনেক দূর যেতে চাই।’