আন্তর্জাতিকপ্রধান সংবাদ

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭২৭, মৃত ২০

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে একদিনে ১১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল দশটা পর্যন্ত ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৭। এদের ৪৭ জন বিদেশি। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। তবে দেশের রোগীদের মধ্যে ৪২ জন সেরেও উঠেছেন। চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টিন পর্ব পার করে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ স্টেজ থ্রি-তে এখনও না পৌঁছলেও, তা যে কোনও সময় ঘটতে পারে। অর্থাৎ সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়ে যেতে পারে। এ পর্যন্ত দেশে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেরই কোনও না কোনও ভাবে বিদেশিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। হয় তারা সম্প্রতি বিদেশ থেকে ঘুরে এসেছেন, বা বিদেশ থেকে আসা কোনও মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। কিন্তু এমন কেউ যদি আক্রান্ত হন, যিনি গত কয়েক দিনে কোনওভাবেই কোনও বিদেশি মানুষের সঙ্গে মেশেননি, তাহলে সেটাই সামাজিক সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করার অর্থাৎ স্টেজ থ্রি-র প্রথম ধাপ। এই অবস্থায় সংক্রমণ রুখতে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করা জরুরি। বিষয়টি বিবেচনা করেই ভারতে ২১ দিনের লকডাউন জারি করা হয়েছে।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গ্যাব্রিসিয়াস জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু লকডাউনই যথেষ্ঠ নয়, রোগীদের খুঁজে বের করা, আইসোলেশন করা, পরীক্ষা করা, চিকিৎসা করার বিষয়েও সমান জোর দিতে হবে। করোনাভাইরাসকে আঘাত হানতে আরও আগ্রাসী হতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের একটি ও দেশের অন্যান্য রাজ্যে আরও ৩৪টি ল্যাবকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দিয়েছে আইসিএমআর। এখনও পর্যন্ত যা হিসেব তাতে মহারাষ্ট্র ও কেরালায় করোনাভাইরাসে সবথেকে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত। সে কারণে মহারাষ্ট্রের এবং তামিলনাড়ুর চারটি ল্যাবকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
২১ দিনের এই লকডাউনের তৃতীয় দিন চলছে। ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জন্য ১.৭ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। খাদ্য সুরক্ষা ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসামগ্রী কেনার সুবিধায় এই টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবারই করোনা নিয়ে টেলিকনফারেন্সে বসেছিল জি-২০ দেশগুলি। তারা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যোগ করবে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যাতে করোনা ধাক্কা সামলে সবাই ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: দ্য ওয়াল