কুতুবদিয়া

কুতুবদিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে ইপসা’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রাইজিং কক্স ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলের স্থানচ্যুত মানুষের সমস্যা ও ন্যায্যতার স্বপক্ষে অবস্থান গ্রহণে কুতুবদিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার সোস্যাল একশন (ইপসা)।

সোমবার (২২জুলাই) সকাল দশটায় ইপসা’র আয়োজনে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এসিল্যান্ড সুপ্রভাত চাকমা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমবায় অফিসার কামাল পাশা,কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস.কে. লিটন কুতুবী ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক হাছান কুতুবী, অধ্যাপক আওরঙ্গজেব সিকদার, মোঃ রাসেল খাঁন জয়, আবুল কাশেম, মনিরুল ইসলাম, মহি উদ্দিন কুতুবী ও আব্বাস ছিদ্দিকী, দক্ষিণ ধুরুং ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এসময় ইপসার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ৬০ দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে কুতুবদিয়া ত্যাগ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমূদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে উপকূলের নি¤œা ল। নিয়মিত জোয়ার ভাটায় সাগরের গর্ভে বিলীন হচ্ছে মানুষের বাড়ি-ঘর। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জামাই আদরে বাংলাদেশে নিরাপদে বসবাস করলেও এ দ্বীপের স্থ্যানচ্যুত মানুষের খবর রাখেনি কেউ। দ্বীপের বাস্তুহারা মানুষগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন গড়ে তুললেও সেখানকার কোন নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে বাস্তুহারা এসব মানুষ জীবীকার তাগিদে অন্যত্রে আবাস স্থান তৈরি হলে কর্মহীন হয়ে পড়ছে। এতে তারা হারাচ্ছে মৌলিক নাগরিক অধিকার।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, এ দ্বীপের মানুষ স্থানচ্যুত হতে চায় না। তারা রিলিফও চায় না। তারা একটা স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ চায়। দ্বীপের চর্তুর পাশে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নিশ্চিত করতে পারলে এ জনপদের মানুষকে আর স্থানচ্যুত হতে হবে না। বিগত কয়েক বছর আগে কুতুবদিয়ার স্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য বর্তমান সরকার প্রায় একশ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। যে কারনে হতাশার চাপা ক্ষোভ জমে রয়েছে দ্বীপের মানুষের মনে।