টেকনাফ

মিয়ানমার থেকে আসছে কুরবানির গরু

শাহ্ মোহাম্মদ রুবেল : দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো পশু কুরবানি। দেশে মূলত কুরবানি করা হয় গরু, ছাগল ও মহিষ। তবে এবারের ঈদে কুরবানির পশুর কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি করছে পশু আমদানিকারকরা।

কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে ফের গবাদিপশু আসা শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে মিয়ানমার থেকে ১৬টি ট্রলারে করে মোট ২ হাজার ১২৯ গবাদিপশু এসেছে বলে জানায় টেকনাফ শুল্ক স্টেশন।

জুলাই মাসে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৯৬৬টি। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭০টি গরু এবং ২ হাজার ৪৯৬ মহিষ। এতে রাজস্ব আদায় হয় ৬ লাখ ২২ হাজার টাকা।

জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং শাহপরীরদ্বীপ করিডোরটি শুল্ক স্টেশনের আওতাধীন একটি পয়েন্ট। মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধ করতে ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীরদ্বীপে বিজিবির চৌকি সংলগ্ন এলাকায় এই করিডোরটি চালু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আমদানি করা গবাদিপশু প্রথমে বিজিবির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে রাজস্ব জমা এবং স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের অনুমতি নিয়ে গবাদিপশু করিডোর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারও ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়।

পশু আমদানিকারকরা বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ পশু আমদানি বন্ধ ছিল। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয় গবাদিপশু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া কিছুটা কেটে যাওয়ার পর ফের গবাদিপশু আমদানি শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বর্তমানে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করতে পারে। এভাবে আমদানি অব্যাহত থাকলে কুরবানির ঈদে পশুর সঙ্কট পড়বে না বলে দাবি আমদানিকারকদের।

কিন্তু ব্যবসায়ীরা এই প্রতিবেদকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একমাত্র করিডোরটি শাহপরীরদ্বীপে হওয়ায় তাদের যাতায়াত সমস্যার হচ্ছে। কারণ শাহপরীরদ্বীপ থেকে টেকনাফ যাওয়ার প্রধান সড়কটি গত ৭ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন। ফলে অতিরিক্ত গাড়িভাড়া দিয়ে গবাদিপশু বহন করতে হচ্ছে।

টেকনাফের শুল্ক কর্মকর্তা ময়েজ উদ্দীন বলেন, গবাদিপশু আমদানি এবং কেনাবেচায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।