ক্যারিবিয়ানদের বাংলাওয়াশ করল টাইগাররা

বাংলাওয়াশের পর বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : জিততে হলে বড় বিপ্লব ঘটাতে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপকে। বাংলাদেশের ক্ষুরধার বোলিংয়ের সামনে পুরো সিরিজেই ভুগতে থাকা ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপ সেটা করতে পারেনি। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ২৯৭ রানের জবাব দিতে নেমে ১৭৭ রানেই গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফলে ১২০ রানের বড় জয় নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিও জিতেছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ২৯৭ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই মোস্তাফিজ তোপের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাটার, স্লোয়ারে বিশ্ব মাতানো মোস্তাফিজ আগে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে বল ভেতরে ঢুকাতে এবং বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে বল বাহির করে নিতে পারতেন না। বাঁহাতি পেসারদের জন্য এটা বড় এক অস্ত্রো। এই গুণ না থাকার কারণে ব্যাটসম্যানরা সহজে পড়তেও পারছিলেন মোস্তাফিজকে। কিছুদিন আগে বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের তত্বাবধানে এই অস্ত্রো আয়ত্বের কাজ শুরু করেন মোস্তাফিজ। চলতি সিরিজে তার বোলিং দেখে মনে হচ্ছে এটা শিখে গেছেন তরুণ তারকা পেসার।

সিরিজের আগের দুই ওয়ানডেতেও এই নতুন অস্ত্রে উইকেট পেয়েছেন তিনি। আজ প্রথম দুই উইকেটই পাওয়া এই অস্ত্রে। ইনিংসর দ্বিতীয় ওভারে তার বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ওপেনার কেজর্ন ওটেলি।

ষষ্ঠ ওভারে তারকা ওপেনার সুনিল আমব্রিসও সেভাবেই ফিরেছেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান আমব্রিসের জন্য বল ভেতরে ঢুকিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তার জবাব দিতে না পেরে এলবিডব্লিউ ক্যারিবিয়ান ওপেনার। পরে কাইল মায়ারকে ফিরিয়েছেন মিরাজ।

এরপর শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদকে নিয়ে প্রতিরোধের একটা আভাস দিচ্ছিলেন নক্রমাহ বোনার। কিন্তু দুই ম্যাচ পর একাদশে সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রতিরোধটা আর বড় করতে দেননি। দুই ওভারে এই দুজনকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ানদের ওপর আবারও চাপ বাড়িয়েছেন তরুণ পেস অলরাউন্ডার। তার পরপরই মেহেদি হাসান মিরাজ জেমার হ্যামিল্টনকে ফেরালে বিপদ আরও বাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

সাকিব আল হাসান ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। তার জায়গায় বোলিং করতে এসে শেষ দিকে উইকেট পেয়েছেন সৌম্য সরকার। সাইফউদ্দিন শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন তিন উইকেট। ৯ ওভার বোলিং করে ৫১ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন সাইফ।

মিরাজ ১০ ওভার বোলিং করে ১৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন। মোস্তাফিজ ৬ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ৮.২ ওভারে ৩২ রানে একটি ও সৌম্য সরকার ৩.১ ওভারে ২২ রানে ১টি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফিফটিতে ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ।

সিরিজজুড়ে ব্যাট-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সিরিজ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। 

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।