মহেশখালীতে আ’লীগ অফিস ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

মহেশখালীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ছবি : আহসান সুমন

রাইজিং কক্স :
জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রীর ছবি এবং আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনায় জড়িতরা যতো বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রত্যেক হামলাকারীর স্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ এবং ছবি আছে। সেসব দেখে দেখে গ্রেফতার করা হবে নাশকতাকারীদের বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশিদ। বুধবার মহেশখালী আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মামুনুল হক ইস্যুতে হেফাজতের তান্ডবে আওয়ামী লীগ অফিসসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বুধবার দুপুরে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগকৃত অফিস পরিদর্শন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) মোঃ মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় ঢাকা থেকে টেলিফোনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। এছাড়া কক্সবাজার ডিজিএফআইয়ের অধিনায়ক, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক, কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আনোয়ারুল আজিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, আনসার ভিডিপির জেলা এডজুটেন্ট, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান, মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মকছুদ মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ছালেহ আহমদ, কালারমারছড়ার চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, শাপলাপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, ধলঘাটার চেয়ারম্যান কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহেশখালীর সার্বিক নিরাপত্তা ও হেফাজতের হামলা পরবর্তী করনীয় নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
উল্লেখ্য, গেলো ৩ এপ্রিল রাতে মামুনুল হক ইস্যুতে মহেশখালীর বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের মিছিল থেকে হামলা ও তান্ডব চালানো হয়। এসময় বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়, থানা ও উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করে।
এ নিয়ে দায়ের করা তিনটি মামলায় মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক রহমান জুয়েলসহ ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।