পর্যটনসারাদেশ

চট্টগ্রামে হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক

শুকলাল দাশ : পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘর সংলগ্ন প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। পাহাড়-সমতল ঘেরা মনোরম পরিবেশে শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এই পার্কটি নির্মাণ করছে। রেলওয়ের প্রায় দুই একর জায়গা জুড়ে অনেকটা ডিসি হিলের আদলে পার্কটি গড়ে তুলতে ব্যয় করা হচ্ছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগামী ৩ মাসের মধ্যে পার্কের কাজ শেষ হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পার্কের ডিজাইন ও ড্রয়িং তৈরি করেছে ‘ত্রিমাত্রিক’ ও ‘অ্যাডিপিস’ নামের দুটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তাদের ডিজাইনেই পার্কের নির্মাণ কাজ চলছে। পার্ক তৈরির উপ-প্রকল্প পরিচালক ও চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব গতকাল আজাদীকে জানান, ডিসি হিলের আদলে পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘরের নিচে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক। এ পার্ক তৈরি হলে শিশুদের বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পার্কটিতে স্থানীয় লোকজনের আনন্দ-বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি জানান, পার্কে কিডস্‌ জোন, শিশুদের জন্য হাতি-ঘোড়ার রেপ্লিকা ও রাইডসহ খেলনা সামগ্রী, স্মৃতিসৌধ, মুক্তমঞ্চ, গ্যালারি, দর্শনার্থীদের বসার জায়গা, রেস্টুরেন্ট, শহীদ মিনার, শেখ রাসেলের আবক্ষ মূর্তি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকের বক্তব্য প্রদর্শন এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার সুযোগ থাকবে। আবু সাদাত মো. তৈয়ব বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন এখানে একটি পার্ক করার জন্য মেয়রকে বলেছিলেন। পরবর্তীতে উনার প্রস্তাবে আমরা ডিডিপি তৈরির সময় পার্ক নির্মাণের প্রকল্পটি সংযুক্ত করেছিলাম। একনেকে অনুমোদন হওয়া চসিকের ১২০ কোটি টাকার বিভিন্ন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পার্কের অর্থায়ন হচ্ছে। এই জায়গাটির মালিক রেলওয়ে। পার্কটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘরসহ এই জায়গার দেখাভাল করার দায়িত্ব রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ তরুণ কান্তি বালার। এ ব্যাপারে গতকাল তিনি আজাদীকে বলেন, ‘জায়গাটি রেলওয়ের। তবে সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় জনগণের জন্য পার্ক তৈরি করছে। এখানে বসার জন্য পার্ক করলে তেমন অসুবিধা হবে না। এলাকার মানুষ আনন্দ-বিনোদনের সুবিধা পাবে। স্থানীয় এমপি ও কাউন্সিলরের উপর এলাকার মানুষের প্রতি কিছুটা দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই পার্কটি নির্মিত হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে ডিভিশনের অধীনে এই প্রকল্পের কাজ চলছে সেই ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন আজাদীকে জানান, এই পার্কটি নির্মাণে রেলওয়ে থেকে মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি হলে আরো বড় প্রকল্প নেওয়া হবে। শিশুপার্কের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের জন্য বড় একটি মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। যাতে সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়। এই মঞ্চে ৮শ’ থেকে ১ হাজারের মতো দর্শনার্থী বসতে পারবেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়তলী রেলওয়ে জাদুঘরসহ আশপাশের পুরো এলাকাটি প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত। সবুজের সমারোহে সাজানো-গোছানো এই এলাকাটি যে কাউকে ক্ষণিকের জন্য প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে বাধ্য করবে। পাহাড়ের উপর শতাব্দীর পুরনো রেলওয়ে জাদুঘর এবং তার নিচে এক টুকরো সমতল। তাও হালকা উঁচু-নিচু। পাহাড়ে গাছ-গাছালি, সমতলে সবুজ ঘাস। পাখির কিচির-মিচির শব্দ যেন প্রকৃতির নিজহাতে সাজানো শিল্পীর আঁকা চিত্র আর নকশাকারীর সুনিপুণ স্থাপত্যশিল্প। নয়নাভিরাম এমন দৃশ্যের মাঝখানে নির্মিত হচ্ছে শিশুপার্ক এবং বিনোদন প্রেমিদের বসার স্থান। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত গ্যালারি।

গতকাল সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন আব্দুল মতিন পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেয়ালের কারণে যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া পার্কটি যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র না হয় সে ব্যাপারে রাস্তার পাশে পার্কের দেয়াল দেড়-দুই ফুটের বেশি উঁচু না করার অনুরোধ জানান।