কক্সবাজারটেকনাফ

টেকনাফে ওসির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় : গ্রেফতার ৩

টেকনাফ প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে থানা পুলিশের একটি টিম অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। চাঁদা আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার বাসিন্দা আবু বক্করের ছেলে ফরিদ আলম (৩২), একই এলাকার মৃত হামিদ আলীর ছেলে আব্দুল শুক্কুর (৪৭) এবং আলী হোছনের ছেলে চৌকিদার মো. আলম (৩৩)।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ রাইজিং কক্স-কে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এছাড়া, টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব পানখালি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মাইক্রোবাস চালক নুরুল আমিনের কাছ থেকে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে উকিল পরিচয়ে হেলাল উদ্দীন (৫৮) নামে এক ব্যক্তি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হেলাল উদ্দীন একই ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী এলাকার বাসিন্দা মৃত গফুর মিয়ার ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার চাঁদা আদায়ের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী নুরুল আমিনের স্ত্রী ছালেহা বেগম। তার স্বামী নুরুল আমিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ক্রসফায়ার দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হেলাল উদ্দীন চাঁদা আদায় করেন বলে জানান ছালেহা বেগম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনাফকে মাদক মুক্ত করার জন্য থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র ওসির নাম ভাঙিয়ে অপরাধী ও নিরপরাধী ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজন অসাধু চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তরা চাঁদা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেছেন। চাঁদা না দিলে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, এমন ভয় দেখিয়ে কারও কাছ থেকে পাঁচ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে দশ হাজার এবং সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেছেন অভিযুক্তরা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করতে সাহস না পায়। আগামী ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনাফ থেকে মাদক নির্মূল করতে স্থানীয় সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। পাশাপাশি যারা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি করবে তাদেরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের একজন ভুক্তভোগী চাঁদা আদায়ের অভিযোগে থানায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Comment here