টেকনাফ

টেকনাফের জেএসসি পরীক্ষার্থী সাদ্দামকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

শাহ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার: বাবা চেয়েছিলেন তার ছেলে শিক্ষিত হয়ে অবহেলিত সমাজে আলো ছড়াবে, চেয়েছিলেন ভালো খেলোয়াড় হবে ছেলে সাদ্দাম। সেটি আর হলো না কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আলী আহমদের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের।

সাবরাং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র সাদ্দাম হোসেন। ৭ বোন ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট সাদ্দাম। ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদ্দাম হোসেন পড়ালেখায় যেমন মেধাবী খেলাধুলায়ও একজন ভালো মানের খেলোয়াড় (গোল রক্ষক)। গোল রক্ষক হিসেবে তার বিদ্যালয়ে এবং পাড়া-মহল্লায় সবার কাছে সমান জনপ্রিয় সাদ্দাম।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে ৮ম শ্রেণি বনাম ৯ম শ্রেণির মধ্যে ফুটবল খেলায় গোল রক্ষক সাদ্দাম বল ধরতে গিয়ে অপর দলের খেলোয়াড়ের অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাতে গুরুতর আঘাত পান তিনি। এরপর প্রথমে তাকে টেকনাফ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠায় বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে সকল পরীক্ষা শেষে জানানো হয় সাদ্দামের একটি কিডনি সম্পন্ন নষ্ট হয়ে গেছে।

এরপর ২ অক্টোবর তার কিডনির সফল অপারেশন সম্পন্ন হয়। নষ্ট হয়ে যাওয়া কিডনি কেটে বের করা হয়। এতে সাদ্দামের চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বহন করে।

সাদ্দামের বাবা আলী আহমেদ জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সাদ্দামের চিকিৎসায় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা খরচ হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে ডাক্তাররা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছে সাদ্দামকে পুরোপুরি সুস্থ করতে আরও ৬ মাস লাগবে। এই ৬ মাস চিকিৎসায় খরচ আসবে অনুমানিক ২ লাখ টাকা।

সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রফিক জানান, সাদ্দাম হোসেন এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী থাকায় সে অসুস্থ শরীর নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

এ বিষয়ে তার বাবা আলী আহমেদ জানান, এ সময় সাদ্দাম হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। ফলে অসু্স্থ শরীর নিয়ে সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।