খেলাধুলা

বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসএ গেমসে জিতলেন সোনা

ইতি খাতুন। ফাইল ছবি

ক্রীড়া ডেস্ক, রাইজিং কক্স : তখন বয়স ছিল মাত্র ১১। এই বয়সেই মেয়েকে ‘ঘাড় থেকে নামানোর’ সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।

কিন্তু মেয়ে তো অপ্রতিরোধ্য। মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলেই যে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যাবে, এটা মানতে নারাজ ছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সেই কিশোরী। তার স্বপ্ন ছিল বড় হওয়ার। দেশের জন্য কিছু করার। তাই সে পালানোর সিদ্ধান্ত নিল। সোজা চলে গেল আর্চারি ফেডারেশনের ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায়। সেই মেয়েটিই চলতি এসএ গেমসে দেশকে সোনা এনে দিয়েছে।
এই গল্প চুয়াডাঙ্গার মেয়ে ইতি খাতুনের। বাড়িতে যখন বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, তিনি তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন।

তারপর শুধু বিজয়ের গল্প। আজ নেপালে চলমান দক্ষিণ এশীয় গেমসের আর্চারির মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ও মিশ্র দলগত ইভেন্টে জোড়া স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন তিনি। নেপালের পোখারায় রোববার মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে ভুটানের বিপক্ষে ৬-০ সেট পয়েন্টে জিতে মেয়েরা। পরে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে রোমান সানার সঙ্গে ভুটানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে সোনার পদক জিতেন ইতি।

ইতির এই সিনেমাটিক জীবনকাহিনীর পেছনে অবদান রয়েছে আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপলের। তার প্রচেষ্টাতেই ইতির আর্চার হয়ে ওঠা। তবে এই অপরিচিত খেলাটি নিয়ে শুরুতে কোনো স্বপ্ন ছিল না ইতির। তিনি চেয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। পড়াশোনা করবেন বলেই তিনি বিয়ের আসর থেকে উঠে গিয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় নজরে পড়েন কোচদের। তীরন্দাজ সংসদ তাকে দলে নেয়। সেই ইতি এখন দেশের গর্ব। তার স্বপ্ন এখন বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন