লাইফস্টাইল

চাকরির ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

প্রতিকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক, রাইজিং কক্স : বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে একটি পছন্দমত চাকরি যেন সোনার হরিন। অনেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেও চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছেন, অনেকে আবার চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়ে লিখিত পরীক্ষাও দেন এরপর ভাইভা বা ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বাদ পরে যান। সফলতার প্রথম ধাপই হলো ইন্টারভিউ। এক কথায় বলতে গেলে কর্মজীবনের প্রথম সিঁড়ি এটি। ইন্টারভিউ বোর্ড হচ্ছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের অন্যতম স্থান। ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে প্রার্থীকে নানাভাবে পরখ করা হয়। আপনি যে পেশার জন্যই ইন্টারভিউ দিতে যান না কেন সেই পেশার জন্য আপনি কতটা উপযোগী তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এক বা একাধিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত থাকবেন। তাদের প্রশ্নের মুখে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থীই টেনশনে পাকিয়ে ফেলেন তালগোল। এই টেনশন দূর করার জন্য নিজেকে আগে থেকেই কিছুটা প্রস্তুত করতে হবে। চলুন ইন্টারভিউ এর পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে নিই…

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানুন :

আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিন। প্রতিষ্ঠানের ধরন, বর্তমান অবস্থা, প্রতিষ্ঠাকাল, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রাপ্তি সম্পর্কে জেনে নিন। এ সকল বিষয় জানা থাকলে ইন্টারভিউ এর সময় অনেক প্রশ্নেরই যথাযথ উত্তর আপনি দিতে সক্ষম হবেন।

প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানুন :

ইন্টারভিউ এর সময় উক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য সম্পর্কে আপনার ধারণা জানতে চাইতেই পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি পণ্য ব্যবহার না করেন তাহলে পণ্যের ভালো দিক ও খারাপ দিক সম্পর্কে বলতে পারবেন না। তাই পণ্য ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি সহজেই ভালো মন্দের পার্থক্য তুলে ধরতে পারবেন, যা সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর কাছে আপনার একটি শক্ত অবস্থান সৃষ্টি করবে।

পোশাকের প্রতি যত্নশীল হন :

কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। প্রতিটি নিয়োগকর্তাই চায় তার প্রতিষ্ঠানে মার্জিত পোশাক, সময়ানুবর্তী, সুবচন, ইতিবাচক আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে। আর আপনার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার প্রথম মাধ্যমই আপনার পোশাক। তাই আগে থেকেই ইন্টারভিউ বোর্ডে কোন পোশাক পরে উপস্থিত হবেন তা নির্ধারণ করে রাখুন।

পদের সাথে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলনা করুন:

আপনি যে পদটির জন্য ইন্টারভিউ দিবেন সে পদটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে তুলনা করুন। এর মাধ্যমে কাজটির জন্য আপনি কতোটা যোগ্য ও প্রস্তুত ইন্টারভিউ বোর্ডে তা আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রমাণ করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন :

ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে একটি ফাইলে রাখুন। কী কী কাগজপত্র নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে তা উল্লেখ করা না থাকলে সাধারণ কাগজপত্র যেমন- সকল সার্টিফিকেট, পূর্ব কর্মের নমুনা, ছবি, সিভি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন।

কিছু প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে রাখুন :

ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হলেই কিছু সাধারণ প্রশ্ন করে থাকেন নিয়োগকর্তারা। এসব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে-

নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন?
বর্তমানে কি করছেন?
আপনি কত দিন ধরে চাকরি করছেন?
আপনি কেন এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে ইচ্ছুক ?
আপনি কত টাকা বেতন পেলে খুশি হবেন /?
আপনার জীবনের লক্ষ্য কী ?
আপনার কিছু ভালো গুণ বলুন?
আপনার কিছু খারাপ দিক বলুন?
আপনার দুর্বলতা কী ?
এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে এই প্রতিষ্ঠানকে আপনি কোথায় দেখতে চান?
এছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারেন নিয়োগকর্তা। তবে এই প্রশ্নের উত্তরগুলো জানা থাকলে আপনি নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

যা এড়িয়ে চলবেন :

যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়া ইন্টাভিউতে বসা। যা খুশি পোশাক পরা। বেশি আগে বা পরে ইন্টারভিউ হলে উপস্থিত হওয়া। আগের কোম্পানির বস কিংবা ম্যানেজারের নামে বদনাম করা। অস্পষ্ট বা কোনোরকম অশালীন ভাষা ব্যবহার করা।

ইন্টারভিউ শেষে কখনোই জানতে চাবেন না চাকরিটি আপনার হবে কি হবে না, তাহলে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীরা একে আপনার দুর্বলতা হিসেবে নিবে। সব মিলিয়ে ঠিকমতো পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিলে পৃথিবীর কঠিন থেকে কঠিনতম ইন্টারভিউ টপকানো অসম্ভব নয়। ইতিবাচক মনোভাব এবং আশাবাদী থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে কয়েকটা পরীক্ষায় পর্যায়ক্রমে সাফল্যের সাথে কৃতকার্য হয়েই কেবল ইন্টারভিউতে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। তাই আমাদের উচিৎ ইন্টারভিউতে সাফল্য দেখিয়ে চাকরি পাওয়ার শেষ পদক্ষেপও কৃতিত্বের সাথে উতরে যাওয়া।