টেকনাফ

পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের জালিয়াতির তদন্ত শুরু, কারবারিদের দৌঁড়ঝাপ

পেঁয়াজ। ফাইল ছবি

টেকনাফ সংবাদদাতা : টেকনাফ স্থল বন্দরে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের জালিয়াতির তদন্ত শুরু হবার পর পরই সীমান্তের অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্ত শুরু হবার সাথে সাথেই অনেক কারবারি হুঁশজ্ঞান পর্যন্ত হারাতে বসেছে। বিশেষ করে সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন এ যাত্রায় যে কোন ভাবে পার পাবার জন্য।

অভিযোগ উঠেছে যে, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার চালান পাচার হবার নেপথ্যে বন্দরটি এক নীরব ভুমিকা পালন করে আসছে। অথচ বন্দর নিয়ে কারও তেমন উচ্চ বাচ্য নেই। জানা গেছে, সীমান্তের প্রভাবশালী মহল কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বন্দরকে ব্যবহার করেই।
বিভিন্ন পণ্যের মোড়কেই দীর্ঘদিন ধরে পাচার হয়ে আসছে ইয়াবার চালান। এলাকার সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির এক ভাইয়ের একটি বড় ইয়াবার চালান পাচারকালে বিজিবি সদস্যরা হাতেনাতে আটকও করেছিল। ওই সময় মামলাও হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়কালের কিছু ইয়াবা ‘সম্পৃত্ত পুলিশ’ মামলাটির অভিযোগ পত্রে কৌশলে পাচারকারিদের রক্ষা করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

টেকনাফ বিজিবি’র সেই সময়কালের অধিনায়ক যিনি ছিলেন তিনি মামলাটি নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও ইয়াবা সম্পৃত্ত কতিপয় পুলিশের কারনে এক প্রকার ব্যর্থ হন। আরো অভিযোগ উঠেছে, বন্দর দিয়ে নানা পণ্যের আমদানীর নেপথ্যেও ইয়াবার চালান পাচার হয়ে আসছে।
এদিকে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীতে জালিয়াতির বিষয়ে গতকাল শুক্রুবার থেকেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোঃ শাজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত দলটি গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্দরে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের জালিয়াতির তদন্ত কাজ সরেজমিন শুরু করেন।
তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জানান-‘ প্রাথমিক তদন্তে যা দেখেছি তা রিতীমত ভয়াবহ ব্যাপার। মিয়ানমার থেকে আমদানীর জন্য ৫০ হাজার ডলারের যে ড্রাফট করা হয় বাস্তবে সে পরিমাণ টাকার কত এবং কি পরিমাণের পণ্য টেকনাফে পৌঁছে তা তদারকের কোন বালাই নেই।’ তিনি বলেন, তদন্তের আরো দুই দিন সময় বাকি রয়েছে এসব পুংখানুপুংখ ভাবে দেখা হচ্ছে।