গল্পশিল্প ও সাহিত্য

ডাক্তার

মূলঃ রাজেন্দ্র যাদব
হিন্দি থেকে ইংরেজিঃ প্রতীক কাঞ্জিলাল
ইংরেজি থেকে বাংলা: মোহাম্মদ শাহজাহান

[ রাজেন্দ্র যাদব’র জন্ম হিন্দুস্তানে। হিন্দি ছোটগল্পে নতুন ধারার প্রবর্তকদের মধ্যে অন্যতম তিনি। দিল্লি-নিবাসী এই গল্পকার প্রভাবশালী হিন্দি সাহিত্য সাময়িকী ‘হানস’র সম্পাদক ছিলেন। ]

ভাইসব, আমি এখানে অর্থাৎ পরলোকে শান্তি লাভ করেছি। আমি স্বর্গে আছি, না নরকে-এ নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। শুধু এটুকু জেনে রাখুন যে, ডাক্তাররাই আমার জন্যে ইহলোক থেকে পরলোকে আসার টিকেট করে দিয়েছেন।

ঘটনাটা এ রকম-একটা জটিল অস্ত্রোপাচার হবার কথা ছিলো আমার। তো, সরকারি হাসপাতালের একজন ডাক্তার সেটি করবেন। কিন্তু, জানতে পেলাম, সংরক্ষিত কোটায় ভর্তি হয়ে তিনি ডাক্তার হয়েছেন। তার মানে, তিনি যোগ্য কিংবা দক্ষ কোন ডাক্তার নন।ফলে, আমি তাঁকে দিয়ে অস্ত্রোপাচার করাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসি।বরং একটা খ্যাতিমান নার্সিং হোমের তরুণ, নামকরা একজন ডাক্তারকে দিয়েই অস্ত্রোপাচার করাবো বলে মনস্থির করি। নানা রকম ফি আর চার্জের যাঁতাকলে প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও আমার পরিবার নার্সিং হোমকেই প্রাধান্য দেন। তাঁদের যুক্তি, প্রাণে বাঁচলে আমি ওই অর্থ আবার উপার্জন করে দিতে পারবো। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি; অস্ত্রোপাচারের সময়ই আমি মৃত্যবরণ করি। আমার র্ভাগ্যটাই খারাপ ছিলো হয়তো বা কিন্তু পরলোকে এসে শুনি, ওই ডাক্তার ড্রামে ড্রামে তেল আর বস্তায় বস্তায় টাকা ঢেলে ডাক্তারী বিদ্যার পাট চুকিয়েছেন; পরীক্ষার বৈতরণি পার হয়েছেন। আর ডাক্তারী সনদ পাবার পরপরই তিনি কোটি টাকা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করেছেন। ওই টাকা দিয়েই রাতারাতি নার্সিং হোম খুলে মালিক সেজে বসেছেন। অঢেল টাকা থাকলে যা হয় আর কি, নার্সিং হোম চালানোর জন্যে জনাবিশেক ডাক্তার পেতেও সমস্যা হয়নি তাঁর। তাঁদের তিনি নিশ্চয়ই এ আশায় নিয়োগ দেন যে, অন্ততঃ তাঁরা তাঁর মতো হবেন না।
ওই ডাক্তারের স্ত্রী ইতোপূর্বে আত্মহত্যা করেন। কারণ, তিনি ডাক্তারের দাবীমতে বাপের কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে আরও বেশি অর্থ এনে দেয়ার ক্রমবর্ধমান চাপ সহ্য করতে পারেননি। ডাক্তার যেদিন আমার অস্ত্রোপাচার করেন, সেদিনই ধনাঢ্য পরিবারের এক মেয়েকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণের কথা চূড়ান্ত করেন। আর হ্যাঁ, আমার জন্যে ব্যবস্থাপত্রে তিনি যেসব ঔষধ লিখে দিয়েছিলেন, সেগুলোও ছিলো ভেজাল। ঔষধগুলো এসেছিলো নার্সিং হোমেই স্থাপিত একটি দোকান থেকে। তো বুঝতেই পারছেন, মরা ছাড়া আর কোন গত্যন্তরই ছিলো না আমার।
যাহোক, আমি এখানে ভালোই আছি। ভাবছি, ডাক্তারের প্রথম স্ত্রীকে খুঁজে বের করে তাঁর সঙ্গে একটু ভাবসাব জমিয়ে নেবো। ডাক্তার-বধু ধারেকাছে কোথাও আছেন, নিশ্চয়ই।

মোহাম্মদ শাহজাহানঃ অনুবাদক, কলামিস্ট ও আইনজীবী।

Comment here