পাঠকের কলাম

বাজি ধরার প্রবণতা বাড়ছে, প্রকোপ কমাতে করণীয়

মাহাবুব কাউসার

বর্তমানে বাজি ধরা/বেট হচ্ছে অান্তর্জাতিক একটা সমস্যা। বিভিন্ন ধরণের খেলা-কে কেন্দ্র করে মূলত এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সম্প্রতি এর প্রভাব সারা বাংলাদেশে প্রতীয়মান। দেশের শহর বন্দর পার হয়ে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা গ্রামে-গঞ্জে। প্রতিটা চায়ের দোকান, অলি-গলিতে বেশ রমরমা ভাবে চলছে এই বাজি ধরার নামে জুয়া। সাধারণত দেখা যায় এসবের নেশায় ডুবছে মধ্যবয়সী ও তরুণ ছেলে-মেয়েরা। যার ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে হাজারো সামাজিক সমস্যা। সাধারণত অনলাইনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কিংবা মৌখিক ভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে এই বাজি ধরা হয়ে থাকে। তাই এই বাজি ধরার নামে জুয়া বন্ধ করা খুবই কঠিন একটা প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সামাজিক কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে এর প্রকোপ কিছুটা কমতে পারে বলে অামার বিশ্বাস। যেমন;

১) যারা এসবের সাথে জড়িত তাদের তালিকা তৈরী করা।
২) তালিকাভুক্তদের নিয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গরা নির্দিষ্ট স্থানে বসে বাজি ধরার খারাপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করা।
৩) ধর্মীয় নেতাগণ বিভিন্ন মাহফিল-সভা কিংবা জুমা’র খুতবার আলোচনায় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর খারাপ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা।
৪) বিভিন্ন শিক্ষণীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা।
৫) যারা স্থানীয় প্রতিনিধি অাছে তাদের মাধ্যমে তালিকাভুক্তদের দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
৬) ধর্মচর্চা’র প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে তাদেরকে সচেতন করে তোলা।
৭) তাদেরকে যেন মানসিক ভাবে কিংবা অন্যভাবে কেউ হেনস্থা না করে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা।
৮) বাজি ধরার যে খারাপ দিক গুলো রয়েছে তা তাদেরকে বুঝানো। বাজি ধরার ফলে সামাজিক বা পারিবারিক যে সমস্যাসমূহ সৃষ্টি হয় বা হতে পারে তার ব্যাপারে সুষ্টু ভাবে বুঝিয়ে তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস,যদি সমাজের প্রত্যেকে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাই তাহলে এই ধরণের যে কোনো সামাজিক বা জাতীয় সমস্যা থেকে আমরা খুব সহজেই মুক্তি পেরে পারি। সবার মঙ্গল কামনা করছি।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
হাসি মুখ ফাউন্ডেশন (রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন), উখিয়া, কক্সবাজার।