কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

তৃপ্ত

ওমানা পারভীন শিলা

আজ বহুদিন পর তার সাথে দেখা হলো
তাকে বললাম, তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে?
সে নীরব,
আবারও জানতে চাইলাম
বললেনা কোথায় ছিলে?
আমি কেন তোমাকে পাইনা?
সে বললো,আমার সময় ছিল না।
আমি বললাম, ইচ্ছের কাছে তো সময় পরাজিত।
সে কিছু বলবে
তার আগেই আমি চিৎকার করে বলতে শুরু করলাম,

তুমি নীল আকাশ হতে পার না!
আমি শঙ্খচিল হয়ে
এক ছুটে তোমার বুকে পৌঁছে যেতাম।
সে বললো, আকাশের বুকে তো কতো শঙ্খচিল উড়ে বেড়ায়,
তোমায় খুঁজে পাব কি করে?
আমার ডানা ঝাপটানোর শব্দ কি অন্যদের থেক আলাদা নয়।
সে মৃদু হাসলো!

তা হলে তুমি সাগর হও!
আমি নদী হয়ে তোমার বুকে মিশে যাব।
সে বললো, সাগরের বুকে তো কতো নদী মিশে যায়,
আমি তোমায় বুঝব কি করে?
আমি আর্তনাদ করে উঠলাম
আমার ঢেউয়ের স্পর্শ কি অন্যদের থেকে আলাদা নয়।
সে আবার মৃদু হাসলো!

তবে তুমি সীমান্ত হও!
আমার পথের শেষ ঠিকানা,
আমি পথিক হয়ে ঠিক পৌঁছে যাব তোমার বুকে।
সে অট্টহাসিতে আমায় বলে,
তুমি একটা বোকা!
সীমান্তের বুক মারিয়ে কতো পথিক হেটে যায়,
তোমায় চিনব কি করে?
আমি হতাশ হয়ে বলি,
আমার গন্ধ কি অন্যদের থেকে আলাদা নয়।
সে আবার মৃদু হাসলো!

আমি বুঝতে পারি সে আমার নয়,
আমি ফিরে আসতে চাই
দুচোখের আঁচলায় অশ্রুকে সঙ্গী করে।

সে আমার হাতটা ধরে তার বুকের বা পাশে রাখে,
আমি কাঁপতে থাকি।
সে বলে,এখানে এই হৃদয়ের ওপর শক্ত করে স্পর্শ করো,
কিছু কি শুনতে পাও?
আমি বললাম, স্পন্দন!
সে বললো, তোমার চলবে না এতে!
আমি দু’হাতে স্পন্দিত হৃদয় টাকে আক্রে আমার সর্বাঙ্গের অনুভূতির সকল ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করি।
অনুভূতির এক আদুরে প্রলেপ বলে দিয়ে যায়
আমি ব্যর্থ নই,
আমি তৃপ্ত আজ আমি তৃপ্ত।