নিবন্ধশিল্প ও সাহিত্য

নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী

মোশতাক আহমদ


ক] বিদ্রোহী কবির উত্তরাধিকারী বিপ্লবী নৃত্যশিল্পী
সুদূর শৈশবে, প্রথমে চিনেছিলাম নজরুলকে, তারপর বুলবুল চৌধুরীকে (১৯১৯-১৯৫৪)। মনে পড়ে, সত্তরের দশকে সাপ্তাহিক বিচিত্রার পাতায়, সম্ভবত ‘বুলবুল ঐতিহ্য’ শীর্ষক একটি সচিত্র প্রচ্ছদকাহিনী হয়েছিল। আমি তখনও নজরুলের ‘বুলবুল’ এর সাথে নৃত্যের বুলবুলকে মিশিয়ে ফেলি এমনই অর্বাচীন। ‘বুলবুল চৌধুরী’ নামটি রশিদ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর ছদ্মনাম। তিনি জন্মেছিলেন চট্টগ্রামের তৎকালীন সাতকানিয়া থানার (বর্তমান লোহাগাড়া উপজেলা) প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা চুনতি গ্রামে। শিক্ষিত ও আলোকিত এই মুসলিম পরিবারে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার আবহ ছিল। শৈশব থেকেই নৃত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, কবিতা ও গদ্য রচনায় ছিল তাঁর প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা।কাকতালীয় কিংবা সচেতনভাবেই কিনা জানি না, তিনি ‘বুলবুল’ নামটি ধারণ করেছিলেন। ছদ্মনাম গ্রহণের প্রয়োজন ছিল, কেননা সে যুগের প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম তরুণ নৃত্যশিল্পী হয়েছে-এ ঘটনাটা সমাজের পক্ষে সহজভাবে নেয়ার কথা নয় এবং এটাও ছিল এক ধরণের বিপ্লব। নজরুল বিদ্রোহী কবি, আর বুলবুল হচ্ছেন বিপ্লবী নৃত্যশিল্পী; বহুমাত্রিক এই বিপ্লব। নজরুলের সাথে তাঁর সংক্ষিপ্ত ও বর্ণাঢ্য সৃষ্টিশীল জীবনেরও মিল রয়েছে। বুলবুল চৌধুরীও একজন বহুমূখী প্রতিভা- কবি, চিত্রশিল্পী, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, স্বাধীনতা যোদ্ধা ও সর্বোপরি সার্থক নৃত্যশিল্পী। বুলবুলের শৈশব প্রেরণা নজরুলই। বুলবুল চৌধুরীর ছোটবোন সুলতানা রাহমানের কথায় জানতে পারি “স্কুল জীবনে- কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিক্ষণে স্বয়ং নজরুল ছিলেন বুলবুলের আদর্শ। সে যুগে নজরুল তরুণ-সম্প্রদায়কে এত বেশী প্রভাবান্বিত করেছিলো যে তাঁর আচার আচরণ, পোশাক পরিচ্ছদও অনেকে অনুকরণ করতো। বুলবুল নজরুলের অনুকরণ করতে গিয়েই প্রথম বাবরীচুল রেখেছিলো।” স্কুলজীবন মানিকগঞ্জে। তখনই স্বরচিত নৃত্যনাট্য ‘বঙ্গমাতা’ ও ‘চশমা’ মঞ্চস্থ করেন। স্বরচিত ‘চাতক নৃত্য’ দিয়ে বড় আসরে অভিষেক। সাহিত্য করতেন। পাশাপাশি কোলকাতার কলেজ জীবনে প্রথম ছোটগল্প প্রকাশিত হয় বিখ্যাত ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (পয়মাল)। তিনি ছিলেন স্বভাবজাত কথাশিল্পী। কিন্তু নৃত্য সাধনা ও প্রতিনিয়ত নৃত্য নিয়ে নতুন পরীক্ষা নিরীক্ষায় আচ্ছন্ন থাকার কারণে লেখালিখিতে বেশি সময় দিতে পারেন নি। গল্প কাহিনী বয়নের দক্ষতা ছিল, কিন্তু তাঁর মূল প্রবণতা ছিল তাকে নৃত্যে রূপান্তরের। সুলতানা রাহমানের ভাষ্য থেকে পাই : ”বুলবুল ছিলো নৃত্য-শিল্পী এবং তাতে যে নিষ্ঠা ও সাধনার প্রয়োজন তা অবিচ্ছিন্ন রেখেই তাকে সাহিত্যচর্চা করতে হয়েছে। সুতরাং সাহিত্য করবার মতো প্রশস্ত সময়ের একান্তই অভাব ছিলো তার। কিন্তু বুলবুলের সুসমৃদ্ধ কল্পনাশক্তি, কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে, নতুবা নিছক কল্পনার ভিত্তিতেই কখন কোনো গল্প ফেঁদে ফেলতো, তখন মনে মনে ভিড় করে আসা কথাগুলো প্রকাশ করতে না পারলে সে অস্থির হয়ে উঠতো। অথচ কাগজ-কলম নিয়ে বসবার মতো সময়ও সে পেত না অনেক দিন। কাজেই সে মুখে মুখে সেই বানানো গল্পের ফুলঝুরি ছুটিয়ে দিতো। বুলবুলের গল্প বলার ধরনও ছিলো বড় সুন্দর। চুনতির বাড়ীতে শীতের রাতে আগুণের ধুনীর পাশে বসে, অথবা গ্রীষ্মের গুমোট ধরা রাত্রিতে উঠানে শীতল পাটি বিছিয়ে বুলবুলের বানানো গল্প শুনতে শুনতে, কখন যে রাত ভোর হয়ে যেতো, কেউ তা বুঝতেই পারতো না। সে সব গল্প সংকলন করতে পারলে আলাদা একটা বই হয়ত প্রকাশ করা যেতো।”

সেই যুগে একজন মুসলিম যুবকের জন্যে নৃত্য সাধনার পথ কুসুমাস্তীর্ন ছিল না মোটেও। প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে মুসলিম রক্ষনশীল সমাজের কাছ থেকে আঘাত পেয়েছেন, আর শনিবারের চিঠির শনির দৃষ্টি তো ছিলই! যদিও তিনি উদয় শংকরের সান্নিধ্যে এসেছেন ও অভিনেত্রী নৃত্যশিল্পী সাধনা বসুর সাথে ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘কচ ও দেবযানী’ করেছেন এবং ভারত ও বাংলাদেশের নানা অঞ্চল (১৯৪০) পাকিস্তানের নানা শহর (১৯৫০-১৯৫২), ইউরোপের নানা দেশে (বৃটেন, হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স) ১৯৫৩ সালে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেছেন ও প্রশংসিত হয়েছেন, কিন্তু গোঁড়াদের কাছ থেকে যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তাতে তাঁর শিল্পী সত্ত্বায় জন্মেছিল অভিমান। ১৯৫৩’র এপ্রিলে ইতালীয় জাহাজ ভিক্টোরিয়ায় বসে ইউরোপীয় সহশিল্পীকে যে কবিতা উপহার দিয়েছিলেন তা থেকেই তার গাঢ় অভিমানটুকু টের পাওয়া যায়:

“তোমরা যখন ছিলে ভুলের ঘুমে
আমি বারে বারে এসেছি দ্বারে,
ডেকে গেছি ওঠ সব ভাই
কেহ জাগিলে না। অভিমানে চলে যাই,
যখন ভাঙ্গিবে ঘুম আমি সেথা নাই।” -বুলবুল

এ যেন অভিমানী নজরুলের অমর চরণের প্রতিধ্বনি“তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না/ ……..আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধূর ধূপ” কিংবা “বন্ধুগো আর বলিতে পারি না বড়ো বিষজ্বালা এই বুকে,/ অমর কাব্য তোমরা লিখিও বন্ধু যারা আছো সুখে”। এ মহান নৃত্যশিল্পী ইউরোপ ঘুরে আসার পর পরই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৭ মে ১৯৫৪ কোলকাতায় পরলোকগমণ করেন। অত:পর তাঁর বন্ধু মাহমুদ নূরুল হুদা (১৯১৬-১৯৯৬) বুলবুলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আরাধ্য কাজ বাফা প্রতিষ্ঠাকল্পেও বন্ধুকৃত্য পালন করেন । নজরুলের মত্যে বুলবুলও কায়মনোবাক্যে চেয়েছিলেন হিন্দু মুসলমানের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং এই দুই ধর্মীয় অনুসঙ্গ ও ঐতিহ্য নিয়ে শিল্প রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। হিন্দু পুরাণ অনুসঙ্গ করে রচনা করেছেন ‘অভিমন্যু’, ‘সুধন্যা’, ‘ব্রজবিলাস ও শিব’, ‘দেবদাসী’ ইত্যাদি নৃত্যনাট্য। অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ ও বহন করেছেন নজরুলেরই মতো; ‘রক্তের ডাক গল্পটি তারই সাক্ষ্য। মোগল-মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে নৃত্য রচনা করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন নৃত্যের সাথে মুসলিম সংস্কৃতির বিরোধ নেই এবং তাঁর প্রচেষ্টায় মুসলিম সমাজে নৃত্য শিল্পের গ্রহণযোগ্যতাও তৈরী হয়েছিল। এ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী নৃত্যনাট্যগুলো হচ্ছে “ইরানের পান্থশালায়” “হাফিজের স্বপ্ন”, “সোহরাব ও রুস্তম” “চাঁদ সুলতানা”, “আনারকলি” প্রভৃতি। তিনি লিখেছিলেন, “পাকিস্তানে ইসলামী ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়া স্বত্ত্বেও এর প্রধানতম বা একমাত্র উপাদান নয়।” এভাবে তিনি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সুকৃতিগুলোকে শিল্পায়িত করেন।সুরের মাঝে চলে এলো অসুর। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের দামামা উঠলো বেজে। এ সময় তিনি চুনতি গ্রামে বসে সেই সময়কে ধারণ করেন ‘প্রাচী’ উপন্যাসে (১৯৪২)। অসম্পূর্ণ ছিল একাধিক উপন্যাস। ‘ব্লাড হাউন্ড’, ‘আগুন’ (১৯৫০), ‘অনির্বাণ’ প্রভৃতি ছোটগল্প ও গদ্যে ইতিহাসের সংকটকালীন সময়কে ধারণ করেছেন। এও তাঁর এক অসম্পূর্ণ প্রকল্প।

নজরুলের মতো বুলবুল ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা নিয়ে শিল্পকে সৃষ্টি করেছিলেন এবং খোদ বৃটেনে যুদ্ধবিরোধী ও বৃটিশ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ বিরোধী নৃত্যনাট্য ‘Least We Forget’ (আমরা যেন ভুলে না যাই) অভিনয় করে এসেছেন। কাজেই নৃত্যশিল্পী বুলবুলের বিপ্লব ছিল বহুমাত্রিক এবং তাঁর সমস্ত সৃজনশীলতাই মাত্র ৩৫ বছরের জীবনকালে এবং কুড়ি বছরের শিল্পী জীবনে। যদিও সে সময়ে এই দেশে উচ্চাঙ্গের শিল্পবোদ্ধা দর্শক ছিলেন অঙ্গুঁলিমেয়, তারপরেও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষও বুলবুলের নৃত্যের ভক্ত ছিলেন। লিয়াকত আলী খান তার নৃত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং একই অনুষ্ঠানে প-িত নেহেরু বলেন “ You are indeed a very great artist. I have been thrilled and through by the newness of your themes, depth in your imagintion and above all by the performance. ” সাহিত্যিক আবুল ফজল: “নৃত্য দেখা যে কতটা আনন্দের তা বুলবুলের নাচ না দেখলে বোঝা যায় না”। উত্তরসূরী নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান বলেছেন ”ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, সামাজিক প্রতিবন্ধকতার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বুলবুল চৌধুরী আমাদের চলার পথকে সুগম করেছেন।” সুর¯্রষ্টা মহির কিরণ বাবু বলেছিলেন “আর একজন উদয় শংকরকে আবিস্কার করেছি, বুলবুল নিজেই নিজের শিক্ষক”।বুলবুলের নৃত্যশিল্পী সত্তার মধ্যে এইভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নজরুলের জীবন দর্শনের মিল পাওয়া যায় ও একথা বলতে প্ররোচিত করে যে, বুলবুল নজরুলেরই আরেক সম্প্রসারিত সত্তা কিংবা উত্তরাধিকার।


খ] নৃত্যস্রষ্টা বুলবুল চৌধুরী

কুড়ি বছরের সৃষ্টিশীল শিল্পী জীবনে ৮০টি নৃত্যনাট্য রচনা ও কোরিওগ্রাফি করেছেন বুলবুল চৌধুরী। বৃটিশ যুগে তিনি তাঁর নৃত্যে স্বাধীন পাকিস্তানের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার আলো ছড়িয়ে গেছেন। এর মাধ্যম হিসেবে তিনি সাধারণ গ্রাহ্য মিথ ও কিংবদন্তী, লোক কাহিনী ও ঐতিহাসিক উপাদান ব্যবহার করেছেন তাঁর রচিত নৃত্যনাট্যে। শুরুতে তিনি কিংবদন্তীতূল্য নৃত্যশিল্পী উদয় শংকরের ধ্রুপদী নৃত্য দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং উদয়শংকরের পাশ্চাত্যের ব্যালে ঘরানাকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নৃত্যের সাথে মিশিয়ে নতুন আঙ্গিক গঠন তাঁকে প্রভাবিত করে। এতে পুরাণের কাহিনী ও রাগ সঙ্গীত ব্যবহৃত হতো। বুলবুল যুক্ত করলেন লোক কাহিনীর উপাদান ও পুরাণ। এর পরেই তিনি খুঁজে পেলেন ইপ্সিত নতুন পথ। ইরানের মুসলিম কিংবদন্তী ও তুর্কী সুফী নৃত্যের সংশ্লেষনে রচনা করতে থাকলেন এক নবজাগরণের ইতিহাস। মুসলমানদের সঙ্গীত ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ছিল, বুলবুল সমৃদ্ধ করতে থাকলেন মুসলমানদের নৃত্য পরম্পরার অকর্ষিত ভূমি। তিনি একথা প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, নৃত্যের সাথে মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধ নেই এবং এর ফলে তৎকালীন মুসলিম সমাজের গোঁড়া অংশের মাঝে নৃত্যের প্রতি ঋনাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে নৃত্যকে একটি সম্মানজনক ও জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যম হিসেবে পরিচিত করতে অবদান রেখেছেন। ১৯৪২-১৯৫৪ সময় জুড়ে তিনি ছিলেন উপমহাদেশের ব্যস্ততম শিল্পী। তাইতো দেশবিভাগের পর তাঁকে অবিভক্ত পাকিস্তানের জাতীয় নৃত্যশিল্পীর স্বীকৃতি দেয়া হয় (১৯৪৯)। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয় (মরনোত্তর)। তিনি আমাদের নৃত্যাচার্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে তাঁর অননুকরনীয় নৃত্য আঙ্গিক যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। বুলবুল চৌধুরীর ছোট বোন সুলতানা রাহমানের গ্রন্থনা থেকে সাহায্য নিয়ে বুলবুল চৌধুরীর নৃত্যনাট্যগুলোকে দুটি পর্বে উল্লেখ করছি এবং সুলকুসন্ধান পাওয়া বাকি নৃত্যগুলোকে তৃতীয় পর্বে উল্লেখ করছি।


প্রথম পর্ব : প্রভাতী নৃত্য (১৯৩৪-৩৫ সালে বুলবুল রচিত নৃত্য )

প্রভাতী নৃত্য নামকরণের ইতিহাস জানতে পারিনি তবে অনুমান করি, এই নৃত্যগুলো বুলবুল চৌধুরীর শিল্পী জীবনের উন্মেষ লগ্নে রচিত হয়েছিল বলেই ‘প্রভাতী নৃত্য’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।১। দেহছন্দ ২। ইন্দ্র নৃত্য ৩। ভ্রমর নৃত্য ৪। ভিল বালক নৃত্য ৫। সাঁওতালি নৃত্য ৬। শিকারী নৃত্য ৭। চাতক নৃত্য ৮। ঊষা নৃত্য ৯। প্রণয়ী নৃত্য ১০। নটরাজ নৃত্য ১১। সাগরসঙ্গম ১২। সর্প নৃত্য ১৩। অরুণ ও ঊষা নৃত্য ১৪। রাধাকৃষ্ণ নৃত্য ১৫। দেবদাসী নৃত্য ১৬। নবান্ন নৃত্য (উত্তর ও পশ্চিম বঙ্গের), মদনভষ্ম লোক নৃত্যের অনুপ্রেরণায় ১৭। গন্ধর্ব নৃত্য, ১৮। পার্বতী নৃত্য ১৯। নিশাদেবী নৃত্য ২০। রাধিকা নৃত্য ২১। সূর্য নৃত্য।

দ্বিতীয় পর্ব : কয়েকটি নৃত্যনাট্যের কাহিনী

বুলবুল চৌধুরীর পরিকল্পিত যে সকল নৃত্যাভিনয় ও নৃত্যনাট্যের পরিচয় পাওয়া গেছে তার মধ্যে কয়েকটির পরিচয় দেখা হলো। এখানে বুলবুলের গল্পকার সত্ত্বা, নির্দেশক সত্ত্বা, ঐতিহ্যচেতনতা ও সময়ের প্রয়োজনে বিষয় ও আঙ্গিকের ক্ষেত্রে মোড় বদলের সন্ধান ও কমিটমেন্টের পরিচয় পাওয়া যাবে।

১- আবাহন
পাষাণ দেবতা নটরাজের ঘুম ভাঙ্গাবার জন্য সাধক শিল্পী-যুগলের নৃত্যারতি। অন্তরের আকুল আবেদন তাদের নৃত্যের ছন্দে ও ব্যঞ্জনায় বিচিত্র মূর্ছনায় ঝঙ্কৃত হয়ে উঠেছে : জাগো, দেবতা জাগো, তোমার কৃপায় আমাদের অন্তর উদ্বৃদ্ধ হ্ােক।

২- চাঁদনী রাতে
আকশে পূর্ণিমার চাঁদ-বাতাসে বকুল, কেয়া, হাসনুহানার গন্ধ-নদীর বুকে জ্যোৎস্নার রূপালি জোয়ার- এই মনোরম পরিবেশে প্রেমিকযুগলের মিলন। তাদের অন্তরের প্রতি তন্ত্রীতে যে আনন্দের ঝঙ্কার উঠেছে-নৃত্যের ছন্দে, গানের সুরে, বাঁশীর মূর্ছনায় তা অনুরণিত হয়েছে।

৩- বিষের বাঁশী
বেদে আর বেদেনী গ্রামে গ্রামে সাপের খেলা দেখিয়ে আহার্য ও অর্থ সংগ্রহ করে। অন্যমনস্ক সাপুড়ে সহসা গোক্ষুরের দংশনে বিষের ক্রিয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ঢলে পড়ে। মুহূর্তকাল বেদেনী বিমূঢ়ের মতো চেয়ে থাকে, তারপর হঠাৎ অদ্ভুত কৌশলে মন্ত্র আর ঔষধির আকর্ষণে পলায়মান সাপ ধরে ফেলে এবং বিষ ঝেড়ে দিয়ে বেদেকে বাঁচিয়ে তোলে। ভীত দর্শক বৃন্দের মুখে হাসি ফুটিয়ে বেদেনী বেদেকে নিয়ে গ্রামান্তরে প্রস্থান করে।

৪- ফসল উৎসব
চাষী-মজুরের বৈচিত্রহীন জীবনের সবচাইতে আনন্দমুখর দিন হলো মাঠের ফসল গোলায় তোলার দিন। সেদিনের উৎসব নৃত্যের তালে মূর্ত হয়ে ওঠে।

৫- হারেমন নর্তকী
মোগল বাদশাহী অন্তঃপুরের নিভৃত বিলাস কক্ষে যে পুরসুন্দরীদের নুপুর নিক্কন ঝঙ্কৃত হয়ে উঠতো তারই একটি চিত্র।

৬- প্রবীর পতন
যুধিষ্ঠিরের অশ্বমেধ যজ্ঞের যজ্ঞ-অশ্বের রক্ষক হয়ে মধ্যম পা-ব অর্জুন দেশে দেশে পর্যটন করছিলেন । মাহিষ্মতী রাজ্যের অধিপতি নীলধ্বজের পুত্র প্রবীর বীর বিক্রমে সেই অশ্ব অবরোধ করেন। শুভাকাঙ্্ক্ষীদেও উপদেশ ও ভীতি প্রদর্শন অগ্রাহ্য করে মাতৃভক্ত প্রবীর মাতার আর্শীবাদ নিয়ে অর্জুনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-যুদ্ধে সম্মুখীন হন। মাতৃ-পদধূলি প্রবীরের অক্ষয়-বর্ম , মাতৃ-আর্শীবাদের শক্তিতে মাতৃভক্ত প্রবীর সমরে অজেয়।অপরাজেয় প্রবীরকে নিহত করবার জন্য পা-ব-বন্ধু শ্রীকৃষ্ণ দৈব-চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করলেন। রণক্লান্ত প্রবীর সারা রাত মোহিনী নায়িকার ছলনাপাশে আবদ্ধ থাকলেন। মাতৃ-আর্শীবাদ বঞ্চিত প্রবীর দূর্বার সংগ্রাম শেষে অর্জুনের হাতে নিহত হলেন।

৭- জীবন ও মৃত্যু
কোন অনাদি কাল থেকে আলোর পিছনে ছায়ার মতো, জীবনের পিছনে মৃত্যুর ছায়ামূর্তি নির্ভূল পদক্ষেপে অনুসরণ করে আসছে। পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ-স্বর্শের আস্বাদ পেয়ে জীবন যখন পরিপূর্ণ ভাবে বিকশিত, এমন সময় সহসা মৃত্যুর তুষার-শীতল কঙ্কাল হস্তের স্পর্শে সে শিউরে উঠে। পৃথিবীর প্রতি ধূলি-কণা আঁকড়িয়ে বাঁচবার বিপুল প্রয়াসে ক্লান্ত, অবসন্ন জীবন অনিবার্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

৮- শিকারী
গভীর অরণ্যে বন্য ব্যাধ শিকার অনুসন্ধান করে বেড়ায়। এক হাতে তার দীর্ঘ ধনুক অন্য হাতে বিষ-মাখানো তীর। নিপুণ কৌশল ও অব্যর্থ শর নিক্ষেপ করে পাখী, হরিণ ও বাঘ শিকার করে হৃষ্ট মনে শিকারী কুটিরের পথে ফিরে যায়।

৯- ভবঘুরের দল
ছন্নছাড়া যাযাবর জীবনের টুকরো সুখ-দুঃখের ছবি। দুই বেদুইন ভিখারিনী পথে পথে গান গেয়ে জীবিকা উপার্জন করতো। কিন্তু কেবল গান গেয়ে অর্থ উপার্জন করা যখন দুরূহ হয়ে উঠে-তখন একদিন তাদেরই সমগোত্র এক যাযাবর নর্তকের সাক্ষাৎ মিললো। পরষ্পর পরষ্পরকে নিজেদের বিদ্যা বিনিময় করার প্রস্তাব করলো তারা ইচ্ছা ও অনিচ্ছার গোলোযোগ মিটলে একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিবিড় উল্লাসে মেতে উঠল।

১০- বিদায় অভিশাপ
(রবীন্দ্রনাথের গীতি কবিতার অনুপ্রেরণায়)
দেবগণ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে বৃহস্পতিপুত্র কচ দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের কাছে সঞ্জীবনী বিদ্যা শিখবার জন্য তার কাছে যান। সেখানে সহ¯্র বৎসর অতিবাহন করে নৃত্য-গীতে শুক্রদুহিতা দেবযানীর মনোরঞ্জন ক’রে সিদ্ধকাম হয়ে কচ দেবলোকে ফিরেন। দেবযানীর কাছে বিদায় কালে- বহুদিনের সঞ্চিত স্মৃতির কুসুমে গাঁথা পরিপূর্ণ প্রেমের মালাখানা অপ্রত্যাশিত নিষ্ঠুর অবহেলায় ব্যর্থ হতে দেখে, ক্ষুব্ধ বিমূঢ় দেবযানী কচকে তীব্র অভিশাপ দেন। অভিশাপ আর বিষাদের গ্লানি বহন করে নিরুপায় কচ দৈত্যপুরী ত্যাগ করেন।

১১- উত্তরা অভিমন্যু
যুদ্ধযাত্রায় উম্মুখ তরুণ বীর অভিমন্যু তাঁর কিশোরী প্রিয়ার কাছে বিদায় চাইতে এসেছেন। অজানা অমঙ্গল-আশঙ্কায় শঙ্কিত উত্তরা প্রিয়তমকে রণে নিবৃত্ত করতে প্রয়াস পাচ্ছেন। ক্ষত্রিয়বীর অভিমন্যু তীব্র রণোন্মাদনায় অধীর প্রিয়াকে প্রবোধ দিয়ে রণসাজে সজ্জিত হবার আনন্দে ব্যাকুল।

১২- ব্রজ বিলাস
ব্রজাঙ্গনা গোপিনীগণের প্রমোদ-কোলাহল মুখরিত যমুনা । সহসা কুঞ্জবনের আড়াল থেকে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশীর সুর ভেসে এলো। মিলনোৎসুক গোপিনীগণ দেখলো সহচরদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ পাশা খেলায় মত্ত। পাশার ছক উল্টে দিয়ে গোপিনীরা তাকে টেনে আনলো। নিধুবনের কুসুম-কুঞ্জে কৃষ্ণ ও গোপিনীগণ নিবিড় আনন্দে রাস-নৃত্যে মেতে উঠলো।

১৩- সোহরাব রুস্তম
সোহরাবের জন্মের আগেই পিতা রুস্তমকে যুদ্ধে চলে যেতে হয়। তারপর উনিশ বছর কেটে গেছে । ইতিমধ্যে সোহরাবও একজন অসম সাহসী যোদ্ধা হয়ে উঠেছে। দু’টি বিবাদমান যোদ্ধাদলের নেতা হিসেবে সোহরাব ও রুস্তম পরস্পরের সম্মুখীন হয়। কেউই তারা জানে না তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক।উন্মুক্ত তরবারী নিয়ে সোহরাব রুখে দাঁড়ালো শত্রুর সম্মুখে। যুদ্ধ শুরু হলো। পরম বিক্রমে উভয়ে উভয়ের আক্রমণ প্রতিহত করতে লাগলো। সোহরাবের এক জোরালো আঘাতে রুস্তমের তরবারী ছিটকে পড়ে গেলো।কিন্তু নিরস্ত্র রুস্তমের শিরে আঘাত না করে সোহরাব তাকে নিজের তরবারী তুলে নেবার সুযোগ দিলো। তারপর আবার সেই যুদ্ধ। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেও রুস্তমের ওপর চরম আঘাত হানতে পারলো না। রুস্তমেরও একই অবস্থা। একজন সামান্য যুবকের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে, প্রবীণ যোদ্ধা রুস্তম ক্ষেপে উঠে নিজের সাহস ও যুদ্ধ কৌশলকে অনুপ্রাণিত করার জন্যই যেন প্রচ- হুংঙ্কারে হেঁকে উঠলো-‘রুস্তম’! যে মহাবীরের সন্ধানে সোহরাব গৃহত্যাগ করেছে সেই বীর অর্থাৎ নিজের পিতার নাম শুনে সোহরাব যেন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লো। সেই মুহুর্তে তার হাত থেকে তরবারী মাটিতে পড়ে গেলো। পূর্বের রোষ সংবরণ করতে না পেরে রুস্তম নিরস্ত্র সোহরাবের বুকে নিজের তরবারী আমূল বিদ্ধ করে দিলো। মৃত্যুর মুহূর্তে সোহরাব কাপুরুষতার জন্য নিন্দা করে নিজের পরিচয় তার কাছে প্রকাশ করলো। যুদ্ধক্ষেত্রে শায়িত প্রিয়তম পুত্রের পাশে রুস্তম একাকী বসে রইলো শুধুু নিজের চরম দুর্ভাগ্যকে অভিসম্পাত দেবার জন্য।

১৪- ইরাণের এক পান্থশালায়
একপাত্র শরাব আর নর্তকীদের সঙ্গলাভের জন্য পান্থশালায় এসে জমা হয় সব রকমের মানুষ- ইরানের তেমনি একটি পান্থশালার এক কোনায় বসে নতমুখী একটি ক্রীতদাসী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো। তারপাশে বসে হিং¯্র একজন লোক অনবরত মদ্যপান করে চলেছে- ক্রন্দনরতা ক্রীতদাসীর মুনিব সে। এমন সময় সংগীতের মূর্ছনার সাথে ঝরনাধারার মতো একদল নর্তকী সেখানে এসে উচ্ছল হয়ে উঠলো। তারই মধ্যে ধীর পদক্ষেপে এসে ঢুকলো এক তরুণ কবি। তার সঙ্গে সঙ্গে নর্তকী-শ্রেষ্ঠার নজর পড়লো তার ওপর- দৃষ্টি চঞ্চল হয়ে উঠলো, বক্ষ উঠলো কেঁপে। কবিও সেই সৃষ্টির মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেললো।চঞ্চলচরণা নর্তকী কবির মুখের কাছে সুরার পাত্র তুলে ধরলো। নৃত্যের ছন্দে দেহের হিল্লোলে কন্ঠের সুষমায় নর্তকী দল কবির বন্দনা গাইলো। হঠাৎ কবির দৃষ্টি গিয়ে পড়লো ক্রন্দনরতা ক্রীতদাসীর ওপর। তারপর একটুও ইতঃস্তত না করে ক্রীতদাসীর পাশে এসে দাঁড়ালো কবি। জিজ্ঞেস করলো-কি তার দুঃখ, কেনো সে এমন করে কাঁদছে। করুণ আবেদনে হতভাগ্য মেয়েটি জানালো-তার নিষ্ঠুর মুনিবের কবল থেকে তাকে রক্ষা করার কথা। করুণা ও সহানুভূতিতে বিগলিত হৃদয় কবি প্রতিজ্ঞা করলো তাকে রক্ষা করবেই।এমন সময় সুরার নেশায় মাতাল মুনিব চাবুক হাতে এসে দাঁড়ালো দু’জনের মধ্যে। সে নির্মম ভাবে চাবুক মারতে লাগলো হতভাগ্য ক্রীতদাসীর পিঠে। কবি চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে রক্ষা করতে পারলো না। অপসৃয়রমাণ দাসী তার খোঁপা থেকে একটি শ্বেত গোলাপ তুলে নিয়ে কবির দিকে ছুঁড়ে দিলো। সামান্য ক্রীতদাসীর প্রতি কবি যে অভাবনীয় সহানুভূতি দেখিয়েছিলো- এই উপহারের মধ্যে মেয়েটি তার অন্তরের কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে গেলো যেন। কবি ধীরে ধীরে ফুলটি নিয়ে তুলে ধরলো দৃষ্টির সম্মুখে, কবির স্বাভাবিক শান্ত সুন্দর মুখখানা ঘিরে তখন বেদনার ছায়া ।নর্তকী আবার কবির কাছে এগিয়ে এসে দৃষ্টি আকর্ষণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করলো । তারপর সে কবিকে উপহার দিলো গভীর ভালোবাসার নিদর্শন একটি তাজা রক্ত গোলাপ। কিন্তু কবি তখনো শ্বেত-গোলাপটি নিয়ে হতভাগ্য ক্রীতদাসীর কথাই ভাবছিলো বুঝি। আহত মনে নর্তকীশ্রেষ্ঠা সরে গেলো ….. পর মুহুর্তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো আবার কবির সামনে এসে ক্রীতাদাসীর দেওয়া শ্বেত গোলাপটি ছিনিয়ে নিলো এবং নিজের বুকে ছুরিকাঘাত করে বুকের শোনিতে ফুলটিকে রক্তরাঙ্গা করে ফিরিয়ে দিলো কিংকর্তব্যবিমূঢ় কবির হাতে। তখন নর্তকীর মুখে সার্থকতার হাসি-কিন্তু রক্ত ক্ষরণের ফলে নিস্তেজ হয়ে সে ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।এবার কবি ভুলুন্ঠিতা অনাদৃতা নর্তকীকে গভীর আবেগে বুকে তুলে নিলো।

১৫- প্রেরণা
পূণর্ জোৎস্নায় বিশ্বচরাচর যেন ভেসে যাচ্ছে- বাগানে বসে আছে কবি। ভাবের আবেশে মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে কবি-কিন্তু লিখতে পারছে না কিছুতেই । কবির জীবনে এমন আর হয় নি কখনো।কবি-প্রিয়া এসে তখন তাকে অনেক রকমে উৎসাহিত করলো, অনুপ্রাণিত করবার চেষ্টা করলো, কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো তার সমস্ত প্রয়াস । বুকভরা দুঃখ নিয়ে প্রিয়া চলে গেলো।

তৃতীয় পর্ব : বুলবুল চৌধুরী রচিত আরও কিছু নৃত্যনাট্যের নাম

১। সাপুড়ে ২। ইন্দ্রসভা ৩। সুধন্য ৪। কবি ও বসন্ত ৫। মরু সঙ্গীত ৬। শিব ও দেবদাসী ৭। অজন্তা জাগরণ ৮। অর্জুন ৯। কালবৈশাখী ১০। হাফিজের স্বপ্ন ১১। ক্ষুধিত পাষাণ ১২। মহাবুভুক্ষা ১৩। মন্বন্তর ১৪। নিস্প্রদীপ ১৫। যেন ভুলে না যাই ১৬। দেশ প্রেমিক ১৭। ভারত ছাড়ো ১৮। আনারকলি ১৯। ননি চোর ২০। চাঁদসুলতানা ২১। বিতংশ ২২। | The Rainbow fairies ২৩।Crisis ২৪। In Bondage.

নৃত্য শিক্ষা ও কথাশিল্পের যুগল-বাঁধনে সিদ্ধহস্ত বুলবুল যেন বাংলার কিংবদন্তী পুরুষ। তাইতো তাঁর কীর্তিও স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে নিয়ে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ কওে (১৯৯৮)। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয় (মরনোত্তর)। তিনি আমাদের নৃত্যাচার্য।


সূত্র :
১। সুলতানা রাহমান, বুলবুল চৌধুরী, ইস্ট পাকিস্তান কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি, ১৯৬২
২। বাংলা পিডিয়া /শাহিদা আখতার
৩। Ershad Kamol, The Daily Star weekend Magazine, Tribute: A Revolutionary Dancer. May 15, 2009
৪। মাহমুদ নূরুল হুদা: আমার জীবনী, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৯৭