ছুটির দিনে বইমেলায় সাহিত্য প্রেমীদের ভীড়

সংগীত শিল্পী ধ্রুব রাসেলের হাতে 'কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত' তুলে দিচ্ছেন লেখক কালাম আজাদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছুটির দিনে অমর একুশে বইমেলায় বেড়েছে সাহিত্য প্রেমীদের ভীড়। প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বই প্রেমীরা আসছে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী ও শহীদ দৌলত মাঠে।

অনেকে আসছে স্বপরিবারে। মেলায় এসে বেশির ভাগই কিনছে বই। বিশেষ করে ছোট গল্প এবং শিশুদের বই কিনছে অনেকে। অন্যদিকে বই বিক্রি নিয়ে খুশি বিক্রেতারা। এদিকে ৬ দিনের এবারের বই মেলা ৬ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরো একদিন বাড়িয়ে ৭ মার্চ পর্যন্ত বই মেলা চলবে বলে জানান আয়োজন কর্তৃপক্ষ।

পছন্দের বই দেখতে বিভিন্ন স্টলে ভিড় করছেন ক্রেতা/পাঠকরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত মাঠে গিয়ে বই মেলায় গিয়ে দেখা গেছে অনেকটা লোকারন্য মাঠ। বেশির ভাগ স্টলের সামনেই আছে দর্শক বা পাঠক এর মধ্যে নারীদের সংখ্যা ছিলো চোখে পড়ার মত। বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠকের হাতে দেখা গেছে কালাম আজাদের ‘কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’ বইটি। বই কিনে লেখকের সাথে সেলফি ও বইয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে বিভিন্ন মন্তব্য জুড়ে দিচ্ছেন অনেকে।

একটি স্টলে বই দেখছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ।

সন্ধা ৭ টার দিকে মেলা পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ এ সময় তিনি মেলায় অংশগ্রহণকরী প্রতিটি স্টল থেকে বই সংগ্রহ করেন। ডিসি কলেজের লাইব্রেরীর জন্য বইগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নিজের লেখা বইয়ে পাঠকের অনুরোধে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন কবি মানিক বৈরাগী।

মেলায় আসা গবেষক নুরুল আজিজ চৌধুরী বলেন, বইমেলার মত বিশাল প্রাঙ্গণ আমাদের ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার বিপুল সুযোগ করে দিচ্ছে প্রতিবছর। শুধু তাই নয়, বইমেলায় প্রত্যেক বছর পৃথিবীর প্রতিটি কণার বিপুল সম্ভাবনাময় নানা নতুন লেখক-কবিদের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। তাদের এই সুপ্ত সম্ভাবনাময় প্রতিভার কথা হয়তো বইমেলা ছাড়া আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব হতো না।

একটি স্টলে সাজানো বইয়ের একাংশ।

কক্সবাজার সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইফ উদ্দিন খালেদ বলেন, বই মেলায় যে প্রাণের উচ্ছাস পাওয়া যায় সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায়না। এই অস্থির পৃথীবিতে প্রশান্তি আনার জন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানান একই সাথে বন্ধু বান্ধবের বিশেষ দিন বা সন্তানদের বিশেষ দিনে বই উপহার দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানান একই সাথে ঘরে বিভিন্ন নামীদামী জিনিসের পাশে বই রাখার পরামর্শ দেন।

কবিতা পাঠ করছেন কবি অমিত চৌধুরী।

কবি অমিত চৌধুরী বলেন, অন্যান্য দিনের ন্যায় আজকের বই মেলায় প্রচুর সমাগম হয়েছে বই কিনতেও দেখা  গেছে। শিশুরা বই কিনতে দেখে আমি খুশী। আমিও বেশ কয়েকটি কিনেছি। কালাম আজাদের বইটিও কিনেছি। তার বইটি কক্সবাজার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের জন্য মাইলফলক।

সংগীত শিল্পী ধ্রুব রাসেল বলেন, কালাম আজাদ রচিত ‘কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’ বইটি এবারের মেলা থেকে প্রথম নিলাম। বইটি অটোগ্রাফসহ লেখকের হাত থেকে নিতে পেরে বেশ ভাল লাগছে। আশা করছি বইটি পড়ে কক্সবাজার জেলার সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।

মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির একাংশ।

কবি ও গবেষক কালাম আজাদ বলেন, বইমেলা ঘিরে প্রতিটা লেখক নতুন স্বপ্ন নিয়ে নিজের প্রকাশিত বইয়ের সফলতা কামনা করেন। এ মেলায় জাগতিক প্রকাশন থেকে আমার প্রকাশিত ‘কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’ বইটি অনার্য পাবলিকেশন্স ও ইস্টিশন থেকে পাঠকরা অাগ্রহ নিয়ে কিনছে। পরিচিত অনেকে আমাকে ফোন দিয়ে অটোগ্রাফসহ বই নিচ্ছে যা একজন লেখকের জন্য সত্যিই আনন্দের। আশা করি বইটি পড়ে পাঠকেরা কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিহাস সম্পর্কে ভাল ধারণা পাবেন। বইটি সংগ্রহ করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

রাইজিং কক্স সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আকাশের হাতে কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’ বইটি তুলে দিচ্ছেন কালাম আজাদ।

অনার্য পাবলিকেশন্সের নুবাদ ওয়াদিয়া বলেন, মেলায় শুরুর দিকে ক্রেতার সংখ্যা কম হলেও দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক পাঠক ও ক্রেতা মেলায় এসেছেন। অনেক বইও বিক্রি হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক স্যার আমাদের স্টলসহ প্রতিটি স্টল থেকে বই কিনেছেন যা আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বই মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এড. তাপস রক্ষিত জানান, এবারের বই মেলায় ৫০ টি স্টল বসেছে, এবার বেশ ভাল পাঠক এবং দর্শকের সমাগম ঘটছে এবং বইও বিক্রি হচ্ছে ভালই। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা সহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্টান হচ্ছে। এ সময় তিনি জানান, ৬ মার্চ বই মেলার সমাপ্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিন বাড়িয়ে ৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। এ সময় তিনি সবাইকে স্বপরিবারে বই মেলার আসার আহবান জানান।

কালম আজাদের ‘কক্সবাজারের সংগীত ও নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’ বইটি পাওয় যাচ্ছে মেলার অনার্য পাবলিকেশন্স ও ইস্টিশনে। এছাড়া রকমারি ও Skyshop Ukhiya তে অর্ডার করা যাবে। যোগাযোগ : ০১৮১৩-১৮৬৭৬৩
রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।