চট্টগ্রামে শিশু মীমকে ধর্ষণের পর হত্যায় ৮ জনের ফাঁসি

রাইজিং কক্স ডেস্ক : চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. জামিউল হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম এ নাসের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মঈনুল ইসলাম (৪৯), মো. বেলাল হোসেন (২৩), মো. রবিউল ইসলাম (১৯), হাসিবুল ইসলাম (২৬), মো. আকসান মিয়া (১৮), সুজন (২০), মো. মেহেরাজ (৩২) ও শাহাদাৎ হোসেন (১৯)। এম এ নাসের জানান, মীম হত্যা মামলায় ৮ আসামির সবাইকে ফাঁসির আদেশ ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় ৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে শাহাদাৎ হোসেন পলাতক রয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের ২১শে জানুয়ারি আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনির মমতাজ ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির পাশ থেকে শিশু মীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে পরদিন ২২শে জানুয়ারি আকবর শাহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই বছরের ২৫শে জানুয়ারি মামলার পাঁচ আসামি মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া ওরফে হাসান (১৮) ও মো. সুজন (২০) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসাইনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সে সময় পুলিশ জানায়, মায়ের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মায়ের সঙ্গে বেলাল হোসেন বিজয়ের মায়ের বিরোধ ছিল। তার জেরেই বিজয় অন্য আসামিদের যোগসাজশে তাকে তুলে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ মামলায় আদালত ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে। মীম আকবর শাহ এলাকার ফাতেমাতুজ জোহরা হেফজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মো. জামাল উদ্দিন ওয়াশিং মেশিনে কাজ করেন। তাদের বাসা আকবর শাহ এলাকার কনকর্ড সী-ওয়ার্ল্ডের রাজা কাশেমের কলোনিতে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।