কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

ধন্যবাদ প্রিয়

নীহারিকা হায়দার

তুমি নাহয় এখন তোমার পছন্দমতন অন্য কারোর কেশের মায়ায়-
জড়িয়ে থেকো।
আমি আমার ‘প্রেম-ভাব’ নিয়ে দূরে সরে গেলুম।

আমার তোমায় মনে পড়ে না বললে নিছকই মিথ্যে বলা হবে।
মনে পড়বে না-ই-বা কেনো?
আমার দিকটা তো শেষদিন পর্যন্ত বিশুদ্ধই ছিল।
সে যাইহোক,
আমি তোমায় দোষ দিচ্ছি ভেবে উত্তেজিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আমি এ-ও বলছি না যে,
আমি এক তরফা ভালোবাসা সারাজীবন জিইয়ে রাখার চেষ্টা করবো।
আমি বলছি না যে,
আমি তোমার তরে প্রহর গুণে যাবো।
আমি বলছি না,
তুমি নয় তো আর কেউ নয়।

তুমি প্রচন্ড বাস্তববাদী ছিলে কি-না,
আমি ছিলাম বড্ড আবেগী।
আমরা কেউই কারো মনোভাব পাল্টে ফেলতে পারিনি,
আমাদের দু’জনেরই খানিক ব্যর্থতা।
তবে কি জানো তো…
তোমার সাথে থেকে খানিকটা বাস্তবতার ছোঁয়া আমার আবেগী মনে লেগেছে তো বটেই!
এখন ”আউট অব সাইট,আউট অফ মাইন্ড”-বাক্যটা আমার অভ্যেস হয়ে গেছে।

হঠাৎ একদিন হয়তো ৩০০ফিট গেলেও তোমায় মনে পড়বে,
হয়তো ‘পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক’-এ শাড়ি’ পরতে গিয়ে তোমায় মনে পড়বে,
কেননা তোমার শখ হয়েছিলোতো কোনো একদিন আমাকে শাড়ি পড়া দেখতে😒
পরের বার কেউ আমায় ভালোবাসি বললেও,,কাছে টানলেও তোমার কথা মনে পড়বে।
আর এটাও মনে পড়বে সবটাই তোমার ভ্রম ছিলো,
কেউ যদিও শাসন করে কোনো কথা বলে, যদিও বলবেনা জানি–
তবুও বললে তোমার কথাই মনে পড়বে,
কিন্তু-
ঐ মনে পড়া পর্যন্তই…
তোমায় মনে করে আর অশ্রু গড়াবে না,জানো তো।
জীবন থেমে থাকে না…

তবে…
তোমার একটা ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য।
তুমি আমায় জগৎ চিনিয়ে গেছো।
এখন আর কারো ঠুনকো মিষ্টি প্রতিশ্রুতিতে গা ভাসাবো না।
এখন আর কারো আঘাতের পর নিতান্ত সান্তনার বানী তোমাকে অনেক ভালোবাসি এটা শুনে অন্তত তাকে আর বুকে জরিয়ে নিবোনা।।
এতো টুকু সিউর থাকো।
কেউ ভালোবাসি বললে দুহাত জোর করে এবার মাফ চেয়ে নিবো।