খেলাধুলাবন্দর নগরী

কুমিল্লাকে হারিয়ে পঞ্চম জয় পেল চট্টগ্রাম

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : বিপিএলের চলতি আসরে দুর্দান্ত খেলছে চট্টগ্রামচ্যালেঞ্জার্স। রংপুর রেঞ্জার্স, সিলেট থান্ডার্স, ঢাকার প্লাটুনের পর শুক্রবার হারালকুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে। এনিয়ে টানা চার ম্যাচে ধারাবাহিকজয় পেয়েছে ইমরুল কায়েসদের চট্টগ্রাম।

শুক্রবার কুমিল্লারবিপক্ষে ৪ উইকেটে বিপিএলর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩৮ রানের রেকর্ডগড়ে ১৬ রানের জয় পায় চট্টগ্রাম। এই জয়েচলতি বিপিএলে৬ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুন্ন রাখল চট্টগ্রাম।

শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বিপিএলের চলমান সপ্তম আসরের ১৪তম ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ২৩৮ রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন চাদউইক ওয়ালটন, ৬২ রান করে ইমরুল কায়েস। এছাড়া ৪৮ রান করেন অভিস্কা ফার্নান্দো। ২৯ রান করেন নুরুল হাসান সোহান।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩২ রানে সৌম্য সরকার, ভানুকা রাজাপকশে ও সাব্বির রহমান রুম্মনের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। এরপর ইয়াসির আলীর সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়েন ডেভিড মালান। ২১ রান করে ইয়াসির আউট হওয়ার পর ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়েন মালান।

তাদের জুটিতেই জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল কুমিল্লা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ৩৮ বলে সাতটি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৪ রান করে মালান আউট হওয়ার পর জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় কুমিল্লার। জয়ের জন্য শেষ দিকে ৩৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৮৭ রান। স্কোর বোর্ডে রান বাড়াতে গিয়ে বিভান্ত হন শানাকা। দলীয় ১৭৯ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন শ্রীলংকান এ তারকা ক্রিকেটার।

ইনিংসের শেষ দিকে আবু হায়দার রনি ও সুমন খানরা ব্যবধান কমালেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। ১৬ রানের জয় পায় চট্টগ্রাম।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২.২ ওভারে দলীয় ২১ রানে ফেরেন চট্টগ্রামের ক্যারিবীয় ওপেনার লেন্ডলন সিমন্স। এরপর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দোকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন ইমরুল কায়েস। পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলীয় ফিফটি রান পূর্ণ করেন কায়েস।

দ্বিতীয় উইকেটে অভিস্কা ফার্নান্দোর সঙ্গে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৫ বলে ফিফটি তুলে নেন কায়েস। ১৩.৩ ওভারে দলীয় ১৩৪ রানে সৌম্যর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন কায়েস। তার আগে ৪১ বলে ৯টি চার ও এক ছক্কায় করেন ৬২ রান।

এরপর মাত্র ৩ বল খেলে ৩ রানে ফেরেন জাতীয় দলে সাবেক হয়ে যাওয়া নাসির হোসেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে নূরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ওয়ালটন। শেষ দিকে মাত্র ৩৪ বল খেলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন ওয়ালটন ও সোহান।

ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে মাত্র ২৭ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় অপরাজিত ৭১ রান করেন চট্টগ্রামের ক্যারিবীয় তারকা ব্যাটসম্যান ওয়ালটন। মাত্র ১৫ বল খেলার সুযোগ পেয়ে ২টি চার ও দুটি ছক্কায় ২৯ রান করেন নুরুল হাসান সোহান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ২৩৮/৪ (ওয়ালটন ৭১*, ইমরুল ৬২, ফার্নান্দো ৪৮, সোহান ২৯*, সিমন্স ১০, নাসির ৩)।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ২২২/৭ (মালান ৮৪, শানাকা ৩৭, আবু হায়দার ২৮ ইয়াসির আলী ২১, সৌম্য ১৫)।

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৬ রানে জয়ী।