বন্দর নগরীশিক্ষাঙ্গন

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব

রাইজিং কক্স ডেস্ক : চট্টগ্রাম নগরীর হাজারী লেইনে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ভবনে অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী উৎসবে হরেক রকমের পিঠা ও খাবার প্রদর্শন করা হয়।

ভাঁপা পিঠা, মাছ পিঠা, তাল পিঠা, চু্ঁই পিঠা, ডিম পুডিং, পাস্তা, বাঁধাকপির রোল, অন্তন, নেশেস্তা হালুয়া, পানতুয়া পাটিসাপ্টা, ফুসকা, চকলেট কেক, ডিম চপ, চটপটি, ক্ষীর পাটিসাপ্টা, জলপাই আচার, মোমোস, বড়া পিদে, পরোটা, নারকেল চিড়া, অরেঞ্জ বরফি, লেয়ার পুজি, ভর্তা চিতই, মিষ্টি পিঠা, সীম পাক্কন, নারকেল পুলি, সাঁজ পিঠা, ঝিনুক পিঠা, ডোনাট, বুটের হালুয়া সবার নজর কাড়ে।

পিঠা উৎসবে উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন সহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত
পিঠা ও খাবার রঙিন পিঁড়ের ওপর সাজিয়ে পিঠা বাড়ি, কুটুম বাড়ি পিঠা স্টল, নাগরদোলা, প্রোজ্জ্বল ২৪, পিঠা পার্বণ, পিঠা বাহার প্রভৃতি স্টলে প্রদর্শন করা হয়।

উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর এ কে এম তফজল হক।

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াছমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কান্তি নাথ, প্রভাষক বদরুল হাসান আউয়াল, অর্পিতা দত্ত, ফারিয়া হোসেন বর্ষা, সুদিপ দে, উম্মে সালমা প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরী।

বক্তব্যে প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি সমাজ মুখ্যত গ্রামীণ। এই সংস্কৃতি ও সমাজে পিঠার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বাঙালির কাছে এই পিঠার কদর চিরদিন থাকবে। বাঙালির অর্থনীতি গ্রামীণ ছিল, এখনও গ্রামীণ। ষোল-সতেরো শতক এবং আঠারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত এই গ্রামীণ অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ছিল। তখন ঢাকায় তৈরি মসলিন বস্ত্রের কদর ছিল সারা বিশ্বে। এই মসলিন বস্ত্র রফতানি হতো রোম সাম্রাজ্যসহ নানান দেশে।

তিনি বার্নিয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাদশাহ শাহজাহানের আমলে বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক বার্নিয়ার দু’বার বাংলাদেশ ভ্রমণ করে ফরাসী রাজা লুই-এর প্রধানমন্ত্রী কোলবার্টকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা এদেশকে দখল করার পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে এমনভাবে লুণ্ঠন করে যে, এই লুণ্ঠিত সম্পদে ১৭৬০ দশকের মাঝামাঝি ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব হয়ে যায়। তারা ১৯০ বছর ধরে বাংলাদেশকে শোষণ করার পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা ১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত প্রায় ২৩ বছর শোষণ করে। ইংরেজ ও পশ্চিম পাকিস্তানিদের নগ্ন শোষণের কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে, বাংলাদেশ নিঃস্ব ও গরিব হয়ে যায়।

ড. অনুপম সেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও উঠে দাঁড়িয়েছে।