টেকনাফপর্যটন

টেকনাফ জেটিতে পর্যটকের ঢল

শাহ্ মুহাম্মদ রুবেল : যেখানে প্রকৃতি আর মানুষের গড়া সৌন্দর্য রূপ এক কাতারে মিশে। সেখানে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড় জমেছে। সাগর আর সমুদ্র সৈকতের এক প্রান্তে অন্য প্রান্তের পাহাড় পর্বত এ যেন সবুজ প্রকৃতি ও নীল জলরাশির মায়ার খেলায় মেতেছে। আর এই দৃশ্য কার না ভালো লাগে? আর তাই তো টেকনাফ জেটিতে পর্যটকদের ভিড় জেমেছে।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মায়ানমার ট্রানজিট ঘাটে ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি৷ এটি বদি জেটি বা টেকনাফ জেটি নামে পরিচিত। কক্সবাজারের টেকনাফে যে কয়টি পর্যটন স্পট রয়েছে তার মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এটি সীমান্তে নির্মিত হওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কারণও বটে৷ এই জেটিতে ঘুরতে আসা বেশিরভাগ মানুষ স্থানীয় বলে জানা গেছে। টেকনাফকেন্দ্রিক সকল কাজকর্ম হওয়ায় উপজেলার প্রত্যেক মানুষকে কোনো না কোনো কাজে টেকনাফে আসতে হয়। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষ করে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে কার মন না চায়। ফলে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় একবার ঘুরে যেতে চায় প্রকৃতির এই লীলা খেলায়৷

কথা বলছিলেন স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তিনি বলেন, সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষ করে একবার এখানে আসি। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখে অনুভব করি৷ মনে মনে ভাবি প্রকৃতি এত সুন্দর৷

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আপনজন নিয়ে ঘুরতে আসে। ঈদ বা বিভিন্ন দিবস হলে এর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। এবারের ঈদ উল আযহা উপলক্ষে পর্যটকের ঢল নেমেছে এই ঘাটে। সব বয়সী ছেলে মেয়েদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিকালে গিয়ে দেখা যায় পর্যটকরা যে যার মতো করে উপভোগ করছেন। কেউ সেলফি নিয়ে ব্যস্ত আবার কেউ গল্প-গুজবে। যারা জীবনে পান খাননি তারাও টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী পান খেতে দেখা গেছে। প্রতিবছর ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বসে ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকানে টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য এবং মায়ানমারের আচার পাওয়া যায়। পর্যটকরা ফিরে যাওয়ার সময় স্মৃতি হিসেবে এখান থেকে কেনাকাটা করে নিয়ে যায়।

ঈদের ছুটিতে এই জেটিতে লাখো পর্যটকের উপছে পড়া ভিড়। যেন পা ফেলারও জায়গা নেই কোথাও। পর্যটনের ভর মৌসুম শেষ হলেও পর্যটক আগমন অব্যাহত থাকায় দারুণ খুশি ব্যবসায়ীরা।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক কাদের বলেন, ‘যেহেতু তিনদিন ছুটি, তাই মানুষ এসেছে প্রচুর। আমাদের দেশে এত সুন্দর জায়গা আছে সে কারণে অনেক কষ্ট করে এত দূরে আসি আমরা।’

টেকনাফ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পৌরসভা এবং অন্যান্য সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করছে।