ছাত্রলীগের কেউ মনে রাখেনি সুজন বড়ুয়াকে

রাইজিং কক্স : কক্সবাজারে বর্তমান ছাত্রলীগ যারা করে তারা সাদ্দাম-মারুফের স্লোগানে মুখরিত করছে কক্সবাজারের রাজপথ। তাদের অনেকের কাছে ইসতিয়াক-রাশেদ-তানিমও এখনো আইডল। আলী-তাহেরকেও অনেকে অনুসরভ করে। আর নুরুল আজিম কনক মানেইতো কক্সবাজার ছাত্রলীগের ওস্তাদ। এর আগের কমিটিতে কারা ছিলো তা বর্তমান সময়ের অনেকেই জানে না। আর সুজন বড়ুয়া সম্পর্কে যদি কক্সবাজারের বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের কাছে জিঙ্গেস করেন, তাহলে অবাক হয়ে আপনার দিকে চেয়ে থাকবে। প্রতি-উত্তরে আপনার কাছেই জানতে চাইবে এইটা আবার কে? এই নামেতো কক্সবাজারে ছাত্রলীগে কেউ নাই।
সুজন বড়ুয়া নামটি বর্তমান সময়ে ককক্সবাজারের ছাত্রলীগের অনেকের কাছে অজানা। কিছু সংখ্যক নেতা কর্মী সুজন বড়ুয়া নামটি জানলেও, বর্তমান ছাত্রলীগের অনেক নেতা সুজন বড়ুয়াকে চিনেনইনা। কিন্তু পর্যটন কক্সবাজারে ছাত্রলীগ করতে গিয়ে একজনই নির্মম ভাবে নিহত হয়েছিলেন সুজন বড়ুয়ার। বন্ধু সুজন বড়ুয়া ছিলো কক্সবাজার ছাত্রলীগের অন্যতম ফ্রন্ট লাইন ফাইটার। সুজন বড়ুয়া, সোহেল বড়ুয়া, সালাউদ্দিন, মানিক, কল্যানরা ছাত্রলীগের মিছিলে না থাকলে ভয়ই লাগতো। কারন তারা মিছিলে থাকা মানেই ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে একটি দেয়াল থাকা। সেই দেয়াল ভেদ করার সাহস সেই সময়ে কারো ছিলোনা। আর এর পেছনেতো থাকতো ছাত্রনেতা ডালিম বড়ুয়া, খালেক, ইমরান, নুর আল, জাফর, অপু, মুবিন, লুদু, তাহের ভাইদের নিয়ে গড়া কক্সবাজার ছাত্রলীগের প্রাচীর।

ছাত্রলীগ ফ্রন্ট লাইনার বন্ধু সুজন বড়ুয়াকে ২০০২ সালের ৬ জানুয়ারী শিবিরের ক্যাডারা ধরে নিয়ে গুলিকরে, কুপিয়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে, আঙ্গুলের নখ তুলে নির্মম ভাবে হত্যা করে পাহাড়ের চুড়া থেকে ফেলে দিয়েছিলো। আজ বন্ধু সুজন বড়ুয়ার ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

কক্সবাজারের ছাত্রলীগের ইতিহাসের সবচেয়ে ত্যাগী এ সাহসী ও নির্যাতিত নামটি হলো ডালিম বড়ুয়া। ডালিম বড়ুয়া ছিলো কক্সবাজারের বিএনপি-জামায়াতের মুল আতংক। ডালিম বড়ুয়ার ছোট ভাই ছিলো আমার কক্সবাজার শহর ছাত্রলীগ নেতা ও ক্রিকেটার সুজন বড়ুয়া।

বর্তমান ছাত্রলীগের কেউ মনে রাখেনি সুজন বড়ুয়াকে। যেই সংগঠনের জন্য নির্মম ভাবে নিহত হয় সুজন বড়ুয়া সেই ছাত্রলীগও তার মৃত্যুবার্ষিকীও ভুলে গেছে বলে মনে করেন যুবলীগ নেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

সুজন হত্যা পরদিন তার বড় ভাই রতন বড়ুয়া বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সুজন হত্যা মামলার কোনদিন খবর নেয়নি কনক-মন্জুর কমিটি থেকে শুরু করে হালের সাদ্দাম-মারুফ কমিটির কেউই । আদালতে ঐ মামলার নথিও পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন সুজন বড়য়ার ভাই কক্সবাজার শহর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক ডালিম বড়ুয়া।
তবে সুজন বড়ুয়াকে মনে রেখেছেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যতোবার কক্সবাজারের ততবারই সুজন বড়ুয়াকে স্মরন করেছেন, তার মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।