টেকনাফ

টেকনাফে কৃষি জমিতে ইট ভাটা: পরিবেশ বিপন্নের আশংকা

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ: টেকনাফ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের কৃষি জমি ও পাহাড়ী জমিতে বহু বছর ধরে ইটভাটার ইট তৈরীর কাজ চলছে। নির্দিষ্ট কৃষি জমি ছাড়া ও এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত পাশের কৃষি জমি ও পাহাড়ি জমি। পাহাড়ের মাটি ও কৃষি জমির বিরাট অংশ ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কৃষি জমি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলা পর্যটন সীমান্ত এলাকা এবং এ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া এ ৩ ইউনিয়ন সাগর, নদী ও পাহাড় বৈষ্ঠিত ইউনিয়ন। টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চালিক সড়ক ও পাহাড় বনাঞ্চলের পাশে এসব ইটভাটা গড়ে উঠেছে। পাহাড়ে ও কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরীর কারণে জমিতে ফলন কমে যাচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। অপরদিকে ইটভাটার কালো ধোয়া নির্গত হবার কারণে পাহাড়ের বৃক্ষরাজি ও মরে যাচ্ছে এবং বণ্যপ্রাণী হ্রাস পাচ্ছে। জানা যায়, টেকনাফের এ ৩ ইউনিয়নের ছোট বড় ৭টি ইটভাটা রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ইটভাটার লাইসেন্স নেই। বর্তমানে শত শত হেক্টর জমি ও পাহাড়ী জমি ইটভাটার দখলে চলে গেছে। একদিকে ইটভাটা অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কৃষি ও পাহাড়ী জমিতে স্থাপিত হবার পর খাদ্য শস্য উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা হাতগুটিয়ে অলস জীবন যাপন করছে। সেই সাথে পরিবেশের উপর নিরুপ প্রভাব পড়ছে। টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া এ ৩টি ইউনিয়নে ইটভাটার ইট উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইটভাটা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ও কৃষি বিভাগের অনুমতিপত্র লাগে। এসব ইটভাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলের। ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি। পাহাড়ের টিলা ও মাটি কর্তন করে ঐসব মাটি ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের বৃক্ষাদী দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইটভাটায়। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।

ইটভাটাগুলোতে কাটের পরিবর্তে কয়লা দিয়ে ইট তৈরীর নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম অনেকেই মানছেনা। প্রশাসনের চোখ থেকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে কয়লার স্তুপ করে রাখা হয়। সন্ধার পর কৌশলে পোড়ানো হয় পাহাড়ের কঁচি কঁচি কর্তনকৃত বৃক্ষাদি মওজুদের পর গোপনে নিয়ে এসে পোড়ানো হয়। তৈরীকৃত ইটের সাইজ পরিমাণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে। ইটের সাইজ ছোট করে ভোক্তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে ইটভাটার প্রতারকচক্র। ইটভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কার্যক্রম না থাকায় ইটভাটার মালিকেরা বেপরওয়া হয়ে ওরা ধরকে শরাজ্ঞান মনে করছেন। এছাড়া ইটভাটা গুলোতে ইট বিক্রির সময় ইটের পরিমান ও নিম্মমান ইট ভোক্তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছে ইটভাটার মালিকের ম্যানেজারেরা।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধিদাংসু দাশ এ প্রসঙ্গে বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা নিয়ম নেই। আমি এ দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি মাত্র একমাস। এর আগে যদি অনুমোদন নিয়েছে কিনা, আমি জানিনা। কৃষি জমির আস পাশে যদি ইটভাটা হয়ে থাকলে, এতে ফসলের ফলন হ্রাস পাবে।