বিশের শেষে একুশে নতুন আশা

শুভংকর বড়ুয়া

“যাচ্ছেরে জীবন ধেয়ে,
কান্না-হাসি, সুখ-দুঃখ
জীবনের গান গেয়ে।”

শীতের শেষেই বসন্ত আসে, তার হাত ধরে আসে নতুন বছর, নতুন ক্যালেন্ডার, নতুন স্বপ্ন। শত বিষন্নতার মাঝেও নতুন বছরকে ঘিরে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে সকলে, প্রহর গুনে জানুয়ারি মাসের ১ম তারিখটির জন্য।
নতুন বছর মানেই একটি বছরের শেষ, সাথে কিছু ভালোমন্দ স্মৃতির অবসান। প্রতিদিন চলার পথে ইংরেজি মাসের তারিখ, দিনগুলো আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ সাল থেকে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু হয়। সেই থেকে যুগ যুগ ধরে আমরা এই ইংরেজি মাসের দিন, তারিখ দেখেই সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছি। গুটি  গুটি পায়ে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের বারোটি মাসের শেষে আসে নতুন বছর নতুন মাস। পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরে নতুনভাবে বাঁচার প্রেরণা নিয়ে পা রাখি।

একটু বিগত বছরে ফিরে দেখলে দেখা যায়-
২০২০সালে আমাদের ওপর দিয়ে করোনা মহামারীর আপতন হয়েছে। পৃথিবী জুড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু, প্রিয়জন হারানোর দুঃখ… । সব মিলিয়ে জনজীবন বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিলো সকলের একটাই কামনা কখন নতুন বছর আসবে, সকলে এই আশা নিয়ে আছে যে গতবছরের তুলনায় এই বছরটা ভালো কাটবে।। পৃথিবীতে খারাপ সময় এসেছিলো, এসেছে এবং সামনেও আসবে কিন্তু সবকিছুর র্উধ্বে গিয়ে লড়াই করতে হবে, বেঁচে থাকতে হব আমাদের। আমরা একটু পজিটিভ ভাবে চিন্তা করলে দেখতে দেখা যায় ২০২০ আমাদের সভ্য বানিয়েছে। করোনার প্রকোপ যখন ছিল না তখনও  রাস্তাঘাটের, বাজারের ধুলাবালি, বায়ু দূষণের ফলে দেশে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে প্রতি দিন গড়ে ৮০০- ১০০০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য যেত। জানা যায়, ২০১৭ সালে বায়ুদূষণের ফলে মৃত অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা ১লাখ ২৩ হাজার। এই যে মানুষ মাক্সের ব্যবহার শিখেছে, স্বাস্থ্যসচেতন হয়েছে এটাই সবচেয়ে ভালো প্রভাব। ২০২০ সাল বেদনার সাথে সাথে আমাদের সভ্য হতে শিখিয়েছে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দু-কলম অনুভূতি —
সৃষ্টিতে যতক্ষন দ্বিধা থাকে
ততক্ষন সুন্দর দেখা যায় না
সামঞ্জস্য যখন সম্পূর্ণ হয় তখনই
সুন্দরের আর্বিভাব!

পরিশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে তাল মিলিয়ে বলি সৃষ্টির প্রতি কোন দ্বিধা না রেখে, সৃষ্টির অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করি।
একে অপরের সাথে মিলে মিশে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, নিজেকে মানবতার কাজে জড়িয়ে, নিজের ভিতর মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করে বাকি জীবনটা পার করি। সৎবাক্য প্রয়োগ করে, সত্যের সেবক হয়ে মনুষ্যত্বের পূর্ণতা লাভ করি। তছনছ হওয়া স্বপ্নরা আবার জড়ো হচ্ছে, ঘাতপ্রতিঘাত দহনে-সহনে উত্তম জীবন গড়ি।

লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিজ্ঞান,
সরকারি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ,
উখিয়া, কক্সবাজার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।