বন্দর নগরীশিক্ষাঙ্গন

বঙ্গবন্ধুর অদম্য চেতনা শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে: চবি উপাচার্য

রাইজিং কক্স ডেস্ক : মহাকালের মহানায়ক বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, রাজনীতির মহাকবি, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বর্ণিল আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদযাপিত হয়।

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১৬ মার্চ দিবাগত রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে মাননীয় উপাচার্য চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ১১ টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে মুজিববর্ষের মোমেন্ট কাউন্টডাউন উদযাপন করা হয় এবং সম্মিলিত কন্ঠে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শুভ শুভ শুভ দিন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ শ্লোগানে বঙ্গবন্ধু চত্বর মুখরিত হয়। রাত ১২ টায় চবি পরিবারের সকলের অংশগ্রহণে চবি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আতশবাজির বর্ণিল ছটায় মুজিববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়। ১৭ মার্চ ২০২০ সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অতঃপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং মাননীয় উপাচার্য বেলুন উড়িয়ে মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বেলা ১১.২০ টায় উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কর্ম ও জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। আলোচনা সভার শুরুতে মাননীয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে কেক কাটেন।

সভাপতির ভাষণে মাননীয় উপাচার্য বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশলক্ষ শহীদ, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতক হায়েনাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত দু’লক্ষ জায়া-জননী-কন্যার প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাঙালি জাতির কাছে নিছক জন্মদিন নয়, শত শত বছরের পরাধীনতা, গোলামী, শোষণ আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় অবস্থানের অদম্য চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন। তিনি বলেন, এ মহান নেতার জন্ম না হলে বাঙালি জাতি কোনদিনও অর্জন করতে পারতো না একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি জাতিকেই একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দেননি তিনি বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত গণ মানুষের মুক্তির পথ প্রদর্শক হিসেবে বিশ্ববাসীর হৃদয় জুড়ে রয়েছেন। তাইতো তিনি ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ বিশ্বনেতা শেখ মুজিব। মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, এ মহামানবের জীবন চরিত শিশু-কিশোরসহ আমাদের সকলের জন্য অনুকরণীয়। মাননীয় উপাচার্য আমাদের প্রাণপ্রিয় শিশু-কিশোরদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক চেতনায় উজ্জীবিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-মানবিক চেতনা সমৃদ্ধ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব চবি প্রক্টর প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কে এম নুর আহমদ। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন, পবিত্র গীতা ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি-উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চবি কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন।

এ ছাড়াও কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ মার্চ ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য খতমে কোরআন, বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্ব স্ব উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। তাছাড়া চবি প্রশাসনিক ভবন, হলসমূহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু চত্বরে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্যবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারি সমিতি, কর্মচারি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দসহ সুধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি