বিচার

ওমানা পারভীন শিলা 

মানুষ তুমি করছটা কি?
হয়ে দিশেহারা!
ভালো মন্দের বিচার করে কাটছে সারাবেলা।
কে ভালো আর কে মন্দ
বোঝা ভারি দায়,
ভালো মন্দের বিচার করা এতো সোজা নয়।

সুত্র যদি নাওগো জেনে প্রকৃতি থেকে
ভালো মন্দের হিসাব নিয়ে পড়বেনা গড়মিলে।
ভালোর মাঝে মন্দ আছে
অন্ধকারে আলো,
প্রকৃতির সূত্র মেনে হিসাব কষি চলো।

রূপবতী রুপকুমারী
সূর্য দেবী উঠলো জাগি
দিকে দিকে আলোক রাশি
ছড়ালো ভূবণ ভালোবাসি।
কি অপরুপ রূপের ছটাই
বিশ্বাবাসী চোখ মেলেচায়!
তেজস্বিনী হয়ে হঠাৎ
ভীষণ রাগে ভীষণ ক্ষোভে
জ্বাললো আগুন দাবানলে।
দিক বিদিক পুড়িয়ে ভূবণ
থামলো মেখে নবীন কিরণ,
ভোরের আলোয় উঠলো জেগে
সূর্যদেবী আপন নীড়ে।

গগনের বিশালতা দেখ যদি চেয়ে
দিগন্তে মিশে আছে পৃথিবীকে ছেঁয়ে।
কালো মেঘের দল এসে অবেলায়
দিগন্ত ঢেকে দেয় নিঠুর খেলায়
আঁধার হারায়ে গগন নিজেরে খোঁজে
অঝোরে ঝড়ায়ে ধরা নীলিমায় হাসে।

বাতাসের উদারতায় প্রাণী কূল বাঁচে
বন্ধু হয়ে সে সদা পাশে থাকে।
আপনারে লুকিয়ে সে আপনি বিলাই
শ্বাসে প্রশ্বাসে মিলে মিশে এক হয়ে রই।
হঠাৎ-ই কি অবুঝ নেশায় উঠিলো মেতে!
তান্ডব লীলায় পৃথিবী উঠিল কেঁপে।
দিক বিদিক ছুটিয়া পাগলের ন্যায়
স্নিগ্ধ পরশ দিয়ে থামিবে সদায়।

উচ্চ করে শির চূড়ায় ছুঁয়েছে পাহাড় আকাশের নীল
মাটির দেহ তার মাটিতে মিশে
ঝর্ণার কলতান বুকেতে নিয়ে।
পহাড়ের ধ্বসে তবু কতো প্রাণ যায়
কতো বাড়ি কতো ঘর ঢলেতে হারায়।

ছুটিয়া চলিছে নদী আপন বেগে
বোঝা কি যায় কভু?
কতো গভীর ক্ষত আছ তার বুকে!
আপন সুধা বিলায়ে নদী তৃষ্ণা মেটায়
সবুজে সবুজে দুকূল সাজায়।
বানভাসি মানুষের হাহাকার ঐ শোনা যায়।
নদী গর্ভে বিলীন হয়ে নিঃস্ব সবাই।

কুৎসিত শুয়োপোকা হয় যে রূপবতী
ডানা মেলে উড়ে যায় হয়ে প্রজাপতি।

আঁধার রাতের আলোর বাঁতি
চন্দ্র বতীর রূপোর কাঠি
নিটোল আলো দিল ঢালি,
পথের বাঁকে পথ খুঁজে নাও
হইও না দিশেহারা।
রাত যতোই হোকনা কালো
আঁধারেতে ঢাকা
রাতের পরে আসবে যে দিন
এইতো জীবন ধারা।

নিজের বিচার করো মানুষ
নিজেকে তুলে ধরো
অন্যের বিচার করতে গিয়ে
আর হইও না খাটো।
অল্প কিছু সময় হাতে
মিশবে দেহ মাটির সাথে
ভালো মন্দ কেউ রবেনা
সবাই হবে পর,
নিজের বোঝা নিজের কাঁধে
বইতে হবে শেষ বিচারে,
ওপারের ডাক এলে সব
হবে ছারখার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।