নিবন্ধপাঠকের কলামশিল্প ও সাহিত্য

প্রিয় বন্ধু আবুল হাসনাত স্মরণে

শেখর দত্ত

সকাল শেষ হয় নাই। তখনো ফোন খুলি নাই। খুলতেই ফোনের মধ্যে ভাগ্নি নবনীতার (বিশিষ্ট সাংবাদিক, গায়ক, লেখক, সমাজকর্মী) ছবি ভেসে উঠলো। মেসেজ এসেছে। খুলতেই চোখে পড়লো, ‘হাসনাত মামা মারা গেছেন।’ দৌড়ে গেলাম আভার কাছে। খবরটা দিলাম। ইতোমধ্যে চোখটা জলে ভরে উঠলো। চেয়ারে বসে পড়লাম। আভা কাঁদছে। মনে হলো সব নীথর- স্তব্ধ হয়ে আছে চারপাশ ঘিরে। মেঘলা আকাশ। যত পারে বৃষ্টি হোক আজ!

খবরটা খুব আকস্মিক ছিল না। গত সন্ধ্যায় মিনুর (ছাত্রনেত্রী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, হাসনাত ভাইয়ের স্ত্রী) সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তখনই শুনেছি অবস্থা ভাল নয়। ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণেই আমরা দু’জন হাসনাতভাইকে নিয়ে কথা বলেছি। স্মৃতি কখনও মনকে নাড়া দেয় বড্ড বেশি। সব যেন তখন শরতের শেফালি ফুলের মতো ঝড়ে পড়তে থাকে। হাসনাতভাইকে নিয়ে আমাদের কত স্মৃতি। ‘যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ’ কবিগুরুর এই লাইনগুলো স্মরণ করে রাত ১২টার পর ঘুমাতে গেলাম।

এক ঘুমে সকাল। এমনটা হয় না। তবে ঘুমটা ভাঙলো স্বপ্ন দেখে। হাসনাত ভাই ও আমি কলকাতার রাস্তায়। যাচ্ছি কবি বিষ্ণু দের বাসায়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই আমরা পিছু হটে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাসহ সহযোদ্ধা অনেকেই গেলাম আগরতলায়। তখনও মুক্তিযুদ্ধকে সংঘটিত করার কাজ শুরু হয় নাই। মানুষ সব যাচ্ছে হানাদার বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে স্বদেশ ভূমি ছেড়ে। আমার মা-বাবা-ভাই-বোন সব কলকাতায় থাকেন। অনেকদিন দেখিনা। পংকজদারও একই অবস্থা। ফরহাদ ভাই বললেন, সবাইকে দেখে আসেন। পরে আর যাওয়া যাবে না।

কলকাতা যাব শুনতেই হাসনাত ভাই তার সহজাত কাচুমাচু ভাব নিয়ে বললেন, ফরহাদ ভাইকে বলেন না; আমিও যাব কলকাতায়। আমার আত্মীয় রয়েছে কলকাতায়। রাজভবনে চাকরি করে। তাদের দেখতে যাব। তিনি যাবেনই। কেন তা আমাদের কারো কাছেই অজ্ঞাত নয়। সংস্কৃতির শহর কলকাতা হাসনাত ভাই-এর কাছে স্বপ্নসম। আমি বলতেই রাজি হয়ে গেলেন ফরহাদ ভাই। আমার সাথে আমাদের বাসায় থাকবেন। ছুটি মঞ্জুর হলো। আগরতলা থেকে তেলিয়ামোড়া হয়ে আমরা গেলাম ধর্মনগর। পয়সা পকেটে সামান্য। ট্রাকের পিছনে উঠলাম আমরা। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার।

ট্রেনে দীর্ঘ যাত্রা। কলকাতা পৌছালাম। ক্লান্ত-অবসন্ন আমি। কিন্তু উৎসাহ তার উপচে পড়ছে। আজ সকালে উদ্ভাসিত সেই চেহারাটাও স্বপ্নে দেখলাম। ছুটি আমাদের দিন দশেকের। হাতে সময় কম। হাসনাত ভাই সময় নষ্ট করবেন না। লিস্ট করলেন, কবি-সাহিত্যিক কার কার সাথে দেখা করবেন। বিষ্ণু দে হচ্ছেন তালিকার প্রথমে। কবির বাসায় গিয়ে আমরা হতবাক। চারদিকে বই আর বই। যেখানে জায়গা সেখানে বই। কবি আমাদের অনেকটা সময় দিলেন। তার কবির ছেলে যিষ্ণু দের সাথে হাসানাত ভাই বন্ধুত্ব করে নিলেন।

স্বপ্নটা দেখে ঘুম ভেঙে গেল। সকালের খাবার টেবিলে স্বপ্নটা দেখার কথা বললাম আভাকে। আভাকে বললাম আজ সকালের ভাবনা লিখতে হবে হাসনাতভাইকে নিয়ে। আভা পরে সময় মিলিয়ে দেখেছে, আমরা যখন হাসনাত ভাইকে নিয়ে কথা বলছি, তখনই আমাদের একান্ত জন, চির-ভদ্র হাসনাত ভাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কাকতালীয় অনেক কিছুই ঘটে! তাই না!

স্বপ্ন দেখার পর ঘুম ভাঙতেই মনে হলো, হাসনাত ভাই শুয়ে আছেন হাসপাতালে। বিছানায় থাকতে ইচ্ছে করছিল না। জানলার পর্দাটা খুলে দিলাম। পুবের আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। আর উত্তর পশ্চিম আকাশ জুরে কালো মেঘের মাঝখানে বেশ খানিকটা জায়গাজুরে আলোর বিচ্ছুরণ, সব রঙ সেখানে খেলা করছে। মনে পড়লো, হাসনাতভাইয়ের কবি মন ছিল রঙের খেলার পাগল। যুগীনগরের বাসার সুন্দরভাবে সজানো ঘরটায় সেই ছাত্র বয়সেই ছিল নামজাদা শিল্পীদের আঁকা সব ছবি। ছবি সংগ্রহ করেই আমাদের বলতেন কি বলে শিল্পীরা তাকে ছবি দিয়েছেন। তখন তার চোখ-মুখ-শরীর আনন্দে-গর্বে ভরে উঠতো।

হাসনাত ভাই বয়সে আমার চাইতে এক বছরের বড়। ছাত্র ইউনিয়ন করার পর তার সাথে পরিচয় হতে খুব একটা সময় লাগেনি। মতি ভাই (প্রথম আলো সম্পাদক) ও হাসনাত ভাইয়ের ছিল প্রগাঢ় বন্ধুত্ব, মানিকজোর। কিন্তু ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর কর্মক্ষেত্র দু’জনকে কিছুটা আলাদা করে দিল। মতিভাই চলে গেলেন একতার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হয়ে। পুরান ঢাকায় অফিস। আর হাসনাত ভাই রয়ে গেলেন ছাত্র ইউনিয়নে আমাদের সাথে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের আগে-পরে আমরা চারজন সামসুদ্দোহা-নুরুল ইসলাম নাহিদ-আবুল হাসনাত-আমি ছিল হরিহরআত্মা। সংবাদে চাকরি করতেন। তাই্ হাসনাত ভাইকে সন্ধ্যায় চলে যেতে হতো বংশালে। তাছাড়া সারা দিন রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কাজে আমরা একসাথে কাটাতাম। রাজনৈতিক কাজ আর সেই সাথে মধুর ক্যান্টিন, বলাইয়ের ক্যান্টিনে আড্ডা আর চাটা খাওয়া। টিএসসি, ডিলাইট, কাফেরাজ, কাফেখাস, হাসিনা হোটেলে দুপুরে ভাত খাওয়া। ৩১/১ হোসেনী দালাল রোড ছাত্র ইউনিয়ন অফিস। কখনওবা সেখানে কলিজা-পরোটা খাওয়া। দুপুরে কোনো ফাঁক পেলে বেঞ্চিতে পুরানো কাগজ মাথায় দিয়ে আড্ডা মারা।

আড্ডার মূল বিষয় রাজনীতি। হাসনাত ভাই সংস্কৃতির বিষয় টেনে আনতেন। সেই সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংগুলো ছিল প্রাণবন্ত। কখনও হাসি ঠাট্টা, তখনও রাগ অভিমান। একাদশ প্রাদেশিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২৩-২৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ (হয়নি গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার কারণে)। যতটুকু মনে পড়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা হচ্ছে। সম্মেলনের বাজেট পাশ হবে। হাসনাতভাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বাজেট দিলেন। বেশ মোটা অংকের। কারণ কি?

হাসনাত ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল নাটকের মঞ্চ হবে ঘূর্ণায়মান, ঠিক কলকাতার মতো। তাই বাজেট বড়। দোহা ভাই বললেন, টাকা কই! এবারে ঘোরার প্রয়োজন নেই। সবার এই মত। হাসনাত ভাইয়ের বাজেট কাটা হল। কাঁদো কাঁদো চেহারা। আজ এই ঘটনাটা খুব মনে পড়ছে। আর মৃত্যুর খবর শোনার পর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

এমন সংস্কৃতি অন্তপ্রাণ মানুষ আসলে বিরল। তবে ছাত্র ইউনিয়নে রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতি অন্তপ্রাণ সংগঠকরা জড়ো হয়েছিল ষাটের দশকে। সাইফউদ্দিন মানিক, সারওয়ার আলী, মতিউর রহমান, আবুল হাসনাত, আসাদুজ্জমান নূর, মফিদুল হক প্রমুখ সাংস্কৃতিক সংগঠকরা ছিল কোনো না কোনো সময় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। আর তাদের সাথে ছিল বিভিন্ন হল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী।

রাজনীতি ও সংস্কৃতি পদ্মা-যমুনার মতো ওই দিনগুলোতে ছাত্র ইউনিয়নে এক সাথে মিশেছিল। এমনি এমনি তো আর ষাটের দশক গৌরবোজ্জ্বল সোনালী দশক হয়নি। সাহসী যৌবন ওই দশকে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখেছিল। ছাত্র আন্দোলন-সংগঠনের মধ্যে সংস্কৃতির বিষয়টা যুক্ত করার ক্ষেত্রে হাসনাত ভাইয়ের অবদান অমোচনীয় কালিতে লিপিবদ্ধ থাকবে।

হাসনাত ভাইয়ের যুগীনগরের বাসায় কত যে গিয়েছি। মিটিং করেছি। আড্ডা মেরেছি। একসাথে খেয়েছি। ঈদের দিনে দুপুরে ঠিক যেতাম হাসনাত ভাইয়ের বাসায়। খালাম্মা আমাদের সামনে বের হতেন না। তবে ঠিক বুঝতাম তিনি অড়ালে থেকে আমরা কি খাচ্ছি তা প্রত্যক্ষ করতেন। খালু খুব কম কথা বলতেন। আমাকে দেখলেই হাসতেন। হাসনাত ভাইয়ের বোনদের কথা মনে পড়ে। আমাদের অত্যাচার খুব একটা কম সয়নি হাসনাত ভাইয়ের পরিবার।

তখন আমাদের বয়স আর কত! আড্ডা হবে আর প্রেম-ভালবাসা নিয়ে খেপানো হবে না এটা তো হয় না। কল্পনা-বাস্তব সব মিলিয়ে কত যে একজন আরেকজনকে খেপিয়েছি। কখনও আবার দমন-পীড়নের মধ্যে পড়ে মনে করেছি, দাদাদের মতো আমাদেরও ঘরসংসার হবে না। হাসনাত ভাই পশতু গণমুখী কবিতা অনুবাদ করেছিলেন। একটি কবিতা ছিল আমার মুখস্ত : ‘ভালবাসা পালাও/প্রেমে আমার রুচি নেই/ভাগো/যেখানে ছোট ছোট ছেলেরা ক্ষুধায় মরছে/ সেখানে প্রেমের হাসি আমি কি করে হাসবো।’ এমন কবিতা যিনি অনুবাদ করেছেন, অথচ তিনিই এক সময় আমাকে খেপাতে শুরু করলেন ‘খেজুর গাছ’ বলে। যশোরে নাকি ওই গাছ খুব বেশি।

মিনু-হাসনাত ভাইয়ের বিয়ের কথা খুব মনে পড়ে। আমি মিনুর ছোটবোন নিনু আর বড় ভাইকে বাসায় পড়াতাম। কত যে স্মৃতি! যত রাজ্যের যত স্মৃতি আজ সকালে যেন ভর করছে আমার মনে। আমাদের সকলের সংসার জীবনের সাথে কমবেশি আমাদের বন্ধুরা জড়িয়ে আছে। কখনও তাই ভোলা যাবে না হাসনাত ভাইকে। জীবনের সাথে মিশে আছে বলেই আমরা প্রথম জীবনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা আসলে কেউ কাউকে ভুলতে পারবো না। যত দূরেই থাকি না কেন আমরা!

রাজনীতি-আন্দোলন আসলেই একটা জটিল ও কঠিন জায়গা। সময়ই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। কখনও স্রোতের টানে সমমনাদের একত্র করে আবার মত পার্থক্য হলে তাদের পৃথক করে। রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ বিধায় আমরাও জাতির উত্থানের দিনগুলোতে একত্র হয়েছিলাম। ভাটার টানে আবার নানাভাবে ছিটকে গেছি। অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। কিন্তু ওই সময় থেকে কি ছিটকে বের হতে পেরেছি! মনে হয় কেউ পারি নাই।

আমার দুঃখটা এই জন্য কম যে, শেষ পর্যন্তও হাসনাত ভাইয়ের সাথে আমার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। স্মৃতিকথা লেখার সময় প্রায়ই টেলিফোন করতেন। অফিসেও আসতেন। দেখা হলেই কলকাতায় গল্প করতেন। মা-বাবা আর বড়দির কথা খুব বলতেন। দিন পাচেকের মতো কলকাতায় আমাদের বাসায় ছিলেন। প্রথম রাতে আমরা ছিলাম বড়দির বাসায়। বড়দি (মনজু দত্ত) বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকা এসেছিলেন। হাসনাত ভাইকে জানাতেই বাসায় নিমন্ত্রণ করলেন। কত গল্প দিদির সাথে। সব সুস্পষ্ট দু‘জনেরই মনে আছে। দিদি তাকে ‘ভাইটি’ বলে ডাকতেন। আর কলকাতায় গেলে দেখা হলেই বড়দা জিজ্ঞেস করতেন, ‘কবি ভাইটি’ কেমন আছে?

স্বাধীনতার পর হাসনাত ভাই সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন সিনেমা অটোগ্রাফি পড়বেন বলে। পড়তে না পারার কারণে খুব দুঃখ ছিল তার। গণসাহিত্য নামে একটি পত্রিকা বের করেছিলেন। সেটাও ধারাবাহিতা রক্ষা করতে পারেনি। আরো একটি দুঃখ ছিল, স্বাধীনতার পর কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রতিনিধি হতে পারেননি বলে। সুখ-দুঃখ মিলেই মানুষের জীবন। জীবন কখনও থেমে থাকে না। হাসনাত ভাই অবিরাম এগিয়ে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্যময় সমাজ ও সংস্কৃতিবান মানুষ গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। ওই স্বপ্ন থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি।

সবাই যখন হাসনাত ভাইকে খুঁজছেন সংবাদ দৈনিকের সাহিত্য পাতা বা কলি কলম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তার কর্মের মধ্যে, তখন কেন জানি না আমি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি সেই ষাটের দশকে। যিনি একুশের সংকলন প্রকাশে, একুশের রাতে শহীদ মিনার আলপনা ও শিল্পীদের ছবি দিয়ে সাজাতে, সংস্কৃতি সংসদের নাটকে করতে, জনসভা বা সম্মেলনের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংঘটিত করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জাতির জন্মের উৎসমুখে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আবুল হাসনাতের অবদান কখনও বিস্মৃত হবার মতো নয়।

ষাটের দশকের গণজাগরণ বইটিতে প্রতিটি পরিচ্ছেদের শুরুতে সেই দিনগুলোর একজন চিত্রশিল্পীর সাথে একজন কবির কবিতা দেয়া হবে বলে যখন ঠিক হয়, তখন দৈনিক সংবাদ খুঁজে মাহমুদ আল জামানের (ওই নামে লিখতেন) একটি কবিতা পেয়েছিলাম: ‘মানুষ অমরতার গান ও ভাবনা’ শিরোনামে। খুব খুশি হয়েছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় নিতুন কুণ্ডুর ছবির সাথে তার কবিতাটি দিয়েছি বলে।

কবিতাটি দিয়েই অনুধাবন করা যাবে হাসনাত ভাইয়ের স্বপ্ন। ওই কবিতার কয়েকটি লাইন লিখেই মৃত্যুদিনে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি- ‘শত পীড়নেও হৃদয়কে পুড়িয়ে দিয়ে/নীরবতার কাঁধে/মানুষের ঘোলাটে মুখে এখন/ আশ্চর্য আলোর সমুদ্র।’

হাসনাত ভাই আলোর সমুদ্র দেখতে চেয়েছিলেন। হাসনাত ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি জানাই রক্তিম সালাম।