চকরিয়ায় সুদের টাকার জন্য গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

সুদের টাকার জন্য গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

এম. মনছুর আলম, চকরিয়া : কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুদের টাকার জন্য নূর আয়েশা বেগম (৩০) নামের এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়ে যায়। নির্যাতনের এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত শওকত আলম পালাতক হলেও তার পিতাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বড়ইতলী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডস্থ হাফালিয়া কাটা সবুজ পাড়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

বড়ইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, উপজেলার বড়ইতলী ইউনিয়নের হাফালিয়া কাটা এলাকার আলী হোসেনের স্ত্রী নূর আয়েশা অভাবের তাড়নায় একই এলাকার জহির আহমদের ছেলে শওকত আলমের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ঋন নেন। আয়েশা ইতিমধ্যে চার হাজার টাকার অনূকূলে ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরেও আরো দুই হাজার টাকার জন্য চাপ দেয় শওকত আলম। নূর আয়েশা দুই হাজার টাকা দিতে না পারায় মঙ্গলবার বিকেলের দিকে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শওকত আলম গাছের সাথে বেঁধে মারাত্মক ভাবে প্রহার করে নির্যাতন করে।

ঘটনার বিষয়টি বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি অবগত হয়ে ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হলে বুধবার দুপুরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নূর আয়েশা ও শওকতের পিতা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হারবাং পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মাহতাব উর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শওকতের পিতা জহির আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নূর আয়েশা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জহিরকে অভিযুক্ত করা হলে তাকেও আটক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত শওকত পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের টিম তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।