দুর্দান্ত চট্টগ্রামের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ঢাকা

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স: মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং স্পেলের পরে সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের বাউন্ডারির ফুলঝুরি গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের টানা দুই জয় নিশ্চিত করেছে। মুস্তাফিজ মাত্র ৫ রানের বিনিময়ে শিকার করেছেন ৪টি উইকেট। এ যেন চট্টগ্রামের প্রথম ম্যাচেরই আরেক পুনরাবৃত্তি ছিল।

দুই ম্যাচেই চট্টগ্রামের জয়ের গুরুদায়িত্বটা বোলাররা করে ফেলছেন। বাকিটা পূর্ণ করছেন ব্যাটসম্যানরা। টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন ৮৬ রানে জেমকন খুলনাকে অলআউট করে এই ম্যাচে সেই পারদর্শীতাই দেখিয়েছি চট্টগ্রাম। বোলারদের দুর্দান্ত পারফর্মের পরে দলকে সহজে জয়ের বন্দরে নিয়ে গিয়েছেন সৌম্য ও লিটন।

উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করেন সৌম্য ও লিটন। দলকে জয়ের বন্দরে রেখে ২৯ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য। তার উইকেটটি শিকার করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অপরপ্রান্তে অর্ধশতক তুলে নেন লিটন। ৪২ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি।

মুমিনুল হককে সাথে নিয়ে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন লিটন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে। চট্টগ্রাম পেল ৯ উইকেটের বিশাল জয়।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করেছিল খুলনা। পূর্বের দুই ম্যাচের মতোই আজও ব্যর্থ হয়েছে খুলনার টপ অর্ডার। ভিন্ন ফলাফলের অপেক্ষায় চমক এনে আজ ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমেছিলেন সাকিব। কিন্তু আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের সাথে ভুল বোঝাবুঝি দেখা যায় শুরুতেই। রান আউট হয়ে ফিরে যান বিজয়।

৬ বলে ৬ রান করে বিজয়, ৭ বলে ৩ রান করে সাকিব ফেরার পরে ২ বলে ১ নিয়ে ফিরে যান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে খুলনা। জহুরুল ইসলাম ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি। তাইজুলের বলে দুর্দান্ত টানা একটি ছক্কা ও একটি হাঁকানোর পরের বলেই স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। থিতু ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ফেরেন ২৬ বলে ২১ রান করে।

তরুণ ক্রিকেটার শামীম হোসেন নেমেই এক ছক্কা ও এক চার হাঁকিয়ে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও হতাশ করেন। ১১ রান নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন শামীম। এই ধাক্কা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি খুলনা। অলআউট হয়েছে মাত্র ৮৬ রানে।

চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি উইকেট শিকার করেন নাহিদুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম। মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৪টি উইকেট। এই বাঁহাতি পেসার খরচ করেন কেবল ৫ রান।

এই ম্যাচেই টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে ৫ হাজার রান ও বল হাতে ৩৫০ এর অধিক উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন সাকিব আল হাসান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জেমকন খুলনা ৮৬/১০ (১৭.৫ ওভার)
ইমরুল ২১, আরিফুল ১৫, জহুরুল ১৪, শামীম ১১, বিজয় ৬, সাকিব ৩;
মুস্তাফিজ ৪/৫, নাহিদুল ২/১৫, তাইজুল ২/৩০।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ৮৭/১ (১৩.৪ ওভার)
লিটন ৫৩*, সৌম্য ২৯, মুমিনুল ৫
রিয়াদ ১/১৬।

৯ উইকেটে জয়ী গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।