নিবন্ধশিল্প ও সাহিত্য

মানব জীবন কি সত্যি এমন?

সাকিব চৌধুরী  

জানেন আজকে আমি নিজে নিজে অনেক চিন্তিত!হয়তো আমার মতো অনেকে এই চিন্তা অনেক আগে করেছেন। হয়তো তা বুঝেও গিয়েছেন। কিন্তু তবুও না জানার, না বুঝার মতো প্রতিনিয়ত ভান করে যাচ্ছেন!

আমি এতক্ষণ বলছিলাম জীবনটি কেমন এই চিন্তার কথা? আসলে আপনি আমি যেমন ভাবছি জীবনটা কিন্তু আসলে তেমন নয়। জীবন কখনো টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচের মতো আবার কখনো টেস্ট ম্যাচের মতো!……………….

সত্যি জীবন কখনো রেললাইনের মতো সমান্তরাল আবার কখনো সাপ লুডু খেলার পিঁছনের সাপের মতো আঁকাবাকা!
আজকে আপনি, আমি সবাই শিশু কিন্তু কাল আমরা সবাই বৃদ্ধ হবো।
মনে রাখবেন, একদিন আমাদের মতো আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদী সবাই কিন্তু শিশু ছিলেন।কিন্তু দেখেন আজ তাঁরা সবাই বৃদ্ধ!
তাঁদের চুল পেকেছে, আপনার আমার মতো সেই সুন্দর রুপের চামড়াও ঝুলে গিয়েছে!

একদিন আপনার, আমার সবারও চুল পেকে যাবে, আমরাও বুড়ো হয়ে যাবো। এখন অহংকার করার মতো রুপের চামড়াও ঝুলে যাবে! তবে…………
আপনার সেই রুপের বাহার দিয়ে করা পাপগুলো কি মুছে যাবে….??
নাকি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল দ্বারা আপনার,আমার লিখিত গুনাহগুলো আপনি, আমি যেভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে রেকর্ড ডিলিট করে দি তার মতো করে আপনার আমলনামা থেকে ডিলিট করে দিবে……..?

না! এমনটা কখনো না। আপনি, আমি ভেবে থাকলেও ভুল করবো! কারণ আপনার নামে আপনার বালামে যা লিখা হয়েছে, তা কখনো মুছার বা ডিলিট হওয়ার নয়।আপনি যেমন আমল করেছেন, তেমন ফল পাবেন। এতে আপনার আমার কোন সন্দেহ থাকলেও কিছু করার নাই। আজ না হয় কাল আপনি ঠিকই এর ফল ভোগ করে যাবেন!
আপনি আমি প্রতিনিয়ত চিন্তায় মগ্ন থাকি কি ভাবে কেমনে ক্ষণস্থায়ী ছোট্ট জীবনকে সুন্দর সুখী করে তুলতে পারি। এতে অন্যের হকের টাকা, রিজিক কেড়ে নিতেও সংকোচ করি না!!আর সমাজের মাঝে আমরা বেঁচে থাকি মাথা উঁচু করে,বড়লোক হিসেবে,মুখোশ পড়ে থাকি ইমানদার হয়ে!তবে সত্যি কি আমরা বড়লোক?

সত্যি কি আপনার আমার মাথা উঁচু?
নাকি আপনি, আমি সত্যি ইমানদার?
না না, প্রকৃত পক্ষে আপনি আমি কেউ বড়লোক নয়! ইমানদার নয়!তাহলে আমার কি………..?
আপনি আমি যতই অভিনয় করি না কেন, আল্লাহর কাছে আপনি, আমি সব থেকে নিচক একটি প্রাণী।আপনার আমার কোন সম্মান বা মর্যদা কোনটি আল্লাহর দরবারে নাই। কিন্তু আপনি আমি তা জেনেও না জানার ভান ধরে সুখের পিঁছনে ছুটছি অন্যের হক কেড়ে নিচ্ছি!

আজকাল তো আপনি, আমি হঠাৎ হঠাৎ হতে না হতে কথায় কথায় অন্যের সাথে প্রেম-ভালেবাসায় আবদ্ধ হয়ে আল্লাহ রাসুলকে সাক্ষী রেখে কথা বা ওয়াদা দিয়ে বসে থাকি।মনে করি ক্ষনিকের প্রেম-ভালোবাসার মানুষটি সব থেকে আপন।
হুম, আপন হয়ে যায়।তাই কথাও দিয়ে ফেলি!
তবে আপনার, আমার দেওয়া কথা বা আল্লাহ-রাসুলকে সাক্ষী রেখে দেওয়া ওয়াদা কতটা রাখতে পারি?

না রাখতে পারি না!

আর রাখতে পারলেও ততদিন রাখতে পারি যতদিন আর একটা নতুন ভালো কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত!নতুন ভালো কাউকে পেলে আমরা আগের মানুষটাকে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে কারণ দেখিয়ে ঠিকই কিন্তু ছেড়ে বা ভুলে যায়!
এমনকি আল্লাহ রাসুলকে সাক্ষী রেখে কসম বা ওয়াদাগুলো ভুলে যায়!
আর আমরা নিজের মনকে বুঝানোর জন্য হালকা করার জন্য মনে মনে ভেবে নি, মনে মনে বলি, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিব আর আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিবে!
তবে সত্যি কি ক্ষমা করে দিবে?

আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন আল্লাহ যেমন সত্যি।ঠিক তেমনি তাঁর কুরআন-রাসুল সবই সত্যি! আপনি আমি এটাও স্পষ্ট করে জানি, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে পড়েছি বা জেনেছি যে, তিন প্রকার মানুষ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তার মধ্যে এক প্রকার মানুষ হলো,”যারা ওয়াদা ভঙ্গ করে আমানতের খিয়ানত করে কথা দিয়ে কথা না রাখে!”
তাহলে এইবার বলেন আল্লাহ আপনাকে,আমাকে আল্লাহ কতটুকু ক্ষমা করবেন!?

নাকি আপনি,আমি আল্লাহ কিছু ক্ষমা করবে না সব জেনে, বুঝেও ভুল পথে পা দিচ্ছি, জান্নাত বাদ দিয়ে জাহান্নাম কিনে নিচ্ছি?
হুম, ক্ষনিকের মোহের মধ্যে ডুবে হয়তো তাই কিনে নিচ্ছি!

আর আমরা তো অনেকে ইয়াং জেনারেশন তাই না?

সবই তো অনেক স্মার্ট, অনেক আধুনিক। সবই তো কমবেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করছি। আর তা কেমনে কোন উপায়ে ব্যবহার করছি সেটা একমাত্র আপনি এবং আল্লাহ জানে!

হয়তো কেউ না জানার মতো না দেখার মতো ৫/১০ মিনিটের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে, হাতের ছোট্ট স্মার্টফোনকে অনেক বাজে কাজে ব্যবহার না করছি। আর লিপ্ত হচ্ছি বিভিন্ন খারাপ কাজে।
আর মনে মনে ভেবে নিচ্ছি কি এমন হবে!
কি বা এমন করছি।
কারণ কেউ তো কিছু দেখেনি বা জানেনি!

তবে আমার প্রশ্ন,কেউ কি সত্যি দেখেনি?
নাকি কেউ সত্যি জানেনি?
হুম, সত্যি কেউ দেখেনি বা জানেনি।
তবে উনি যে, ঠিকই দেখেছেন এবং ঠিকই জেনেছেন। আর আপনার আমলনামায় তা লিপিবদ্ধও করে রেখেছেন।

আপনার স্মার্টফোনের হিস্টোরিতে যেমন আপনার ৫/১০ মিনিটের আবেগের বসে করা কাজগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে।ঠিক তেমনি আল্লাহ প্রেরিত রাসুল দ্বারাও আপনার ৫/১০ মিনিটের আবেগগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে।
তাহলে কি………….

হুম, তাহলে এটাই…………..
আপনি আমি যতই ভাবি না কেন, কিছু হবে না, কেউ দেখছে না।তাহলে চরম ভুল করবেন!
আর যদি ভাবেন তার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে কোন শাস্তি পাবেন না। তাহলে আরো চরম ভুল করবেন প্রিয় মানব।

কারণ, প্রিয় মানব আপনি কি জানেন,আপনার,আমার দুনিয়াবি কর্মকান্ডগুলো কেন লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে?
হয়তো জানেন নিশ্চয়ই।
কারণ এই লিপিবদ্ধ কর্মকান্ডের উপর ভিত্তি করে আপনাকে জান্নাত-জাহান্নাম এবং দুনিয়াতে শাস্তি দেওয়া হবে। আর মনে রাখবেন,আল্লাহর শাস্তি সবার জন্য সমান। যে শাস্তিতে কেউ রেহাই পাবো না!

আপনি, আমি তো অবশ্যই বিশ্বাস করি আল্লাহর কুরআন-হাদিস তো সত্যি! তার মানে কি……….?
কুরআন, হাদিসে বর্ণিত পাপের শাস্তিগুলোও সত্যি।শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা। আপনার আমার খারাপ কাজের শাস্তি কিন্তু আমরা ঠিকই পাবো।হয়তো ১ দিন পর না হয় ১ বছর পর। কারণ সবগুলো তো দিনে দিনে হয়ে যায় না। আর আল্লাহ হলেন, রহমতের সাগর। তাই উনি আপনাকে আমাকে অনেক সুযোগ দিবেন। তার জন্য হয়তো শাস্তি দিতে একটু সময়ও নিবেন। তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি আমি শাস্তি ঠিকই পাবো।আমরা কেউ আমরা আমাদের কর্মকান্ডের ফলাফলের বাইরে নয়।

হুম, তাই বলি জীবন আপনি আমি যেমন সহজ ভাবি তেমন কিন্তু মোটেও সহজ নয়। আমরা হাজার কোটি মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে পারি কিন্তু আল্লাহর চোখকে নয়! আপনার আমার মনের ভেতরের চিন্তা-ভাবনা হয়তো কেউ জানে না। জানার কথাও না। কারণ এই পৃথিবীতে মনের চিন্তা-ভাবনা জানার মতো এমন কোন যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিস্কার আদোও করতে পারেনি! হয়তো পারবেও না।
তবে আল্লাহর কাছে আপনার মনের চিন্তা বা মনের অবস্থা জানা কোন ব্যাপার না।সুতরাং প্রিয় মানব আপনি, আমি শত কোটি মানুষকে ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহ কখনো ফাঁকি দিতে পারবেন না।আপনার আমার পাপের শাস্তি একদিন না হয় একদিন ঠিকই হবে।

তাই বলি কি, মানব জীবন আসলে আপনি আমি যেমন ভাবছি তেমন টোটালি নয়! জীবন এতো সহজ নয়! জীবন অনেক কঠিন! এমন কি জীবনে করে যাওয়া কাজকর্মের ফলাফল বা পরিণতিও অনেক কঠিন! আজ দিন আপনার অনুকূলে তবে কাল দিন কিন্তু আপনার অনুকূলে নাও থাকতে পারে!

মনে রাখবেন, এই দিন, দিন নয় আরো অনেক দিন আছে! মনে রাখবেন সব কিছুর জোয়ার-ভাটা আছে। আপনার, আমার জীবনের জোয়ার-ভাটা আছে।জোয়ার আসলে ভুলে যাবেন না যে, এর ৬.১৫ মিনিট পর কিন্তু আবার ভাটা আসবে! এটাও মনে রাখবেন প্রিয় মানব, ১৫ দিন অমবস্যার পর ঠিকই কিন্তু আবার ১৫ দিন ঝলমলে পূর্ণিমা হয়।মনে রাখবেন টেকনাফের দক্ষিণেও দক্ষিণ আছে।বেলা ফুরাবার আগে সময় থাকতে জেনে-বুঝে করা ভুলগুলো করা থেকে দূরে থাকি।

“মানব জীবন কি সত্যি এমন??”

জানেন আজকে আমি নিজে নিজে অনেক চিন্তিত!হয়তো আমার মতো অনেকে এই চিন্তা অনেক আগপ করেছেন। হয়তো তা বুঝেও গিয়েছেন।কিন্তু তবুও না জানার, না বুঝার মতো প্রতিনিয়ত ভান করে যাচ্ছেন!

আমি এতক্ষণ বলছিলাম জীবনটি কেমন এই চিন্তার কথা? আসলে আপনি আমি যেমন ভাবছি জীবনটা কিন্তু আসলে তেমন নয়। জীবন কখনো টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচের মতো আবার কখনো টেস্ট ম্যাচের মতো!

সত্যি জীবন কখনো রেললাইনের মতো সমান্তরাল আবার কখনো সাপ লুডু খেলার পিঁছনের সাপের মতো আঁকাবাকা!
আজকে আপনি, আমি সবাই শিশু কিন্তু কাল আমরা সবাই বৃদ্ধ হবো।

মনে রাখবেন, একদিন আমাদের মতো আমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদী সবাই কিন্তু শিশু ছিলেন।কিন্তু দেখেন আজ তাঁরা সবাই বৃদ্ধ!
তাঁদের চুল পেকেছে,আপনার আমার মতো সেই সুন্দর রুপের চামড়াও ঝুলে গিয়েছে!

হুম,হুম একদিন আপনার,আমার সবারও চুল পেকে যাবে,আমরাও বুড়ো হয়ে যাবো।এখন অহংকার করার মতো রুপের চামড়াও ঝুলে যাবে! তবে….
আপনার সেই রুপের বাহার দিয়ে করা পাপগুলো কি মুছে যাবে….?

নাকি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল দ্বারা আপনার,আমার লিখিত গুনাহগুলো আপনি, আমি যেভাবে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে রেকর্ড ডিলিট করে দি তার মতো করে আপনার আমলনামা থেকে ডিলিট করে দিবে…..?

না!এমনটা কখনো না। আপনি,আমি ভেবে থাকলেও ভুল করবো! কারণ আপনার নামে আপনার বালামে যা লিখা হয়েছে, তা কখনো মুছার বা ডিলিট হওয়ার নয়। আপনি যেমন আমল করেছেন,তেমন ফল পাবেন। এতে আপনার আমার কোন সন্দেহ থাকলেও কিছু করার নাই। আজ না হয় কাল আপনি ঠিকই এর ফল ভোগ করে যাবেন!
আপনি আমি প্রতিনিয়ত চিন্তায় মগ্ন থাকি কি ভাবে কেমনে ক্ষণস্থায়ী ছোট্ট জীবনকে সুন্দর সুখী করে তুলতে পারি। এতে অন্যের হকের টাকা,রিজিক কেড়ে নিতেও সংকোচ করি না! আর সমাজের মাঝে আমরা বেঁচে থাকি মাথা উঁচু করে, বড়লোক হিসেবে,মুখোশ পড়ে থাকি ইমানদার হয়ে!তবে সত্যি কি আমরা বড়লোক?
সত্যি কি আপনার আমার মাথা উঁচু?
নাকি আপনি, আমি সত্যি ইমানদার?
না না, প্রকৃত পক্ষে আপনি আমি কেউ বড়লোক নয়! ইমানদার নয়!তাহলে আমার কি………..?

আপনি আমি যতই অভিনয় করি না কেন,আল্লাহর কাছে আপনি, আমি সব থেকে নিচক একটি প্রাণী।আপনার আমার কোন সম্মান বা মর্যদা কোনটি আল্লাহর দরবারে নাই।কিন্তু আপনি আমি তা জেনেও না জানার ভান ধরে সুখের পিঁছনে ছুটছি অন্যের হক কেড়ে নিচ্ছি!

আজকাল তো আপনি, আমি হঠাৎ হঠাৎ হতে না হতে কথায় কথায় অন্যের সাথে প্রেম-ভালেবাসায় আবদ্ধ হয়ে আল্লাহ রাসুলকে সাক্ষী রেখে কথা বা ওয়াদা দিয়ে বসে থাকি। মনে করি ক্ষনিকের প্রেম-ভালোবাসার মানুষটি সব থেকে আপন।
হুম, আপন হয়ে যায়। তাই কথাও দিয়ে ফেলি!
তবে আপনার, আমার দেওয়া কথা বা আল্লাহ-রাসুলকে সাক্ষী রেখে দেওয়া ওয়াদা কতটা রাখতে পারি?
না রাখতে পারি না!

আর রাখতে পারলেও ততদিন রাখতে পারি যতদিন আর একটা নতুন ভালো কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত!নতুন ভালো কাউকে পেলে আমরা আগের মানুষটাকে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে কারণ দেখিয়ে ঠিকই কিন্তু ছেড়ে বা ভুলে যায়!
এমনকি আল্লাহ রাসুলকে সাক্ষী রেখে কসম বা ওয়াদাগুলো ভুলে যায়!
আর আমরা নিজের মনকে বুঝানোর জন্য হালকা করার জন্য মনে মনে ভেবে নি,মনে মনে বলি,আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিব আর আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিবে!
তবে সত্যি কি ক্ষমা করে দিবে??

আপনি তো নিশ্চয়ই জানেন আল্লাহ যেমন সত্যি।ঠিক তেমনি তাঁর কুরআন-রাসুল সবই সত্যি! আপনি আমি এটাও স্পষ্ট করে জানি, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে পড়েছি বা জেনেছি যে, তিন প্রকার মানুষ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।তার মধ্যে এক প্রকার মানুষ হলো,,”যারা ওয়াদা ভঙ্গ করে আমানতের খিয়ানত করে কথা দিয়ে কথা না রাখে !”
তাহলে এইবার বলেন আল্লাহ আপনাকে,আমাকে আল্লাহ কতটুকু ক্ষমা করবেন?

নাকি আপনি, আমি আল্লাহ কিছু ক্ষমা করবে না সব জেনে, বুঝেও ভুল পথে পা দিচ্ছি,জান্নাত বাদ দিয়ে জাহান্নাম কিনে নিচ্ছি?
হুম, ক্ষনিকের মোহের মধ্যে ডুবে হয়তো তাই কিনে নিচ্ছি!

হুম,আর আমরা তো অনেকে ইয়াং জেনারেশন তাই না?

সবই তো অনেক স্মার্ট,অনেক আধুনিক।সবই তো কমবেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করছি।আর তা কেমনে কোন উপায়ে ব্যবহার করছি সেটা একমাত্র আপনি এবং আল্লাহ জানে!

হয়তো কেউ না জানার মতো না দেখার মতো ৫/১০ মিনিটের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে,হাতের ছোট্ট স্মার্টফোনকে অনেক বাজে কাজে ব্যবহার না করছি।আর লিপ্ত হচ্ছি বিভিন্ন খারাপ কাজে।
আর মনে মনে ভেবে নিচ্ছি কি এমন হবে!
কি বা এমন করছি।
কারণ কেউ তো কিছু দেখেনি বা জানেনি!!

তবে আমার প্রশ্ন,কেউ কি সত্যি দেখেনি?
নাকি কেউ সত্যি জানেনি?
হুম, সত্যি কেউ দেখেনি বা জানেনি।
তবে উনি যে,ঠিকই দেখেছেন এবং ঠিকই জেনেছেন।আর আপনার আমলনামায় তা লিপিবদ্ধও করে রেখেছেন।

আপনার স্মার্টফোনের হিস্টোরিতে যেমন আপনার ৫/১০ মিনিটের আবেগের বসে করা কাজগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে।ঠিক তেমনি আল্লাহ প্রেরিত রাসুল দ্বারাও আপনার ৫/১০ মিনিটের আবেগগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে।

তাহলে কি………….
হুম,তাহলে এটাই…………..
আপনি আমি যতই ভাবি না কেন,কিছু হবে না,কেউ দেখছে না।তাহলে চরম ভুল করবেন!
আর যদি ভাবেন তার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে কোন শাস্তি পাবেন না।তাহলে আরো চরম ভুল করবেন প্রিয় মানব।

কারণ, প্রিয় মানব আপনি কি জানেন,আপনার,আমার দুনিয়াবি কর্মকান্ডগুলো কেন লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে?
হয়তো জানেন নিশ্চয়ই।

কারণ এই লিপিবদ্ধ কর্মকান্ডের উপর ভিত্তি করে আপনাকে জান্নাত-জাহান্নাম এবং দুনিয়াতে শাস্তি দেওয়া হবে। আর মনে রাখবেন,আল্লাহর শাস্তি সবার জন্য সমান। যে শাস্তিতে কেউ রেহাই পাবো না!

আপনি,আমি তো অবশ্যই বিশ্বাস করি আল্লাহর কুরআন-হাদিস তো সত্যি!!তার মানে কি……….?
কুরআন, হাদিসে বর্ণিত পাপের শাস্তিগুলোও সত্যি।শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা। আপনার আমার খারাপ কাজের শাস্তি কিন্তু আমরা ঠিকই পাবো।হয়তো ১ দিন পর না হয় ১ বছর পর।কারণ সবগুলো তো দিনে দিনে হয়ে যায় না। আর আল্লাহ হলেন,রহমতের সাগর।তাই উনি আপনাকে আমাকে অনেক সুযোগ দিবেন।তার জন্য হয়তো শাস্তি দিতে একটু সময়ও নিবেন।তবে নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি আমি শাস্তি ঠিকই পাবো। আমরা কেউ আমরা আমাদের কর্মকান্ডের ফলাফলের বাইরে নয়।

তাই বলি জীবন আপনি আমি যেমন সহজ ভাবি তেমন কিন্তু মোটেও সহজ নয়।আমরা হাজার কোটি মানুষের চোখকে ফাঁকি দিতে পারি কিন্তু আল্লাহর চোখকে নয়! আপনার আমার মনের ভেতরের চিন্তা-ভাবনা হয়তো কেউ জানে না।জানার কথাও না।কারণ এই পৃথিবীতে মনের চিন্তা-ভাবনা জানার মতো এমন কোন যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিস্কার আদোও করতে পারেনি!হয়তো পারবেও না।
তবে আল্লাহর কাছে আপনার মনের চিন্তা বা মনের অবস্থা জানা কোন ব্যাপার না।সুতরাং প্রিয় মানব আপনি,আমি শত কোটি মানুষকে ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহ কখনো ফাঁকি দিতে পারবেন না।আপনার আমার পাপের শাস্তি একদিন না হয় একদিন ঠিকই হবে।

তাই বলি কি, মানব জীবন আসলে আপনি আমি যেমন ভাবছি তেমন টোটালি নয়!!জীবন এতো সহজ নয়!জীবন অনেক কঠিন!!এমন কি জীবনে করে যাওয়া কাজকর্মের ফলাফল বা পরিণতিও অনেক কঠিন! আজ দিন আপনার অনুকূলে তবে কাল দিন কিন্তু আপনার অনুকূলে নাও থাকতে পারে!

মনে রাখবেন, এই দিন, দিন নয় আরো অনেক দিন আছে! মনে রাখবেন সব কিছুর জোয়ার-ভাটা আছে। আপনার, আমার জীবনের জোয়ার-ভাটা আছে।জোয়ার আসলে ভুলে যাবেন না যে,এর ৬.১৫ মিনিট পর কিন্তু আবার ভাটা আসবে! এটাও মনে রাখবেন প্রিয় মানব, ১৫ দিন অমবস্যার পর ঠিকই কিন্তু আবার ১৫ দিন ঝলমলে পূর্ণিমা হয়।মনে রাখবেন টেকনাফের দক্ষিণেও দক্ষিণ আছে। বেলা ফুরাবার আগে সময় থাকতে জেনে-বুঝে করা ভুলগুলো করা থেকে দূরে থাকি।

 

লেখক : তরুণ কবি ও সাহিত্যিক

মরিচ্যা, পাতাবাড়ী, উখিয়া, কক্সবাজার।